ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

সায়নীকে একটু রেহাই দিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৮ বার

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এখন অনেকটা থিতিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর যাঁরা দলত্যাগী বিদ্রোহীদের ধুয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের একটু বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া দরকার। যে বাঙালি এত দিন ‘বিদ্রোহী’ হওয়ার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবাসত, আজ তারাই তৃণমূলের দলত্যাগী নেতাদের বিশ্বাসঘাতক বা পাল্টু বলে গালমন্দ করছে। কিন্তু আবেগের চশমা সরিয়ে একটু ভাবুন তো, আসল পাল্টু বা দলবদলকারী কারা? রাজনীতিবিদেরা, নাকি খোদ ভোটাররা?

যে তৃণমূলের দলত্যাগীরা একসময় পান্নালাল ভট্টাচার্যের শ্যামাসংগীতের ভক্তদের মতো ভক্তিভরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণগান করতেন, যাঁরা বিজেপিকে বাংলাবিরোধী বা গণতন্ত্রবিরোধী বলতে গিয়ে বাংলা অভিধানের সব নেতিবাচক শব্দ শেষ করে ফেলতেন—তাঁরাই আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামক এক স্বল্পপরিচিত দলে যোগ দিয়েছেন। মাসখানেক আগেও যে দলের নাম কেউ শোনেনি, আজ তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার ঝড়।

বিশেষ করে যাদবপুরের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী ও যুব তৃণমূলের সাবেক সভাপতি সায়নী ঘোষের পুরোনো ভিডিওগুলো এখন ভাইরাল। যেখানে তিনি বিজেপিকে তুলোধুনা করছেন; অথচ ২০২৬ সালের জুনে এসে তিনিই অন্য ২০ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূল ভেঙে নতুন দলে যোগ দিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুমের আড্ডায় প্রশ্ন উঠছে—সায়নী বা শতাব্দী রায়দের কি কোনো আদর্শ নেই? কোনো লজ্জা নেই?

কিন্তু এই প্রশ্ন তোলার আগে আমাদের একটু থামতে হবে। চলুন, একটা উল্টো প্রশ্ন করি—যাদবপুরের ভোটারদের আনুগত্যের কী অবস্থা?

একটু পেছনের পরিসংখ্যানে চোখ বোলানো যাক। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়নী ঘোষ যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৮ হাজার ২০১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন মোট ভোটের ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যাদবপুরের সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে ছয়টিতেই তৃণমূল বিপুল ব্যবধানে লিড পেয়েছিল। সেটা কেবল জয় ছিল না, ছিল একপ্রকার রাজ্যাভিষেক।

এবার আসা যাক ২০২৬ সালের এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে। একই কেন্দ্র, একই বুথ, একই ভোটার। কিন্তু ফলাফল? একেবারে উল্টো কাহিনি!

যাদবপুর বিধানসভায় তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ককে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সর্বরী মুখোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূলকে ধুলা খাইয়ে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। টালিগঞ্জে খোদ তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারী।

ব্যতিক্রম কেবল বারুইপুর পশ্চিম, যেখানে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোমতে তৃণমূলের আসনটি ধরে রাখতে পেরেছেন। আর ভাঙড় তো আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকীর দুর্গ, সেখানে সমীকরণ আলাদা।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, যে ভোটাররা দুই বছর আগে সায়নী ঘোষকে দুই হাত উজাড় করে ভোট দিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন, সেই একই ভোটাররা দুই বছরের মাথায় সায়নী যে দলকে দিনরাত গালমন্দ করতেন, সেই বিজেপিকে নিজেদের বিধানসভায় জয়ী করে আনলেন!

তাহলে আসল দলবদলকরী কে

গণতন্ত্রে ভোটাররা যখন প্রতি পাঁচ বছর বা দুই বছর পরপর মত বদল করেন, তখন আমরা তাকে বলি জনগণের রায়, ভোটারদের ক্ষোভ কিংবা ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট। বলা হয়—জনগণ কখনো ভুল করে না।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা এবার চাকরি হারানো, একের পর এক কেলেঙ্কারি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নিজেদের আদর্শ ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে একপ্রকার নিলামে তুলে দিয়েছেন। তাঁরা স্রেফ শান্তি, রাস্তাঘাট আর কর্মসংস্থানের আশায় পদ্মফুলে বোতাম টিপেছেন। এটা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়, ভোটারদের দেওয়া ইভিএমের বাস্তব পরিসংখ্যান।

তাহলে ভোটাররা যদি রাতারাতি নিজেদের মন পরিবর্তন করতে পারেন এবং সেটা যদি হয় তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’, তবে সেই ভোটারদের মনের ভাষা পড়ে যে রাজনীতিবিদ নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাঁকে কেন সুবিধাবাদী বা বিশ্বাসঘাতক বলা হবে? ভোটারদের আদর্শ না থাকলে সেটা গণতন্ত্র, আর রাজনেতাদের আদর্শ না থাকলে সেটা বিশ্বাসঘাতকতা? এই দ্বিমুখী নীতি কেন?

