ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি বাতিলের দাবি মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের দাবিতে ভিকারুননিসা অ্যালামনাইয়ের ব্যাখ্যা যে ৭ সবজি অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে যে পাঁচটি সিনেমা ভ্রমণপিপাসুদের অবশ্যই দেখা উচিত সৌদিতে মিসাইল হামলায় দগ্ধ প্রবাসী মামুনের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা রাজধানী দেশে প্রথমবারের মতো চালু পেট অ্যাম্বুলেন্স, নেটিজেনদের প্রশংসা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নুতন এআই টুল আনছে মেটা

দেখা থেকে লেখা খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে জানাজায় শিশুরাও

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৪ বার

দুপুর দেড়টা, রাজধানীর রাজধানীর বিজয় সরণীর ব্রিজ। ব্রিজের সংসদ ভবন অভিমুখী লেনে জনতার ঢল। তেজগাঁও প্রান্ত থেকে জানাজায় যাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। তবে চোখ আটকে যায় বছর তিনেক বয়সী এক শিশুকে দেখে। মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি পরা এ শিশু হয়তো তার বাবা কিংবা স্বজনের কাঁধে চড়ে যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে।

জানাজায় অংশ নেওয়া শিশুদের কথা বলতে হলে অবশ্যই বলতে হবে রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা আজাদের দুই ছেলের কথা। বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে তারা। দুই শিশু সন্তানকে জানাজায় অংশ নিতে আসা আজাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম বিএনপির কোনো পর্যায়ে যুক্ত আছেন কি না। জবাবে তিনি বললেন, বিএনপি করেন না। শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে জানাজায় এসেছেন। রামপুরার বাসিন্দা, বিএনপির সমর্থক রিয়াজুলও তার ছেলেকে নিয়ে এসেছেন জানাজায়।

শিশুরা যেমন এসেছে, এসেছেন বৃদ্ধরাও। অনেকের শারিরীক সামর্থ্য অনুকূলে না থাকলেও এসেছেন প্রিয় নেত্রীর জানাজায় শরিক হতে। বিজয় সরণী গোলচত্বর এলাকায় এক অসুস্থ যুবককে তার সমবয়সী দুজনকে দেখা গেল দুই পাশ থেকে ধরে জানাজার কাতারের দিকে নিয়ে যেতে। আবার কেউ কেউ জানাজায় এসেও অসুস্থ হয়েছেন। বিজয় সরণীতে জানাজার কাতার দাঁড়ানো এক ব্যক্তি জ্ঞান হারালে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলেন আশপাশের লোকজনরা।

উৎসুক অনেকেই জানাজায় অংশ না নিয়ে অবস্থান নেন ভবনের ছাদে। বিজয় সরণীতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। একটি ভবনের ছাদে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো।

দুপুর ২টার আগে কাতার সোজা করে দাঁড়ানো অনেকেই জানাজা দেরিতে শুরু হওয়ায় ফের এলোমেলোভাবে অবস্থান নেন। এরপর জানাজা শুরুর ঘোষণা দিলে আবার কাতার সোজা করে দাঁড়ান। এ সময় বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের সদস্য হিসেবে, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যেসব কথা বলার দরকার, তিনি শুধু সেটুকুই বললেন।

এরপরই বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ালেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে অংশ নেওয়াদের অধিকাংশই ফিরে গেলেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে ফিরে যাওয়ার সময় তাদের পড়তে হয়েছে ভিড়ের মধ্যে। এতক্ষণ যারা জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে চলে যাওয়া শুরু করলেই এ ভিড়ের সৃষ্টি হয়। এ ভিড়ের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে বিজয় সরণী ব্রিজ থেকে একটি ছবি তুলতে গিয়ে আমার সহকর্মীকে হারিয়ে ফেলি, যার সঙ্গে জানাজায় অংশ নিতে গিয়েছিলাম। জনতার এ স্রোতেই শুনতে পেলাম দুজনের কথোপকথন, গন্তব্যে কীভাবে পৌঁছাবেন তা নিয়ে চিন্তা করছেন তারা। কোথায় থেকে গাড়ি পাবেন, সে গাড়ি ভিড়ের কারণে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে তারা আলাপ করছেন।

