ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ সেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা, ছাত্রশিবির নেতার বিচার চান তন্নী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ২৩ বার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিগত সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তৎকালীন সময়ে ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয় দিয়ে নৃশংস হামলা চালানো হলেও এখন জানা যাচ্ছে, সেই হামলার নেপথ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের এক ক্যাডার। বিশেষ করে, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তন্নী মল্লিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে মুসা মন্ডল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে, তিনি বর্তমানে শিবির নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, যখন তন্নী মল্লিক ও তার সহযোদ্ধারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছিলেন। কার্জন হলের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক হেলমেট পরে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সম্প্রতি পুনরায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অত্যন্ত হিংস্রভাবে তন্নীকে লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ করছে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।

জানা যায়, তন্নীকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা সেই যুবকটির নাম মুসা মন্ডল। তিনি তৎকালীন সময়ে অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, সেই মুসা মন্ডল বর্তমানে নিজেকে ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় ও বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

হামলার সেই ভয়াবহ স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তন্নী মল্লিক। তিনি বর্তমানে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত মুসা মন্ডলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

তন্নী মল্লিক বলেন, “এই যে এই ছেলেটা, এই যে মুসা মন্ডল, যে আমাকে লাঠি দিয়ে একদম নির্মমভাবে মারছিল। ও এখন নিজেকে শিবিরের অনেক বড় নেতা বলে দাবি করে। এতটা বছর আমরা কাদের সাথে লড়াই করেছি, এখন দেখি তারা সব শিবির। ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।”

“ও যখন আমাকে মারছিল, ওইদিন রাতের কথা মনে পড়লে আমি আজও ঘুমাতে পারি না, আজও আমি ব্যথায় চিৎকার করে উঠি”, বলেন তন্নী।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার ওপর যে সাদা শার্টধারী হামলা করেছিল আমি এতদিন জানতাম সে ছাত্রলীগ, এখন দেখছি সে শিবির‌। এখন কি এর বিচার হবে না? আমি চাই ও যে দলেরই হোক—সেদিন ছাত্রলীগ ছিল, আজ যদি ও শিবির হয়ে থাকে—আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।”

২০২২ সালের সেই ভয়াবহ দিনে হেলমেট পরিহিত মুসা মন্ডল যখন তন্নীকে ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন, তখন তাকে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা হিসেবেই সবাই চিনত। অথচ বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই একই ব্যক্তিকে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে দাপিয়ে বেড়াতে দেখে তন্নী মল্লিকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যক্তি কীভাবে এত দ্রুত রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে পার পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “ওই সময় তারা (ছাত্রশিবির) অতিমাত্রায় ছাত্রলীগ সাজতে গিয়ে এমন কোন হীন কাজ নাই যা করে নাই, সেটা হেলমেট পরেই হোক বা গেস্ট রুম/গণরুম করে নির্যাতন করেই হোক।”

তিনি অবিলম্বে দোষী মুসা মন্ডলকে চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তন্নী মল্লিকের এই আকুতি এখন ক্যাম্পাসে মানবাধিকার ও সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রলীগ সেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা, ছাত্রশিবির নেতার বিচার চান তন্নী

আপডেট টাইম : ১১:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিগত সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তৎকালীন সময়ে ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয় দিয়ে নৃশংস হামলা চালানো হলেও এখন জানা যাচ্ছে, সেই হামলার নেপথ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের এক ক্যাডার। বিশেষ করে, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তন্নী মল্লিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে মুসা মন্ডল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে, তিনি বর্তমানে শিবির নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, যখন তন্নী মল্লিক ও তার সহযোদ্ধারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছিলেন। কার্জন হলের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক হেলমেট পরে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সম্প্রতি পুনরায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অত্যন্ত হিংস্রভাবে তন্নীকে লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ করছে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।

জানা যায়, তন্নীকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা সেই যুবকটির নাম মুসা মন্ডল। তিনি তৎকালীন সময়ে অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, সেই মুসা মন্ডল বর্তমানে নিজেকে ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় ও বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

হামলার সেই ভয়াবহ স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তন্নী মল্লিক। তিনি বর্তমানে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত মুসা মন্ডলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

তন্নী মল্লিক বলেন, “এই যে এই ছেলেটা, এই যে মুসা মন্ডল, যে আমাকে লাঠি দিয়ে একদম নির্মমভাবে মারছিল। ও এখন নিজেকে শিবিরের অনেক বড় নেতা বলে দাবি করে। এতটা বছর আমরা কাদের সাথে লড়াই করেছি, এখন দেখি তারা সব শিবির। ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।”

“ও যখন আমাকে মারছিল, ওইদিন রাতের কথা মনে পড়লে আমি আজও ঘুমাতে পারি না, আজও আমি ব্যথায় চিৎকার করে উঠি”, বলেন তন্নী।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার ওপর যে সাদা শার্টধারী হামলা করেছিল আমি এতদিন জানতাম সে ছাত্রলীগ, এখন দেখছি সে শিবির‌। এখন কি এর বিচার হবে না? আমি চাই ও যে দলেরই হোক—সেদিন ছাত্রলীগ ছিল, আজ যদি ও শিবির হয়ে থাকে—আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।”

২০২২ সালের সেই ভয়াবহ দিনে হেলমেট পরিহিত মুসা মন্ডল যখন তন্নীকে ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন, তখন তাকে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা হিসেবেই সবাই চিনত। অথচ বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই একই ব্যক্তিকে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে দাপিয়ে বেড়াতে দেখে তন্নী মল্লিকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যক্তি কীভাবে এত দ্রুত রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে পার পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “ওই সময় তারা (ছাত্রশিবির) অতিমাত্রায় ছাত্রলীগ সাজতে গিয়ে এমন কোন হীন কাজ নাই যা করে নাই, সেটা হেলমেট পরেই হোক বা গেস্ট রুম/গণরুম করে নির্যাতন করেই হোক।”

তিনি অবিলম্বে দোষী মুসা মন্ডলকে চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তন্নী মল্লিকের এই আকুতি এখন ক্যাম্পাসে মানবাধিকার ও সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরিণত হয়েছে।