সায়নীকে একটু রেহাই দিন!

রাজনীতিবিদদের দলবদল ঠেকাতে দলত্যাগবিরোধী আইন আছে। তাই তাঁরা খুচরা দলবদল না করে, আইনি জটিলতা এড়াতে একেবারে হোলসেল বা একসঙ্গে ২০ জন মিলে দল ভেঙেছেন। কিন্তু ভোটারদের দলবদল ঠেকানোর তো কোনো আইন নেই! ভোটাররা আঙুলে কালির দাগ লাগিয়ে বুক ফুলিয়ে প্রতি নির্বাচনে দলবদল করেন, আর সায়নী ঘোষেরা দলবদল করলে তা নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে গসিপ হয়।

সংসদ সদস্য হিসেবে সায়নী ঘোষের মূল কাজ ছিল যাদবপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। যাদবপুরের মানুষ তাঁদের মত পুরোপুরি বদলে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, এখন সায়নী যদি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান না বদলান, তবে তিনি জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি থাকেন কীভাবে? অনেকে বলতে পারেন, তাঁর পদত্যাগ করে নতুন টিকিটে নির্বাচন করা উচিত ছিল। কিন্তু ভারতের মতো দেশে এই অর্থনৈতিক সংকটের বাজারে একটি আসনের উপনির্বাচনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করার চেয়ে, সায়নী যদি ভোটারদের পরিবর্তিত ইচ্ছার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন—তাতে দোষের কী?

তাই মমতাদিকে ঘোস্টিং (হঠাৎ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন) করার জন্য সায়নী ঘোষ বা শতাব্দী রায়দের দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ যদি দিতেই হয়, তবে যাদবপুরের তথা বাংলার সেই ভোটারদের চঞ্চল আঙুলকে দিন, যাঁরা নিজেরাই দুই বছর আগে এক আর দুই বছর পরে আরেক বোতামে চাপ দিয়েছেন। সায়নী ঘোষেরা তো কেবল ভোটারদের দেখানো পথেই হেঁটেছেন!

ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত কমলেশ সিংয়ের রম্য লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন জগৎপতি বর্মা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

সায়নীকে একটু রেহাই দিন

আপডেট টাইম : ১২:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এখন অনেকটা থিতিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর যাঁরা দলত্যাগী বিদ্রোহীদের ধুয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের একটু বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া দরকার। যে বাঙালি এত দিন ‘বিদ্রোহী’ হওয়ার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবাসত, আজ তারাই তৃণমূলের দলত্যাগী নেতাদের বিশ্বাসঘাতক বা পাল্টু বলে গালমন্দ করছে। কিন্তু আবেগের চশমা সরিয়ে একটু ভাবুন তো, আসল পাল্টু বা দলবদলকারী কারা? রাজনীতিবিদেরা, নাকি খোদ ভোটাররা?

যে তৃণমূলের দলত্যাগীরা একসময় পান্নালাল ভট্টাচার্যের শ্যামাসংগীতের ভক্তদের মতো ভক্তিভরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণগান করতেন, যাঁরা বিজেপিকে বাংলাবিরোধী বা গণতন্ত্রবিরোধী বলতে গিয়ে বাংলা অভিধানের সব নেতিবাচক শব্দ শেষ করে ফেলতেন—তাঁরাই আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামক এক স্বল্পপরিচিত দলে যোগ দিয়েছেন। মাসখানেক আগেও যে দলের নাম কেউ শোনেনি, আজ তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার ঝড়।

বিশেষ করে যাদবপুরের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী ও যুব তৃণমূলের সাবেক সভাপতি সায়নী ঘোষের পুরোনো ভিডিওগুলো এখন ভাইরাল। যেখানে তিনি বিজেপিকে তুলোধুনা করছেন; অথচ ২০২৬ সালের জুনে এসে তিনিই অন্য ২০ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূল ভেঙে নতুন দলে যোগ দিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুমের আড্ডায় প্রশ্ন উঠছে—সায়নী বা শতাব্দী রায়দের কি কোনো আদর্শ নেই? কোনো লজ্জা নেই?

কিন্তু এই প্রশ্ন তোলার আগে আমাদের একটু থামতে হবে। চলুন, একটা উল্টো প্রশ্ন করি—যাদবপুরের ভোটারদের আনুগত্যের কী অবস্থা?

