অদৃশ্য শক্তির সুপরিকল্পিত চক্রান্তের শিকার হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিবাদী শাসনামল থেকেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়, যার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। এ ঘটনায় সার্ভিস রুলের একাধিক ধারা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশে পুনর্বহাল হয়ে পরবর্তীতে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া সাবেক আইজিপি বাহারুল আলমের সময়েই একটি বিশেষ মহল ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার প্রভাবের মাধ্যমে তৎকালীন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. নাজমুল করিম খানকে পদোন্নতি বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, বরখাস্তের আদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ও জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত থাকায় ড. নাজমুল করিম খানকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরেও তিনি কোনো পদোন্নতি পাননি বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সপরিবারে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে সক্রিয়ভাবে রাজপথে অংশ নেন। পরবর্তীতে পুনরায় পুলিশ বিভাগে যোগদানের সুযোগ পেলেও এরপর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং পুলিশের বাইরের ফ্যাসিবাদী দোসরদের সমন্বিত চক্রান্তের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একইভাবে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের আরও কয়েকজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার কর্মকর্তা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে জোর তৎপরতা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের পরিবর্তে একজন পেশাদার, দক্ষ ও প্রকৃত জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তার নেতৃত্বই বর্তমান সময়ের দাবি।
ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খানের বিরুদ্ধে চলমান চক্রান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার প্রজ্ঞা দিয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।”
Reporter Name 
























