বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি হলে নির্বাচনের সংশয় কেটে যাবে।’
গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি উঠে আসে।
এখন তো অন্তর্বর্তী সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে পার্থক্য কী? তাহলে কী হতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় যেটা বুঝেছি উনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাননি। অন্তর্বর্তী সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে সেটা বলেছেন। তাঁরা আমাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা চেয়েছেন।
আমরা উনাদের বলেছি, আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকাই পালন করছি। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জন্য এমনকি প্রধান উপদেষ্টা এই নিশ্চয়তাও দিয়েছেন, জনপ্রশাসন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বড় বদলির ব্যাপারটা উনি নিজে দেখবেন।তবে কি নির্বাচনের সময় এই উপদেষ্টা পরিষদ ছোট হবে? জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এ ধরনের কথা কোথাও আলোচনা হয়নি। এটা উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার বিষয়।
নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে কি না এ ধরনের কোনো দাবিও কোনো মহল থেকে উত্থাপন করা হয়নি।’ একজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কমেন্ট করার মতো জায়গায় নেই। আমি জনপ্রশাসনের দায়িত্বে নেই।’জনপ্রশাসনের নিয়োগ-বদলি দলীয়ভাবে হয়, সে জন্য কি এই (প্রধান উপদেষ্টার নিবিড় তদারকি) প্রসঙ্গটি এসেছে? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমরা মনে করি না দলীয়ভাবে হয়।
আমাদের বিরুদ্ধে সব দলই অভিযোগ করে। এক দল বলে ওই দলের লোক আছে, আরেক দল বলে এই দলের লোক আছে। যেহেতু সব দলই অভিযোগ করে অন্য দলের লোক আছে, তার মানে হচ্ছে আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছি।’ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে কেন আস্থা তৈরি হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষের মাঝে আস্থার অভাব আছে কি না আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে রকম অনৈক্য থাকে, তারা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে যেভাবে বলে, ওটার কারণে হয়তো। তবে আমার ধারণা, যখন আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি দেখব, এসব সংশয় খুব দ্রুত কেটে যাবে আশা করি।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত প্রশংসার বলে মনে করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। মামলার আসামি হিসেবে তাঁদের কোথায় রাখা হবে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় বলেও তিনি জানান। আসিফ নজরুল বলেন, ‘আজ (গতকাল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে সেনা সদস্যরা যেভাবে এসেছেন বা যেভাবে উনাদের নিয়ে আসা হয়েছে, এখানে সেনা প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সেনাপ্রধান, উনারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন এটা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। তাঁরা আইনের শাসনের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন এটা আমরা খুব পজিটিভলি (ইতিবাচকভাবে) দেখছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সাবজেলে কেন রাখা হয়েছে বা উনাদের কোথায় রাখা হবে এটা সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভুক্ত বিষয়। উনারা যেটা প্রয়োজন, যেটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট মনে করবেন এটা উনারা করবেন। এটার জবাব দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’