ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সংসদে কোরআনের আয়াত নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের তুমুল বিতর্ক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১ বার

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা ও ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরপর স্পিকারের বারবার হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সিনিয়র সংসদ সদস্যদের দফায় দফায় বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। একপর্যায়ে স্পিকার বিতর্কিত অংশ পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দেন।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং অন্যায় কৌশল অবলম্বনকারীদের পরিণতি শুভ হয় না। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অস্বীকার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্য শেষে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তব্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ কোরআনের আয়াত কোট করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আসলে ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, কোরআনের আয়াত এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, উনাদের প্রশংসা করলে উনারা আরও বাড়িয়ে দেবেন আর না করলে পিটাবেন—এ ধরনের ব্যাখ্যা পবিত্র কোরআনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন।

তিনি এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ আন্দোলনের সময়কার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মোমেন বলেন, সে সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগসংবলিত একটি চিঠি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি সূরা তাওবার একটি আয়াত সংযোজনের পরামর্শ দেন এবং সতর্ক করেন যে, আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা উপহাসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টিতে আনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে স্পিকার ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য এবং তিনি কোরআন-হাদিস নিয়ে কোনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়া হবে। স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ এবং এখানে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

এরপর বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি কোনো দীর্ঘ বিতর্কে যেতে চান না, তবে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোরআনের ভুল ব্যাখ্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে দেশের মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা এবং মাদরাসার ছাত্র। তিনি সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশেই বলেছেন যে, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি তা বাড়িয়ে দেন, আর শুকরিয়া আদায় না করলে আজাব আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা বা এটা নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা মোটেও ঠিক হয়নি। ৯২ শতাংশ মুসলমানের এ দেশে কোনো সংসদ সদস্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের অবমাননা করেন, তবে সরকার তার নিন্দা করবে। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার আবারও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, সংসদে অধিকাংশ সদস্যই মুসলমান এবং দেশের ৯২ শতাংশ মানুষও এই ধর্মের অনুসারী। তাই সংসদকে বিরূপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতিতে জুনিয়র সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে স্পিকারের এ অনুরোধের মধ্যেই বিরোধীদলের অধ্যাপক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপটকে আড়াল করে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মুজিবুর রহমান ব্যাখ্যা দেন যে, আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ায় অগণিত নেয়ামত রেখেছেন যা গণনা করে শেষ করা যাবে না এবং মানুষের উচিত এ শক্তি দিয়ে আল্লাহর বিধিনিষেধের পক্ষে কথা বলা।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেট বক্তব্য খুব ভালো হয়েছে দাবি করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধীদল যদি এ বাজেটের প্রশংসা না করে তবে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব আসবে। এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মোটেও সঠিক নয় দাবি করে মুজিবুর রহমান প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে স্পিকার অন্য সদস্যদের শান্ত হতে বলেন এবং জানান যে ট্রেজারি বেঞ্চেও অনেক মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম রয়েছেন। নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করার শর্তে তিনি সরকারিদলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে কথা বলার সুযোগ দেন। কামরুজ্জামান স্পিকারের কাছে ওয়াদা করে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে তার বক্তব্য শুরু করেন।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াতের মধ্যেই রয়েছে যে আমরা শুনলাম এবং তা পালন করলাম। তিনি আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আহ্বান জানান, যা সহিহ বা সঠিক, আমরা যেন সবাই সেটির ওপর আমল করি এবং এই আমলের মধ্যদিয়েই যেন সবার পরিশুদ্ধতা আসে।

সবশেষে চলমান এ বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংসদে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সব সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যখন সংসদের সিনিয়র লিডাররা কথা বলবেন, তখন অন্য সদস্যদের স্বাভাবিকভাবেই আসন গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমরা সবাই যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং অভিযুক্ত সদস্য মাহফুজুল্লাহ সাহেব নিজে একজন আলেম, তাই তিনি কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেননি। বরং সবার আমলকে আরও সহিহ এবং শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত হৃদয় খুলে তিনি কথাটি বলেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

