ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: দুদক

এমিনেন্সের জনমত জরিপ জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১১ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD)। ৫ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের তথ্য জানানো হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ ভোটারের পছন্দ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া এনসিপি ২.৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১.৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ০.১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন ।

সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২০,৪৯৫ জন উত্তরদাতার মতামত নিয়ে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয় । ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন । জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ শতাংশ নারী ছিলেন ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ শতাংশ এবং ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের হার ছিল ৫০ শতাংশ । তরুণ সমাজের এই ব্যাপক অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৭১ শতাংশ নারী দলটিকে সমর্থন দিয়েছেন । আঞ্চলিক ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে ।

তবে বরিশাল ও খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে দলটির সমর্থন যথাক্রমে ২৯ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ । এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৫.২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে । জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে ।

আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়েও জরিপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে । তথ্য অনুযায়ী, অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন ।

এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে এবং ২৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন ।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী এবং ১৫ শতাংশ ছিলেন কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতের মানুষ।

জরিপ চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ঘটনা ঘটে যা ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করে গবেষক দল ।

এর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নতুন জোট গঠন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য ।

গবেষকদের মতে, এই সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে অনেক সময় যৌক্তিক বিশ্লেষণের চেয়ে তাৎক্ষণিক আবেগের প্রতিফলন ঘটাতে পারে ।

অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা এই জনমতকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন । মিস মীর নাদিয়া নিভিন নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই জনমতকে সুশাসনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ মনে করেন ।

ফাহিম মাশরুর তরুণদের এই রায়কে বাক-স্বাধীনতার স্পৃহা হিসেবে এবং ইফতেখার মাহমুদ প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করেন । অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর আশা প্রকাশ করেন যে, এই জনআকাঙ্ক্ষা আগামীতে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ দেখাবে ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ

এমিনেন্সের জনমত জরিপ জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD)। ৫ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের তথ্য জানানো হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ ভোটারের পছন্দ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া এনসিপি ২.৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১.৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ০.১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন ।

সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২০,৪৯৫ জন উত্তরদাতার মতামত নিয়ে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয় । ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন । জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ শতাংশ নারী ছিলেন ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ শতাংশ এবং ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের হার ছিল ৫০ শতাংশ । তরুণ সমাজের এই ব্যাপক অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৭১ শতাংশ নারী দলটিকে সমর্থন দিয়েছেন । আঞ্চলিক ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে ।

তবে বরিশাল ও খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে দলটির সমর্থন যথাক্রমে ২৯ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ । এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৫.২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে । জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে ।

আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়েও জরিপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে । তথ্য অনুযায়ী, অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন ।

এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে এবং ২৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন ।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী এবং ১৫ শতাংশ ছিলেন কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতের মানুষ।

জরিপ চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ঘটনা ঘটে যা ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করে গবেষক দল ।

এর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নতুন জোট গঠন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য ।

গবেষকদের মতে, এই সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে অনেক সময় যৌক্তিক বিশ্লেষণের চেয়ে তাৎক্ষণিক আবেগের প্রতিফলন ঘটাতে পারে ।

অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা এই জনমতকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন । মিস মীর নাদিয়া নিভিন নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই জনমতকে সুশাসনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ মনে করেন ।

ফাহিম মাশরুর তরুণদের এই রায়কে বাক-স্বাধীনতার স্পৃহা হিসেবে এবং ইফতেখার মাহমুদ প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করেন । অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর আশা প্রকাশ করেন যে, এই জনআকাঙ্ক্ষা আগামীতে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ দেখাবে ।