ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

গাজীপুরে সেই ৫ খুনের আসামির মরদেহ পদ্মা থেকে উদ্ধার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৭৫ বার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভেসে উঠেছে গাজীপুরের পাঁচ খুনের প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ। পরে লৌহজং থানা পুলিশ ও মাওয়া নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমানের মরদেহ ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল।

৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসূল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে ওই গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে, বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

পরদিন ৯ মে সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

গাজীপুরে সেই ৫ খুনের আসামির মরদেহ পদ্মা থেকে উদ্ধার

আপডেট টাইম : ১১:০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভেসে উঠেছে গাজীপুরের পাঁচ খুনের প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ। পরে লৌহজং থানা পুলিশ ও মাওয়া নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমানের মরদেহ ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল।

৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসূল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে ওই গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে, বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

পরদিন ৯ মে সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে পুলিশ।