জানাজায় অংশ নেওয়ারা নিশ্চয় ফিরবেন তাদের গন্তব্যে, তবে ফিরবেন না বেগম খালেদা জিয়া। যিনি আগের দিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি আর না ফিরলেও রয়ে যাবেন কোটি মানুষের অন্তরে। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে মানুষ তাকে মনে রাখবে যুগের পর যুগ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য

দেখা থেকে লেখা খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে জানাজায় শিশুরাও

আপডেট টাইম : ০৭:০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

দুপুর দেড়টা, রাজধানীর রাজধানীর বিজয় সরণীর ব্রিজ। ব্রিজের সংসদ ভবন অভিমুখী লেনে জনতার ঢল। তেজগাঁও প্রান্ত থেকে জানাজায় যাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। তবে চোখ আটকে যায় বছর তিনেক বয়সী এক শিশুকে দেখে। মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি পরা এ শিশু হয়তো তার বাবা কিংবা স্বজনের কাঁধে চড়ে যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে।

জানাজায় অংশ নেওয়া শিশুদের কথা বলতে হলে অবশ্যই বলতে হবে রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা আজাদের দুই ছেলের কথা। বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে তারা। দুই শিশু সন্তানকে জানাজায় অংশ নিতে আসা আজাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম বিএনপির কোনো পর্যায়ে যুক্ত আছেন কি না। জবাবে তিনি বললেন, বিএনপি করেন না। শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে জানাজায় এসেছেন। রামপুরার বাসিন্দা, বিএনপির সমর্থক রিয়াজুলও তার ছেলেকে নিয়ে এসেছেন জানাজায়।

শিশুরা যেমন এসেছে, এসেছেন বৃদ্ধরাও। অনেকের শারিরীক সামর্থ্য অনুকূলে না থাকলেও এসেছেন প্রিয় নেত্রীর জানাজায় শরিক হতে। বিজয় সরণী গোলচত্বর এলাকায় এক অসুস্থ যুবককে তার সমবয়সী দুজনকে দেখা গেল দুই পাশ থেকে ধরে জানাজার কাতারের দিকে নিয়ে যেতে। আবার কেউ কেউ জানাজায় এসেও অসুস্থ হয়েছেন। বিজয় সরণীতে জানাজার কাতার দাঁড়ানো এক ব্যক্তি জ্ঞান হারালে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলেন আশপাশের লোকজনরা।

উৎসুক অনেকেই জানাজায় অংশ না নিয়ে অবস্থান নেন ভবনের ছাদে। বিজয় সরণীতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। একটি ভবনের ছাদে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো।

দুপুর ২টার আগে কাতার সোজা করে দাঁড়ানো অনেকেই জানাজা দেরিতে শুরু হওয়ায় ফের এলোমেলোভাবে অবস্থান নেন। এরপর জানাজা শুরুর ঘোষণা দিলে আবার কাতার সোজা করে দাঁড়ান। এ সময় বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের সদস্য হিসেবে, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যেসব কথা বলার দরকার, তিনি শুধু সেটুকুই বললেন।

এরপরই বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ালেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে অংশ নেওয়াদের অধিকাংশই ফিরে গেলেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে ফিরে যাওয়ার সময় তাদের পড়তে হয়েছে ভিড়ের মধ্যে। এতক্ষণ যারা জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে চলে যাওয়া শুরু করলেই এ ভিড়ের সৃষ্টি হয়। এ ভিড়ের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে বিজয় সরণী ব্রিজ থেকে একটি ছবি তুলতে গিয়ে আমার সহকর্মীকে হারিয়ে ফেলি, যার সঙ্গে জানাজায় অংশ নিতে গিয়েছিলাম। জনতার এ স্রোতেই শুনতে পেলাম দুজনের কথোপকথন, গন্তব্যে কীভাবে পৌঁছাবেন তা নিয়ে চিন্তা করছেন তারা। কোথায় থেকে গাড়ি পাবেন, সে গাড়ি ভিড়ের কারণে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে তারা আলাপ করছেন।

জানাজায় অংশ নেওয়ারা নিশ্চয় ফিরবেন তাদের গন্তব্যে, তবে ফিরবেন না বেগম খালেদা জিয়া। যিনি আগের দিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি আর না ফিরলেও রয়ে যাবেন কোটি মানুষের অন্তরে। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে মানুষ তাকে মনে রাখবে যুগের পর যুগ।