ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ওসি-এসপিদের তালিকা করছে বৈছাআ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ওসি এবং এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি শনিবার রাতে শাহবাগে দেওয়া দুই দফা কর্মসূচির সঙ্গে আরও এক দফা যুক্ত করে মোট তিন দফা দাবি ও দুটি কর্মসূচি তুলে ধরেন।

তিন দফা দাবি
১। শুধু জামিন নয়, মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩। জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে এবং ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি কর্মসূচির কথ জানান। বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছে, সেই সব থানার ওসি এবং এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দুই নম্বর কর্মসূচি হলো, ইমডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাদের প্রেশার দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

রিফাত রশিদ বলেন, আমাদের দুই দফার মাঝে শুধুমাত্র প্রথম দফার আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। মাহাদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমরা বলবো, আমাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে, চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকে ভিডিওতে দেখেছি, বাচ্চা কোলে থাকা অবস্থায় একটা মানুষকে পুলিশ পেটাচ্ছে! কোনও শিশু যখন কোলে থাকে, পৃথিবীর কোন আইনে, কোন লজিকে একটা শিশুর ওপরে কোনও পুলিশ আঘাত হানতে পারে— আমরা জানতে চাই। পৃথিবীর কোনও সভ্য রাষ্ট্রে এরকম উদাহরণ রয়েছে— তা আমরা দেখতে চাই।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ওসি-এসপিদের তালিকা করছে বৈছাআ

আপডেট টাইম : ১০:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ওসি এবং এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি শনিবার রাতে শাহবাগে দেওয়া দুই দফা কর্মসূচির সঙ্গে আরও এক দফা যুক্ত করে মোট তিন দফা দাবি ও দুটি কর্মসূচি তুলে ধরেন।

তিন দফা দাবি
১। শুধু জামিন নয়, মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩। জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে এবং ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি কর্মসূচির কথ জানান। বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছে, সেই সব থানার ওসি এবং এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দুই নম্বর কর্মসূচি হলো, ইমডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাদের প্রেশার দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

রিফাত রশিদ বলেন, আমাদের দুই দফার মাঝে শুধুমাত্র প্রথম দফার আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। মাহাদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমরা বলবো, আমাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে, চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকে ভিডিওতে দেখেছি, বাচ্চা কোলে থাকা অবস্থায় একটা মানুষকে পুলিশ পেটাচ্ছে! কোনও শিশু যখন কোলে থাকে, পৃথিবীর কোন আইনে, কোন লজিকে একটা শিশুর ওপরে কোনও পুলিশ আঘাত হানতে পারে— আমরা জানতে চাই। পৃথিবীর কোনও সভ্য রাষ্ট্রে এরকম উদাহরণ রয়েছে— তা আমরা দেখতে চাই।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।