ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সাগর-রুনি হত্যা ‎তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ ‎আদালতের, আপ্রাণ চেষ্টার তাগিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৩৬ বার

‎সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে তদন্ত কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ‎একই সঙ্গে আদালতকে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানানোর জন্য কর্মকর্তার হাজির হওয়ার দিনও ঠিক ছিল।

‎ ‎এদিন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল আদালতে উপস্থিত হন।পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মামলার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।

‎‎আদালত তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুলের কাছে বিচারক ঢাকার মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান জানতে চান, তিনি সিআইডিতে আছেন কি না? আজিজুল আদালতকে জানায়, তিনি পিবিআইতে আছেন।

‎‎এরপর আদালত জানতে চান মামলা তদন্তের অগ্রগতি কতদূর? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এরপর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তদন্তের। আমি এই মামলা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও ডিএনএ এক্সপার্টদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘‎দুজনের মিক্সড ডিএনএ তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এসব কারণে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে।’

‎‎এ সময় বিচারক বলেন, যা বুঝলাম। আগের এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যিনি ছিলেন তিনিও একই কথা বলেছেন। আপনার তদন্তের অগ্রগতিতে আদালত অসন্তুষ্ট, আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

‎‎এদিকে এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ৩০ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলে ১২১ বার সময় দিলেন আদালত।

‎‎এ মামলার আসামিরা হলেন-রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন। অপর আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।

‎‎২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

‎‎প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন-ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি।

পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

সাগর-রুনি হত্যা ‎তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ ‎আদালতের, আপ্রাণ চেষ্টার তাগিদ

আপডেট টাইম : ০৬:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‎সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে তদন্ত কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ‎একই সঙ্গে আদালতকে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানানোর জন্য কর্মকর্তার হাজির হওয়ার দিনও ঠিক ছিল।

‎ ‎এদিন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল আদালতে উপস্থিত হন।পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মামলার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।

‎‎আদালত তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুলের কাছে বিচারক ঢাকার মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান জানতে চান, তিনি সিআইডিতে আছেন কি না? আজিজুল আদালতকে জানায়, তিনি পিবিআইতে আছেন।

‎‎এরপর আদালত জানতে চান মামলা তদন্তের অগ্রগতি কতদূর? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এরপর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তদন্তের। আমি এই মামলা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও ডিএনএ এক্সপার্টদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘‎দুজনের মিক্সড ডিএনএ তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এসব কারণে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে।’

‎‎এ সময় বিচারক বলেন, যা বুঝলাম। আগের এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যিনি ছিলেন তিনিও একই কথা বলেছেন। আপনার তদন্তের অগ্রগতিতে আদালত অসন্তুষ্ট, আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

‎‎এদিকে এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ৩০ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলে ১২১ বার সময় দিলেন আদালত।

‎‎এ মামলার আসামিরা হলেন-রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন। অপর আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।

‎‎২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

‎‎প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন-ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি।

পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।