সংসদে কোরআনের আয়াত নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের তুমুল বিতর্ক

আপডেট টাইম : ১০:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা ও ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরপর স্পিকারের বারবার হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সিনিয়র সংসদ সদস্যদের দফায় দফায় বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। একপর্যায়ে স্পিকার বিতর্কিত অংশ পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দেন।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং অন্যায় কৌশল অবলম্বনকারীদের পরিণতি শুভ হয় না। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অস্বীকার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্য শেষে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তব্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ কোরআনের আয়াত কোট করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আসলে ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, কোরআনের আয়াত এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, উনাদের প্রশংসা করলে উনারা আরও বাড়িয়ে দেবেন আর না করলে পিটাবেন—এ ধরনের ব্যাখ্যা পবিত্র কোরআনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন।

তিনি এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ আন্দোলনের সময়কার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মোমেন বলেন, সে সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগসংবলিত একটি চিঠি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি সূরা তাওবার একটি আয়াত সংযোজনের পরামর্শ দেন এবং সতর্ক করেন যে, আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা উপহাসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টিতে আনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে স্পিকার ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য এবং তিনি কোরআন-হাদিস নিয়ে কোনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়া হবে। স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ এবং এখানে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

এরপর বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি কোনো দীর্ঘ বিতর্কে যেতে চান না, তবে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোরআনের ভুল ব্যাখ্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে দেশের মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা এবং মাদরাসার ছাত্র। তিনি সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশেই বলেছেন যে, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি তা বাড়িয়ে দেন, আর শুকরিয়া আদায় না করলে আজাব আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা বা এটা নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা মোটেও ঠিক হয়নি। ৯২ শতাংশ মুসলমানের এ দেশে কোনো সংসদ সদস্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের অবমাননা করেন, তবে সরকার তার নিন্দা করবে। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার আবারও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, সংসদে অধিকাংশ সদস্যই মুসলমান এবং দেশের ৯২ শতাংশ মানুষও এই ধর্মের অনুসারী। তাই সংসদকে বিরূপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতিতে জুনিয়র সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে স্পিকারের এ অনুরোধের মধ্যেই বিরোধীদলের অধ্যাপক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপটকে আড়াল করে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মুজিবুর রহমান ব্যাখ্যা দেন যে, আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ায় অগণিত নেয়ামত রেখেছেন যা গণনা করে শেষ করা যাবে না এবং মানুষের উচিত এ শক্তি দিয়ে আল্লাহর বিধিনিষেধের পক্ষে কথা বলা।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেট বক্তব্য খুব ভালো হয়েছে দাবি করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধীদল যদি এ বাজেটের প্রশংসা না করে তবে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব আসবে। এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মোটেও সঠিক নয় দাবি করে মুজিবুর রহমান প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে স্পিকার অন্য সদস্যদের শান্ত হতে বলেন এবং জানান যে ট্রেজারি বেঞ্চেও অনেক মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম রয়েছেন। নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করার শর্তে তিনি সরকারিদলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে কথা বলার সুযোগ দেন। কামরুজ্জামান স্পিকারের কাছে ওয়াদা করে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে তার বক্তব্য শুরু করেন।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াতের মধ্যেই রয়েছে যে আমরা শুনলাম এবং তা পালন করলাম। তিনি আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আহ্বান জানান, যা সহিহ বা সঠিক, আমরা যেন সবাই সেটির ওপর আমল করি এবং এই আমলের মধ্যদিয়েই যেন সবার পরিশুদ্ধতা আসে।

সবশেষে চলমান এ বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংসদে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সব সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যখন সংসদের সিনিয়র লিডাররা কথা বলবেন, তখন অন্য সদস্যদের স্বাভাবিকভাবেই আসন গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমরা সবাই যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং অভিযুক্ত সদস্য মাহফুজুল্লাহ সাহেব নিজে একজন আলেম, তাই তিনি কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেননি। বরং সবার আমলকে আরও সহিহ এবং শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত হৃদয় খুলে তিনি কথাটি বলেছেন।