আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বগুড়া-৬ আসন। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুইটি আসনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে তুমুল আলোচনা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন উঠেছে, এবারের উপ-নির্বাচনে জিয়া পরিবারের তিন নারী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁরা হলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তাঁদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং তারেক রহমানের ছোটভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬। তাই এখানে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেটি শুধু একটি সাধারণ উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নয় বরং সরকারের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রার্থী তালিকায় জিয়া পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া-৬ শুধু একটি সাধারণ আসন নয়, এটা দলের ঐতিহ্যের অংশ। দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো বিষয় নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই জানানো হবে।
অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আবারও জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনা জোর পেয়েছে।
জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, এই আসনের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে সরকার গঠনের পর বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জুবাইদা রহমান, তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপ-নির্বাচন। এখানে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখেই বোঝা যাবে বিএনপি কোন ধরনের নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসন ছেড়েছেন। ফলে এখানে যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালের পর বগুড়া-৬ আসনে একাধিকবার উপ-নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ আসন থেকে বারবার জয়লাভ করেছেন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮) বেগম খালেদা জিয়া।
২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। এরপর তিনিও এই আসন থেকে শপথ না নেওয়ায় ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি।
Reporter Name 























