ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের সেই ঘটনায় মামলা, আসামির দোষ স্বীকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৫১ বার

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সময় আদালত মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি আদালত আসামির জবানবন্দি নেন এবং মামলাটির দ্রুত বিচার শেষের এই আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ আদালতে আসামি মনির দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের কাছে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। পরে জবানবন্দি নেওয়া শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ আদালত আসামির জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি মামলাটির চার্জশিট দেওয়াসহ বিচারপ্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় বাকলিয়া থানায় মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি আজ নথিভুক্ত হয়। সেই মামলায় মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। পরে জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে, গতকাল চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত মনিরকে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ সেখানে এসে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিতে চাইলে পুলিশসহ আসামিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়া, সড়ক অবরোধ, পুলিশের ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানঘাটা ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের সদস্য, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে সে সুস্থ আছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাকে ‘‘অ্যাটেম্প টু রেপ’’ বা ‘‘ধর্ষণচেষ্টা’’ করেছিল। এরপরও আমরা শিশুটির স্যাম্পল কালেকশন করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের সেই ঘটনায় মামলা, আসামির দোষ স্বীকার

আপডেট টাইম : ১২:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সময় আদালত মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি আদালত আসামির জবানবন্দি নেন এবং মামলাটির দ্রুত বিচার শেষের এই আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ আদালতে আসামি মনির দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের কাছে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। পরে জবানবন্দি নেওয়া শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ আদালত আসামির জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি মামলাটির চার্জশিট দেওয়াসহ বিচারপ্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় বাকলিয়া থানায় মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি আজ নথিভুক্ত হয়। সেই মামলায় মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। পরে জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে, গতকাল চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত মনিরকে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ সেখানে এসে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিতে চাইলে পুলিশসহ আসামিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়া, সড়ক অবরোধ, পুলিশের ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানঘাটা ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের সদস্য, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে সে সুস্থ আছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাকে ‘‘অ্যাটেম্প টু রেপ’’ বা ‘‘ধর্ষণচেষ্টা’’ করেছিল। এরপরও আমরা শিশুটির স্যাম্পল কালেকশন করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’