ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

নিজের পুরোনো আঙিনায় ‘বস’ হয়ে ফিরলেন আব্দুল বারী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার

বলি শিবসমুদ্র, এটি একটি গ্রামের নাম। কালাই উপজেলার এই নিভৃত গ্রাম থেকেই শুরু হয়েছিল এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা। সেই স্বপ্ন তাকে নিয়ে গিয়েছিল প্রশাসনের সর্বোচ্চ শিখরে। প্রশাসনিক জীবন শেষে তিনি নিজ এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলাতে রাজনীতিতে পা রেখেছেন। প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। শুধু জয়ীই নয়, তিনি সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন। এক সময় যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করেছেন, এখন সেখানেই অভিভাবক হিসেবে ফিরলেন তিনি। পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

তিনি হলেন জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ নামেই বেশ পরিচিত। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

মরহুম জাফের আলী মন্ডল ও মরহুমা মিছিরুন্নেছা বেগম দম্পতির এই ছেলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ শেষ করেন। তিনি ১৯৮২ (বিশেষ) বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

মো. আব্দুল বারী প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (এনজিও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগদান করেন। সেখানে প্রায় এক বছর এক মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালের জুন মাস থেকে এক বছর এক মাস মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে চাকরি করে ২০০৪ সালের জুন মাসে ঢাকা জেলা প্রশাসক হন। সেখানে দুই বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের আগস্ট থেকে একই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন।

২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ন্যাশনাল নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। ওএসডি থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে পিআরএল এবং ২০১৫ সালে পূর্ণ অবসরে আসেন। অবসরে আসার পর প্রায় ৫ বছর ৮ মাস তিনি পেনশন পাননি। তবে সেসময় তিনি অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতিও পাননি।

ছাত্রজীবনে ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হাবিবুর রহমান হল সংসদ নির্বাচনে আব্দুল বারী মুজিববাদী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি গ্রাম সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।

চাকরিজীবনে আব্দুল বারী বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেই মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে ভূতাপেক্ষভাবে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আব্দুল বারীর এই প্রত্যাবর্তনকে জয়পুরহাটের সাধারণ মানুষ দেখছেন এলাকার উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলবেন- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার মানুষের। তার এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বইছে বলি শিবসমুদ্র গ্রামসহ পুরো জয়পুরহাট জেলায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

নিজের পুরোনো আঙিনায় ‘বস’ হয়ে ফিরলেন আব্দুল বারী

আপডেট টাইম : ১১:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বলি শিবসমুদ্র, এটি একটি গ্রামের নাম। কালাই উপজেলার এই নিভৃত গ্রাম থেকেই শুরু হয়েছিল এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা। সেই স্বপ্ন তাকে নিয়ে গিয়েছিল প্রশাসনের সর্বোচ্চ শিখরে। প্রশাসনিক জীবন শেষে তিনি নিজ এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলাতে রাজনীতিতে পা রেখেছেন। প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। শুধু জয়ীই নয়, তিনি সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন। এক সময় যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করেছেন, এখন সেখানেই অভিভাবক হিসেবে ফিরলেন তিনি। পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

তিনি হলেন জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ নামেই বেশ পরিচিত। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

মরহুম জাফের আলী মন্ডল ও মরহুমা মিছিরুন্নেছা বেগম দম্পতির এই ছেলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ শেষ করেন। তিনি ১৯৮২ (বিশেষ) বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

মো. আব্দুল বারী প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (এনজিও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগদান করেন। সেখানে প্রায় এক বছর এক মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালের জুন মাস থেকে এক বছর এক মাস মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে চাকরি করে ২০০৪ সালের জুন মাসে ঢাকা জেলা প্রশাসক হন। সেখানে দুই বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের আগস্ট থেকে একই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন।

২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ন্যাশনাল নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। ওএসডি থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে পিআরএল এবং ২০১৫ সালে পূর্ণ অবসরে আসেন। অবসরে আসার পর প্রায় ৫ বছর ৮ মাস তিনি পেনশন পাননি। তবে সেসময় তিনি অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতিও পাননি।

ছাত্রজীবনে ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হাবিবুর রহমান হল সংসদ নির্বাচনে আব্দুল বারী মুজিববাদী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি গ্রাম সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।

চাকরিজীবনে আব্দুল বারী বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেই মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে ভূতাপেক্ষভাবে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আব্দুল বারীর এই প্রত্যাবর্তনকে জয়পুরহাটের সাধারণ মানুষ দেখছেন এলাকার উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলবেন- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার মানুষের। তার এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বইছে বলি শিবসমুদ্র গ্রামসহ পুরো জয়পুরহাট জেলায়।