ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড়ের সঙ্গে মাছ ও মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রমজানের আগে তুলনামূলক কম দামে মাছ–মাংস বিক্রি হলেও মাসের শুরুতেই তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।

আজ শুক্রবার রামপুরা কাঁচাবাজার, মধুবাগ বাজার, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষের মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও অনেক কম ছিল। ইলিশ আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা, টেংরা, বোয়ালসহ দেশি মাছের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এছাড়া গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের পাশাপাশি মাংসের দামও চড়া। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সবুর মিয়া বলেন, ‘তারা কারওয়ান বাজার থেকে রাতের বেলা মাল এনে সকালে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। সেখানে আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। হিসাব করে মাল কিনতে গেলেও পাইকারি দামের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতারা তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যদিও পাইকারি বাজারের দামের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’

মধুবাগ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী করিম উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ, বরফ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বেড়ে যায়। চাইলেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য তৈরি হয়।’

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। রমজানের আগে বাজারে তেমন প্রভাব না থাকলেও রোজা শুরু হতেই দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার তদারকিতে সরকারের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

আজগর মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। যে মাছ রোজার আগে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনেছেন, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় মাছ কিনতে গেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার নিচে নেই। মাংসের বাজারেও একই অবস্থা।’

কাঁচাবাজারে আসা আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, রমজানে বাজার করতে এলে পকেট প্রায় খালি হয়ে যায়। আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতেন, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন

আপডেট টাইম : ০৩:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড়ের সঙ্গে মাছ ও মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রমজানের আগে তুলনামূলক কম দামে মাছ–মাংস বিক্রি হলেও মাসের শুরুতেই তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।

আজ শুক্রবার রামপুরা কাঁচাবাজার, মধুবাগ বাজার, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষের মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও অনেক কম ছিল। ইলিশ আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা, টেংরা, বোয়ালসহ দেশি মাছের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এছাড়া গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের পাশাপাশি মাংসের দামও চড়া। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সবুর মিয়া বলেন, ‘তারা কারওয়ান বাজার থেকে রাতের বেলা মাল এনে সকালে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। সেখানে আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। হিসাব করে মাল কিনতে গেলেও পাইকারি দামের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতারা তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যদিও পাইকারি বাজারের দামের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’

মধুবাগ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী করিম উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ, বরফ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বেড়ে যায়। চাইলেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য তৈরি হয়।’

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। রমজানের আগে বাজারে তেমন প্রভাব না থাকলেও রোজা শুরু হতেই দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার তদারকিতে সরকারের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

আজগর মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। যে মাছ রোজার আগে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনেছেন, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় মাছ কিনতে গেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার নিচে নেই। মাংসের বাজারেও একই অবস্থা।’

কাঁচাবাজারে আসা আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, রমজানে বাজার করতে এলে পকেট প্রায় খালি হয়ে যায়। আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতেন, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।