ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আইন নিষিদ্ধ হচ্ছে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৪ বার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধ প্রবেশের সুযোগে বাধা পাচ্ছে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ। কেউ কেউ অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার সরকার কড়া আইন জারি করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মেটাকে ১৬ বছরের নিচে যত অ্যাকাউন্ট আছে তা নিষিদ্ধ করতে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে দেশটির সরকার।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। তবে তারা দেশটিতে ১৬ বছরের নিচে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মেটা বলেছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মাঝেই কাজ শেষ করবে।

অস্ট্রেলিয়া বলছে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৬ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরিয়ে ফেলতে হবে মেটাকে। অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে টেক প্রতিষ্ঠানটিকে।

মেটা সেই হুঁশিয়ারি মাথায় রেখেই কাজ করছে। মেটা জানিয়েছে, তারা আইন কার্যকর হওয়ার আগেই কিশোর ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো শুরু করবে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আজ থেকে, মেটা ১৩-১৫ বছর বয়সি বলে যাদেরকে শনাক্ত হচ্ছে, সেই অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীদের জানানো হবে যে, তারা ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস এবং ফেসবুক ব্যবহারের অধিকার হারাতে যাচ্ছে।’

মেটা বলছে, ‘৪ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের নিচে নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার পথ বন্ধ করবে এবং যত অ্যাকাউন্ট আছে তার অ্যাক্সেস বাতিল করবে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব পরিচিত অপ্রাপ্তবয়স্ককে সরিয়ে ফেলার আশা করছে মেটা।’

অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সমালোচনা করে মেটা বলছে, ‘কিশোরদের তাদের বন্ধুদের ও কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা কোনো সমাধান নয়।’ তবে যখন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারীরকারীর বয়স ১৬ বছর হবে তখন আবারও সেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই উদ্বেগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে দেশটিতে। প্রস্তাবিত আইনের কঠোর সমালোচনা করেছে অস্ট্রেলিয়ায় শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বৃহত্তম সংস্থা ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান চাইল রাইটস টাস্কফোর্স’।

তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, এই আইনের উদ্দেশ্য অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি কমানো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আইন নিষিদ্ধ হচ্ছে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধ প্রবেশের সুযোগে বাধা পাচ্ছে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ। কেউ কেউ অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার সরকার কড়া আইন জারি করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মেটাকে ১৬ বছরের নিচে যত অ্যাকাউন্ট আছে তা নিষিদ্ধ করতে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে দেশটির সরকার।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। তবে তারা দেশটিতে ১৬ বছরের নিচে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মেটা বলেছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মাঝেই কাজ শেষ করবে।

অস্ট্রেলিয়া বলছে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৬ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরিয়ে ফেলতে হবে মেটাকে। অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে টেক প্রতিষ্ঠানটিকে।

মেটা সেই হুঁশিয়ারি মাথায় রেখেই কাজ করছে। মেটা জানিয়েছে, তারা আইন কার্যকর হওয়ার আগেই কিশোর ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো শুরু করবে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আজ থেকে, মেটা ১৩-১৫ বছর বয়সি বলে যাদেরকে শনাক্ত হচ্ছে, সেই অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীদের জানানো হবে যে, তারা ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস এবং ফেসবুক ব্যবহারের অধিকার হারাতে যাচ্ছে।’

মেটা বলছে, ‘৪ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের নিচে নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার পথ বন্ধ করবে এবং যত অ্যাকাউন্ট আছে তার অ্যাক্সেস বাতিল করবে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব পরিচিত অপ্রাপ্তবয়স্ককে সরিয়ে ফেলার আশা করছে মেটা।’

অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সমালোচনা করে মেটা বলছে, ‘কিশোরদের তাদের বন্ধুদের ও কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা কোনো সমাধান নয়।’ তবে যখন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারীরকারীর বয়স ১৬ বছর হবে তখন আবারও সেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই উদ্বেগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে দেশটিতে। প্রস্তাবিত আইনের কঠোর সমালোচনা করেছে অস্ট্রেলিয়ায় শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বৃহত্তম সংস্থা ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান চাইল রাইটস টাস্কফোর্স’।

তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, এই আইনের উদ্দেশ্য অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি কমানো।