প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের নিয়োগ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে গত ১৪ মে বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নিয়োগ ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল করা হলো।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান সম্প্রতি শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ ওঠে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বদলি ও তদবির বাণিজ্যসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় তাকে এপিএস পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে মন্ত্রণালয় থেকে সরানোর পরও একই দিনে তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়ন করা হয়, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সমর্থকরা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জানা গেছে, ওমর ফারুক দেওয়ানের মূল পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন মন্ত্রীদের প্রশংসা করে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক কলাম লিখেছিলেন তিনি। ফেসবুকেও আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ওই সময় একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায়িত্বও পালন করেন।
সূত্র জানায়, প্রশাসনিক দিক থেকেও তার ডিপিইতে পদায়ন নিয়ে জটিলতা ছিল। কারণ, পরিচালক (প্রশাসন) পদটি তৃতীয় গ্রেডের (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা) হলেও ওমর ফারুক দেওয়ান বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। বিধি অনুযায়ী চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাকে তৃতীয় গ্রেডের পদে পদায়ন করা যায় না।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “১৪ মে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগের আদেশ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।” জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Reporter Name 























