ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে যা বললেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ১২ বার

নিজের ভাইরাল হওয়া একটি গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটি প্রকাশের পর শুরু হওয়া আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো এডিট করা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। বরং প্রায় আড়াই বছর আগে নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গাওয়া একটি গানের অংশ এটি।

রবিবার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বে*ই*মান, সাকালাইন শাফি পিছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না! কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বে*ইমা*নীর প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!’

রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও লিখেন, ‘এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সাথে কিছু স্বজাতীয় গা*দ্দার হিং*সুক গুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে-কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যে কোন দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব। অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যা*তন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!’

পোস্টের সবশেষে লিখেন, ‘কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন! আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আ*ও*য়ামী লীগ, ছা*ত্র*লীগ, যু*ব*লীগ-সবাই ভালো হয়ে যান!’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে যা বললেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

আপডেট টাইম : ১২:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নিজের ভাইরাল হওয়া একটি গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটি প্রকাশের পর শুরু হওয়া আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো এডিট করা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। বরং প্রায় আড়াই বছর আগে নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গাওয়া একটি গানের অংশ এটি।

রবিবার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বে*ই*মান, সাকালাইন শাফি পিছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না! কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বে*ইমা*নীর প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!’

রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও লিখেন, ‘এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সাথে কিছু স্বজাতীয় গা*দ্দার হিং*সুক গুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে-কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যে কোন দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব। অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যা*তন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!’

পোস্টের সবশেষে লিখেন, ‘কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন! আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আ*ও*য়ামী লীগ, ছা*ত্র*লীগ, যু*ব*লীগ-সবাই ভালো হয়ে যান!’