একটু পেছনের পরিসংখ্যানে চোখ বোলানো যাক। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়নী ঘোষ যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৮ হাজার ২০১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন মোট ভোটের ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যাদবপুরের সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে ছয়টিতেই তৃণমূল বিপুল ব্যবধানে লিড পেয়েছিল। সেটা কেবল জয় ছিল না, ছিল একপ্রকার রাজ্যাভিষেক।

এবার আসা যাক ২০২৬ সালের এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে। একই কেন্দ্র, একই বুথ, একই ভোটার। কিন্তু ফলাফল? একেবারে উল্টো কাহিনি!

যাদবপুর বিধানসভায় তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ককে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সর্বরী মুখোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূলকে ধুলা খাইয়ে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। টালিগঞ্জে খোদ তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারী।

ব্যতিক্রম কেবল বারুইপুর পশ্চিম, যেখানে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোমতে তৃণমূলের আসনটি ধরে রাখতে পেরেছেন। আর ভাঙড় তো আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকীর দুর্গ, সেখানে সমীকরণ আলাদা।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, যে ভোটাররা দুই বছর আগে সায়নী ঘোষকে দুই হাত উজাড় করে ভোট দিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন, সেই একই ভোটাররা দুই বছরের মাথায় সায়নী যে দলকে দিনরাত গালমন্দ করতেন, সেই বিজেপিকে নিজেদের বিধানসভায় জয়ী করে আনলেন!

তাহলে আসল দলবদলকরী কে

গণতন্ত্রে ভোটাররা যখন প্রতি পাঁচ বছর বা দুই বছর পরপর মত বদল করেন, তখন আমরা তাকে বলি জনগণের রায়, ভোটারদের ক্ষোভ কিংবা ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট। বলা হয়—জনগণ কখনো ভুল করে না।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা এবার চাকরি হারানো, একের পর এক কেলেঙ্কারি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নিজেদের আদর্শ ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে একপ্রকার নিলামে তুলে দিয়েছেন। তাঁরা স্রেফ শান্তি, রাস্তাঘাট আর কর্মসংস্থানের আশায় পদ্মফুলে বোতাম টিপেছেন। এটা কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়, ভোটারদের দেওয়া ইভিএমের বাস্তব পরিসংখ্যান।

তাহলে ভোটাররা যদি রাতারাতি নিজেদের মন পরিবর্তন করতে পারেন এবং সেটা যদি হয় তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’, তবে সেই ভোটারদের মনের ভাষা পড়ে যে রাজনীতিবিদ নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাঁকে কেন সুবিধাবাদী বা বিশ্বাসঘাতক বলা হবে? ভোটারদের আদর্শ না থাকলে সেটা গণতন্ত্র, আর রাজনেতাদের আদর্শ না থাকলে সেটা বিশ্বাসঘাতকতা? এই দ্বিমুখী নীতি কেন?

সায়নীকে একটু রেহাই দিন!

রাজনীতিবিদদের দলবদল ঠেকাতে দলত্যাগবিরোধী আইন আছে। তাই তাঁরা খুচরা দলবদল না করে, আইনি জটিলতা এড়াতে একেবারে হোলসেল বা একসঙ্গে ২০ জন মিলে দল ভেঙেছেন। কিন্তু ভোটারদের দলবদল ঠেকানোর তো কোনো আইন নেই! ভোটাররা আঙুলে কালির দাগ লাগিয়ে বুক ফুলিয়ে প্রতি নির্বাচনে দলবদল করেন, আর সায়নী ঘোষেরা দলবদল করলে তা নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে গসিপ হয়।

সংসদ সদস্য হিসেবে সায়নী ঘোষের মূল কাজ ছিল যাদবপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। যাদবপুরের মানুষ তাঁদের মত পুরোপুরি বদলে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, এখন সায়নী যদি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান না বদলান, তবে তিনি জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি থাকেন কীভাবে? অনেকে বলতে পারেন, তাঁর পদত্যাগ করে নতুন টিকিটে নির্বাচন করা উচিত ছিল। কিন্তু ভারতের মতো দেশে এই অর্থনৈতিক সংকটের বাজারে একটি আসনের উপনির্বাচনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করার চেয়ে, সায়নী যদি ভোটারদের পরিবর্তিত ইচ্ছার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন—তাতে দোষের কী?

তাই মমতাদিকে ঘোস্টিং (হঠাৎ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন) করার জন্য সায়নী ঘোষ বা শতাব্দী রায়দের দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ যদি দিতেই হয়, তবে যাদবপুরের তথা বাংলার সেই ভোটারদের চঞ্চল আঙুলকে দিন, যাঁরা নিজেরাই দুই বছর আগে এক আর দুই বছর পরে আরেক বোতামে চাপ দিয়েছেন। সায়নী ঘোষেরা তো কেবল ভোটারদের দেখানো পথেই হেঁটেছেন!

ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত কমলেশ সিংয়ের রম্য লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন জগৎপতি বর্মা