ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিরক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদকে ভূষিত ৬ বাংলাদেশি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ৯ বার

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তিরক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদকে ভূষিত ৬ বাংলাদেশি

আপডেট টাইম : ১২:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।