ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ আসতেছে ও গরুর গায়ে হাত দিয়া দেখতেছে, কিন্তু কিনতেছে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ১৯ বার

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসে গেছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।

কমলাপুরে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের মাঠ ও আশপাশের সড়কে বসেছে গরু-ছাগলের বিশাল হাট। শুক্রবার (২২ মে) এই হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা গরু-ছাগল নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ কেউ খুঁটি গেড়ে পশু বাঁধার জায়গা তৈরি করছেন।

দলবেঁধে আসা ক্রেতারা ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন জাতের গরু, ছাগল ও মহিষ। তবে অধিকাংশ ক্রেতাই পশু দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে আবার ফিরে যাচ্ছেন।

নাটোর থেকে আসা জিহাদ ব্যাপারি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২৬ তারিখের পর সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হবে। এখনো মানুষ কিনতেছে না। দাম শুনে চলে যাচ্ছে। গরু কিনে রাখার ও পালনের একটা বিষয় আছে। তাই অনেকে শেষ দিকে কিনবে।’

আরেক গরু ব্যবসায়ী হাসান বলেন, ‘মানুষ আসতেছে ও গরুর গায়ে হাত দিয়া দেখতেছে, কিন্তু কিনতেছে না।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ব্যাপারি রহিম হাজিও। তিনি বলেন, ‘মানুষ দরদাম করছে, কিন্তু কেনা কম।’

হাটে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই দেশি গরুর খোঁজ করছিলেন। মতিঝিলের বাসিন্দা তাসনিম আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবই খামারের গরু। দেশি গরু খুঁজতেছিলাম। দেখে-শুনে পরে নিয়ে যাবো। ঈদের দুই-তিনদিন আগে কিনলে বাচ্চারা গরুকে খাওয়াতে পারে, সময় কাটাতে পারে। কোরবানির ঈদের আনন্দই এটা।’

এদিকে, হাটে আসা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে মহিষ। নাটোর থেকে একটি মহিষ নিয়ে এসেছেন খামারি সোহান। তিনি পশুটির নাম রেখেছেন ‘কিম জং উন’। এর দাম হাঁকছেন সাড়ে চার লাখ টাকা।

সোহান বলেন, ‘আমার সবগুলো মহিষ সুন্দর ছিল। চাচার সঙ্গে আসছি এই একটি মহিষ নিয়ে। প্রতিটির আলাদা নাম ছিল। এটি বিক্রি করতে পারলে গ্রামে চলে যাবো।’

অন্যদিকে, হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ২০টি গরু নিয়ে আসা রশিদ ব্যাপারি নামের একজন বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই বাঁশ পুঁততে হচ্ছে। বাজারে বিশৃঙ্খলা আছে। একটা খুঁটি গাড়তে হাট মালিক ৩০০ টাকা করে নেয়। অনেক খরচ। তাই নিজেরাই শাবল দিয়ে বাঁশ গেড়ে বেঁধে দিচ্ছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষ আসতেছে ও গরুর গায়ে হাত দিয়া দেখতেছে, কিন্তু কিনতেছে না

আপডেট টাইম : ০৬:১৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসে গেছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।

কমলাপুরে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের মাঠ ও আশপাশের সড়কে বসেছে গরু-ছাগলের বিশাল হাট। শুক্রবার (২২ মে) এই হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা গরু-ছাগল নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ কেউ খুঁটি গেড়ে পশু বাঁধার জায়গা তৈরি করছেন।

দলবেঁধে আসা ক্রেতারা ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন জাতের গরু, ছাগল ও মহিষ। তবে অধিকাংশ ক্রেতাই পশু দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে আবার ফিরে যাচ্ছেন।

নাটোর থেকে আসা জিহাদ ব্যাপারি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২৬ তারিখের পর সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হবে। এখনো মানুষ কিনতেছে না। দাম শুনে চলে যাচ্ছে। গরু কিনে রাখার ও পালনের একটা বিষয় আছে। তাই অনেকে শেষ দিকে কিনবে।’

আরেক গরু ব্যবসায়ী হাসান বলেন, ‘মানুষ আসতেছে ও গরুর গায়ে হাত দিয়া দেখতেছে, কিন্তু কিনতেছে না।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ব্যাপারি রহিম হাজিও। তিনি বলেন, ‘মানুষ দরদাম করছে, কিন্তু কেনা কম।’

হাটে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই দেশি গরুর খোঁজ করছিলেন। মতিঝিলের বাসিন্দা তাসনিম আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবই খামারের গরু। দেশি গরু খুঁজতেছিলাম। দেখে-শুনে পরে নিয়ে যাবো। ঈদের দুই-তিনদিন আগে কিনলে বাচ্চারা গরুকে খাওয়াতে পারে, সময় কাটাতে পারে। কোরবানির ঈদের আনন্দই এটা।’

এদিকে, হাটে আসা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে মহিষ। নাটোর থেকে একটি মহিষ নিয়ে এসেছেন খামারি সোহান। তিনি পশুটির নাম রেখেছেন ‘কিম জং উন’। এর দাম হাঁকছেন সাড়ে চার লাখ টাকা।

সোহান বলেন, ‘আমার সবগুলো মহিষ সুন্দর ছিল। চাচার সঙ্গে আসছি এই একটি মহিষ নিয়ে। প্রতিটির আলাদা নাম ছিল। এটি বিক্রি করতে পারলে গ্রামে চলে যাবো।’

অন্যদিকে, হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ২০টি গরু নিয়ে আসা রশিদ ব্যাপারি নামের একজন বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই বাঁশ পুঁততে হচ্ছে। বাজারে বিশৃঙ্খলা আছে। একটা খুঁটি গাড়তে হাট মালিক ৩০০ টাকা করে নেয়। অনেক খরচ। তাই নিজেরাই শাবল দিয়ে বাঁশ গেড়ে বেঁধে দিচ্ছি।’