ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা হোমনায় পাশাপাশি ৪ কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ১০ বার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন বোনের লাশ অবশেষে কুমিল্লার হোমনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। এই ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া।
জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের লাশ হোমনায় নিয়ে আসে। লাশগুলো বাড়িতে এলে পুরো গ্রামবাসীর ও তাদের চাচা মামারা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ, তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভবনের পাঁচ তলার ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও সিফা আক্তার (১০) মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মেঝো বোন ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘাতক অন্তরও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হাসপাতালে মারা গেছে।
দীর্ঘ ৩০ বছর রায়পুরে থেকেও শেষ পর্যন্ত নিজ ভূমিতেই পাশাপাশি চার কবরে ঠাঁই হলো এক পরিবারের চার সদস্যের।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা হোমনায় পাশাপাশি ৪ কবরে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন বোনের লাশ অবশেষে কুমিল্লার হোমনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। এই ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া।
জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের লাশ হোমনায় নিয়ে আসে। লাশগুলো বাড়িতে এলে পুরো গ্রামবাসীর ও তাদের চাচা মামারা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ, তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভবনের পাঁচ তলার ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও সিফা আক্তার (১০) মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মেঝো বোন ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘাতক অন্তরও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হাসপাতালে মারা গেছে।
দীর্ঘ ৩০ বছর রায়পুরে থেকেও শেষ পর্যন্ত নিজ ভূমিতেই পাশাপাশি চার কবরে ঠাঁই হলো এক পরিবারের চার সদস্যের।