ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন প্রশ্নে অনড় সৌদি আরব, ট্রাম্পের আহ্বানেও বদলায়নি অবস্থান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ১৫ বার

ইরান যুদ্ধ অবসানে যেকোনও চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব।

দেশটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের কোনও চুক্তি হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও সুস্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে ওই সূত্র জানায়, সৌদি আরবের অবস্থান ‘আগের মতোই রয়েছে’ এবং রিয়াদ এখনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তাকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে।

সৌদি সূত্রের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসানে কোনও সমঝোতা হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘অবশ্যই’ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে ‘বাধ্যতামূলকভাবে’ আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে কোনও সমঝোতা না হয়, তাহলে ‘আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়া হতে পারে।

২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তিতে যোগ দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব জনমতের তীব্র সংবেদনশীলতার কারণে সৌদি নেতৃত্ব এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের এই অবস্থান ইঙ্গিত করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্ন এখনও কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবেই রয়ে গেছে। সূত্র: সিএনএন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন প্রশ্নে অনড় সৌদি আরব, ট্রাম্পের আহ্বানেও বদলায়নি অবস্থান

আপডেট টাইম : ১২:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ অবসানে যেকোনও চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব।

দেশটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের কোনও চুক্তি হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও সুস্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে ওই সূত্র জানায়, সৌদি আরবের অবস্থান ‘আগের মতোই রয়েছে’ এবং রিয়াদ এখনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তাকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে।

সৌদি সূত্রের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসানে কোনও সমঝোতা হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘অবশ্যই’ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে ‘বাধ্যতামূলকভাবে’ আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে কোনও সমঝোতা না হয়, তাহলে ‘আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়া হতে পারে।

২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তিতে যোগ দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব জনমতের তীব্র সংবেদনশীলতার কারণে সৌদি নেতৃত্ব এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের এই অবস্থান ইঙ্গিত করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্ন এখনও কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবেই রয়ে গেছে। সূত্র: সিএনএন