ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

মিয়ানমারে অবাধে চলছে শিশুহত্যা ও গণধর্ষণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৬
  • ৪০৩ বার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপরে হত্যা, ধর্ষণ আর নিপীড়ন চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গা শিশুদের দেখলেই গুলি করে হত্যা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সুন্দরী নারীদের দেখলেই করছে গণধর্ষণ। খবর সিএনএনের।

তাদের নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা চলছে।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছেন, কিভাবে সেনাবাহিনীর হাতে তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা জানান, সৈন্যরা রোহিঙ্গা কোনো নারী দেখলে পানি খাওয়ার নাম করে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। যাদের নেই কোনো দেশ, জাতিগত স্বীকৃতি।
কক্সবাজারের কুতুপালংএ অবস্থান করা রোহিঙ্গা শরনার্থী লালু বেগম জানিয়েছেন, তারা মধ্যরাতে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে তারা সেনাবিহানীর নজর এড়িয়ে নাফ নদীর তীরে পৌঁছেছেন। এরপর নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন।
রোহিঙ্গা নারী বেগম বলেন, তাদের পুরো গ্রামটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর একসঙ্গে তার পরিবারের ৬ জন সদস্য পালানো শুরু করেন। কিন্তু এখন তার পরিবারের মাত্র ৩ জন সদস্যই বেঁচে আছেন। তার স্বামী ও ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আরেক ছেলে নিখোঁজ। ১০ বছরের অধিক বয়সের কোনো ছেলে শিশু পেলেই সামরিক বাহিনী তাদের হত্যা করছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী নাসিমা খাতুন বলেন, সহিংসতা না থামা পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। প্রাণ বাঁচাতে সব কিছু ছেড়ে এসেছি। এখন আমরা কিভাবে ফিরে যাব। ফিরে গেলেই তো তারা আমাদেরকে মেরে ফেলবে।

এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ১২৫০টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৯ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬শ’জনকে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

মিয়ানমারে অবাধে চলছে শিশুহত্যা ও গণধর্ষণ

আপডেট টাইম : ০৫:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৬

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপরে হত্যা, ধর্ষণ আর নিপীড়ন চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গা শিশুদের দেখলেই গুলি করে হত্যা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সুন্দরী নারীদের দেখলেই করছে গণধর্ষণ। খবর সিএনএনের।

তাদের নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা চলছে।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছেন, কিভাবে সেনাবাহিনীর হাতে তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা জানান, সৈন্যরা রোহিঙ্গা কোনো নারী দেখলে পানি খাওয়ার নাম করে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। যাদের নেই কোনো দেশ, জাতিগত স্বীকৃতি।
কক্সবাজারের কুতুপালংএ অবস্থান করা রোহিঙ্গা শরনার্থী লালু বেগম জানিয়েছেন, তারা মধ্যরাতে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে তারা সেনাবিহানীর নজর এড়িয়ে নাফ নদীর তীরে পৌঁছেছেন। এরপর নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন।
রোহিঙ্গা নারী বেগম বলেন, তাদের পুরো গ্রামটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর একসঙ্গে তার পরিবারের ৬ জন সদস্য পালানো শুরু করেন। কিন্তু এখন তার পরিবারের মাত্র ৩ জন সদস্যই বেঁচে আছেন। তার স্বামী ও ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আরেক ছেলে নিখোঁজ। ১০ বছরের অধিক বয়সের কোনো ছেলে শিশু পেলেই সামরিক বাহিনী তাদের হত্যা করছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী নাসিমা খাতুন বলেন, সহিংসতা না থামা পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। প্রাণ বাঁচাতে সব কিছু ছেড়ে এসেছি। এখন আমরা কিভাবে ফিরে যাব। ফিরে গেলেই তো তারা আমাদেরকে মেরে ফেলবে।

এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ১২৫০টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৯ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬শ’জনকে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।