ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

গভীর রাতে রাস্তায় ছদ্মবেশে নারী পুলিশ, তিন ঘণ্টায় ৪০ পুরুষের ‘প্রস্তাব’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ২৫ বার

নারীরা শহরের রাস্তায় কতটা নিরাপদ- এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তর খুঁজতেই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেন ভারতের হায়দরাবাদের এক ঊর্ধ্বতন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে মধ্যরাতে একা দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই যাচাই করেন পরিস্থিতি। আর সেই অভিজ্ঞতাই সামনে আনে উদ্বেগজনক চিত্র।

হায়দরাবাদের মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি, যিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের একজন সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা। তিনিই শহরের নারী নিরাপত্তা সরেজমিনে বোঝার জন্য নিজেই এই উদ্যোগ নেন। মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মালকাজ়গিরি থানার নিকটবর্তী একটি বাসস্ট্যান্ডে একা অবস্থান করেন পুলিশি পরিচয় গোপন রেখে, একেবারে সাধারণ একজন নারীর বেশে।

এই তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসে। কেউ কথা বলার চেষ্টা করে, কেউ কুপ্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন তরুণ, এমনকি কয়েকজন ছাত্রও ছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কেউই বুঝতে পারেননি যার সঙ্গে তারা কথা বলছেন তিনি একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এটি সুমতির প্রথম এমন উদ্যোগ নয়। কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা যাচাই করতে তিনি একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি এর আগে ‘স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১ মে তিনি মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তথ্য সূত্র- এনডিটিভি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

গভীর রাতে রাস্তায় ছদ্মবেশে নারী পুলিশ, তিন ঘণ্টায় ৪০ পুরুষের ‘প্রস্তাব’

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নারীরা শহরের রাস্তায় কতটা নিরাপদ- এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তর খুঁজতেই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেন ভারতের হায়দরাবাদের এক ঊর্ধ্বতন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে মধ্যরাতে একা দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই যাচাই করেন পরিস্থিতি। আর সেই অভিজ্ঞতাই সামনে আনে উদ্বেগজনক চিত্র।

হায়দরাবাদের মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি, যিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের একজন সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা। তিনিই শহরের নারী নিরাপত্তা সরেজমিনে বোঝার জন্য নিজেই এই উদ্যোগ নেন। মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মালকাজ়গিরি থানার নিকটবর্তী একটি বাসস্ট্যান্ডে একা অবস্থান করেন পুলিশি পরিচয় গোপন রেখে, একেবারে সাধারণ একজন নারীর বেশে।

এই তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসে। কেউ কথা বলার চেষ্টা করে, কেউ কুপ্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন তরুণ, এমনকি কয়েকজন ছাত্রও ছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কেউই বুঝতে পারেননি যার সঙ্গে তারা কথা বলছেন তিনি একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এটি সুমতির প্রথম এমন উদ্যোগ নয়। কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা যাচাই করতে তিনি একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি এর আগে ‘স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১ মে তিনি মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তথ্য সূত্র- এনডিটিভি।