ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যাকাণ্ড, স্বামী সোহেলকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১৫ বার

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলএকজন বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং সে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকেও নির্যাতন করত। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকেও বিকৃত যৌনকাজে বাধ্য করত বলে অভিযোগ স্ত্রী স্বপ্নার।

পুলিশ আরও জানায়, স্ত্রী স্বপ্না বলেছেন ঘটনার দিন তাকে একটি ঘরে বন্দী করে রাখে তার স্বামী সোহেল এবং শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মেয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে আসামি সোহেল, তার স্ত্রী স্বপ্না ও অজ্ঞাত আরেকজনের নাম দিয়ে থানায় মামলা করেছেন রামিসার বাবা।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরে ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে স্ত্রীর সহযোগিতায় জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্ট দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে যান সোহেল। পরে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সোহেল পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা অভিযুক্তদের দরজার সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। জাকির যাতে পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি। পরে জাকির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন। এ ঘটনায় স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যাকাণ্ড, স্বামী সোহেলকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেলএকজন বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং সে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকেও নির্যাতন করত। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকেও বিকৃত যৌনকাজে বাধ্য করত বলে অভিযোগ স্ত্রী স্বপ্নার।

পুলিশ আরও জানায়, স্ত্রী স্বপ্না বলেছেন ঘটনার দিন তাকে একটি ঘরে বন্দী করে রাখে তার স্বামী সোহেল এবং শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মেয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে আসামি সোহেল, তার স্ত্রী স্বপ্না ও অজ্ঞাত আরেকজনের নাম দিয়ে থানায় মামলা করেছেন রামিসার বাবা।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরে ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে স্ত্রীর সহযোগিতায় জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্ট দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে যান সোহেল। পরে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সোহেল পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা অভিযুক্তদের দরজার সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। জাকির যাতে পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি। পরে জাকির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন। এ ঘটনায় স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।