হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক কমলা রানীর দীঘি, যা স্থানীয়ভাবে সাগর দীঘি নামেও পরিচিত। এ দীঘি শুধু একটি জলাধার নয়— এটি এক অনন্য কাহিনি, ইতিহাস, প্রেম ও ত্যাগের প্রতীক।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীতে রাজা পদ্মনাভ তাঁর প্রজাদের জলকষ্ট দূর করতে এই দীঘি খনন করেন। কিন্তু দীঘি খননের পরও তাতে পানি উঠছিল না। এতে রাজা গভীর উদ্বেগে পড়েন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে আদেশ পান— যদি তাঁর স্ত্রী রাণী কমলাবতী আত্মবিসর্জন দেন, তবে দীঘিতে পানি উঠবে।
রাজা স্বপ্নের কথাটি রাণীকে জানালে রাণী প্রজাদের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হন। আত্মবিসর্জনের পরপরই দীঘিটি জলে ভরে ওঠে। সেই থেকেই এই দীঘির নাম হয় ‘কমলা রানীর দীঘি’।
আজও এই দীঘি বানিয়াচংয়ের মানুষের গর্ব ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই দীঘির চারপাশে আছে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে এটি এখন এক জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য।
উল্লেখ্য, বানিয়াচং নিজেই এক বিস্ময়— এটি এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম, যেখানে চারটি ইউনিয়ন পরিষদ মিলে গঠিত একটি বৃহৎ গ্রাম। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জনপদে প্রতিদিনই ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের ভ্রমণপ্রেমীরা।
সময় পেলে একদিন ঘুরে যান হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে। ইতিহাস, প্রকৃতি আর ভালোবাসার গল্প— সব একসঙ্গে পাবেন কমলা রানীর দীঘির জলে, মাটিতে আর বাতাসে।
Reporter Name 

























