ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণহত্যা মামলা আজ শেখ হাসিনার আইনজীবীর জেরার মুখে শেষ সাক্ষী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৯ বার

গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আজ জেরা করবেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এই জেরা অনুষ্ঠিত হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে।

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই জেরা কার্যক্রম হবে।

আগের শুনানিতে, আলমগীর গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন। তিনি এই মামলার ৫৪তম বা সর্বশেষ সাক্ষী। তাঁর জবানবন্দিতে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড ও ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল জেরার জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।

ওইদিন, প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

তদন্ত কর্মকর্তা ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। সেদিন তিনি বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি তাঁর জব্দ করা জুলাই আন্দোলনের নৃশংসতা নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন প্রদর্শন করা হয় ট্রাইব্যুনালে। এছাড়া তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি তাঁর জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর তিন লাখ পাঁচ হাজার গুলি ছোড়া হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এছাড়াও বিবিসি, আল-জাজিরা, আমার দেশে প্রচারিত প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীরের জবানবন্দি শুরু হয় ২৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন তাঁর জব্দকৃত ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শিত হয়। এসব ভিডিওতে জুলাই-আগস্ট মাসের নিষ্ঠুর চিত্র ফুটে ওঠে। সব মিলিয়ে ২৫ কার্যদিবসে শেখ হাসিনার মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। শেষ সাক্ষীর জেরা শেষ হলেই মামলা যুক্তিতর্ক ও রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার ২২তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। পরে আমির হোসেন তাকে জেরা করেন।

মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি নিজের দায় স্বীকার করে আগেই হয়েছেন রাজসাক্ষী। এছাড়াও, বিভিন্ন সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসবের জন্য শেখ হাসিনা, কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। এই মামলায় ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণহত্যা মামলা আজ শেখ হাসিনার আইনজীবীর জেরার মুখে শেষ সাক্ষী

আপডেট টাইম : ১০:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আজ জেরা করবেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এই জেরা অনুষ্ঠিত হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে।

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই জেরা কার্যক্রম হবে।

আগের শুনানিতে, আলমগীর গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন। তিনি এই মামলার ৫৪তম বা সর্বশেষ সাক্ষী। তাঁর জবানবন্দিতে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড ও ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল জেরার জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।

ওইদিন, প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

তদন্ত কর্মকর্তা ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। সেদিন তিনি বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি তাঁর জব্দ করা জুলাই আন্দোলনের নৃশংসতা নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন প্রদর্শন করা হয় ট্রাইব্যুনালে। এছাড়া তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি তাঁর জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর তিন লাখ পাঁচ হাজার গুলি ছোড়া হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এছাড়াও বিবিসি, আল-জাজিরা, আমার দেশে প্রচারিত প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীরের জবানবন্দি শুরু হয় ২৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন তাঁর জব্দকৃত ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শিত হয়। এসব ভিডিওতে জুলাই-আগস্ট মাসের নিষ্ঠুর চিত্র ফুটে ওঠে। সব মিলিয়ে ২৫ কার্যদিবসে শেখ হাসিনার মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। শেষ সাক্ষীর জেরা শেষ হলেই মামলা যুক্তিতর্ক ও রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার ২২তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। পরে আমির হোসেন তাকে জেরা করেন।

মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি নিজের দায় স্বীকার করে আগেই হয়েছেন রাজসাক্ষী। এছাড়াও, বিভিন্ন সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসবের জন্য শেখ হাসিনা, কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। এই মামলায় ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।