ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

বাংলাদেশে পানি সাশ্রয়ী ধান চাষ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করবে জাপানের মিৎসুই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার

বাংলাদেশে পানি–সাশ্রয়ী ধান চাষ এবং কৃষিক্ষেত্রে মিথেন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে জাপানি কোম্পানি মিৎসুই অ্যান্ড কোং। তবে মিৎসুই–এর লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশে এই পদ্ধতি প্রচলনে সহায়তা করে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিৎসুই অ্যান্ড কোং গত সোমবার জানিয়েছে—তারা বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হলো এমন একটি পানি–সাশ্রয়ী ধান চাষ পদ্ধতি প্রচার করা, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে পারে। আগামী বছর থেকেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের আওতায় কৃষকদের ‘অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’—পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই পদ্ধতিতে ধানখেত থেকে পানি বের করে দেওয়া হয় এবং মাটি শুকাতে দেওয়া হয়। এরপর আবার জমিতে পানি দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতি মাটিতে থাকা মিথেন গ্যাস নিঃসরণকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে সাহায্য করে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সারাক্ষণ জমি প্লাবিত রাখার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নিঃসরণ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এতে পানিও সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে কৃষিকাজে প্রায়ই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে মিৎসুই বলেছে, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই ধান চাষ প্রসারে কাজ করতে চায় মিৎসুই।’

অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং পদ্ধতি ব্যবহার করে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বন্ধু ফাউন্ডেশনের। সংস্থাটি এ প্রকল্পে কারিগরি দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ করবে। কার্বন ক্রেডিট হলো এমন এক ধরনের বিনিময়যোগ্য সার্টিফিকেট বা পারমিট, যা বায়ুমণ্ডল থেকে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস অপসারণ বা নিঃসরণ হ্রাসের অধিকার দেয়। সহজ করে বললে, এটি দূষণের একটি আন্তর্জাতিক লাইসেন্স।

মিৎসুই এই প্রকল্পকে জাপানের জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের আওতায় নিবন্ধন করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প থেকে অর্জিত কার্বন ক্রেডিটের একটি অংশ জাপান পায়। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। কার্বন ক্রেডিট থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ কৃষকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

বাংলাদেশে পানি সাশ্রয়ী ধান চাষ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করবে জাপানের মিৎসুই

আপডেট টাইম : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে পানি–সাশ্রয়ী ধান চাষ এবং কৃষিক্ষেত্রে মিথেন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে জাপানি কোম্পানি মিৎসুই অ্যান্ড কোং। তবে মিৎসুই–এর লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশে এই পদ্ধতি প্রচলনে সহায়তা করে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিৎসুই অ্যান্ড কোং গত সোমবার জানিয়েছে—তারা বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হলো এমন একটি পানি–সাশ্রয়ী ধান চাষ পদ্ধতি প্রচার করা, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে পারে। আগামী বছর থেকেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের আওতায় কৃষকদের ‘অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’—পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই পদ্ধতিতে ধানখেত থেকে পানি বের করে দেওয়া হয় এবং মাটি শুকাতে দেওয়া হয়। এরপর আবার জমিতে পানি দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতি মাটিতে থাকা মিথেন গ্যাস নিঃসরণকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে সাহায্য করে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সারাক্ষণ জমি প্লাবিত রাখার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নিঃসরণ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এতে পানিও সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে কৃষিকাজে প্রায়ই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে মিৎসুই বলেছে, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই ধান চাষ প্রসারে কাজ করতে চায় মিৎসুই।’

অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং পদ্ধতি ব্যবহার করে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বন্ধু ফাউন্ডেশনের। সংস্থাটি এ প্রকল্পে কারিগরি দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ করবে। কার্বন ক্রেডিট হলো এমন এক ধরনের বিনিময়যোগ্য সার্টিফিকেট বা পারমিট, যা বায়ুমণ্ডল থেকে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস অপসারণ বা নিঃসরণ হ্রাসের অধিকার দেয়। সহজ করে বললে, এটি দূষণের একটি আন্তর্জাতিক লাইসেন্স।

মিৎসুই এই প্রকল্পকে জাপানের জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের আওতায় নিবন্ধন করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প থেকে অর্জিত কার্বন ক্রেডিটের একটি অংশ জাপান পায়। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। কার্বন ক্রেডিট থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ কৃষকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।