ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

অবৈধ সম্পদের মামলা স্বাস্থ্যের ‎আলোচিত ঠিকাদার মিঠু কারাগারে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮৯ বার

স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট করে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে ৭৫ কোটি টাকার ‎অবৈধ সম্পদের মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

‎‎গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটল দায়ের করেন। পরে মিঠুকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎এদিন তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।

‎‎দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আর আসামির পক্ষে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানিতে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি কুচক্রী গ্রুপ তাকে ধ্বংস করতে মামলা করেছে। ২০১৫ সালেও দুদক তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করেছিল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকা থাকেন। তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ব্যাড ইনটেনশন থাকলে তিনি দেশে ফিরতেন না। তার স্ত্রীও আমেরিকা থাকেন, ক্যানসারে আক্রান্ত। দেশপ্রেম। থাকার কারণে কিন্তু তিনি দেশে ফিরেছেন। তাই তার জামিন মঞ্জুরের প্রার্থণা করছি।’

‎‎উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ১৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

‎মামলায় বলা হয়, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের কোম্পানির মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম (মিঠু) কৃষি জমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী মিলিয়ে তার আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ২৩৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

‎সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৮ টাকা।

‎‎মামলায় আরও বলা হয়, মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৪ টাকা। অর্থাৎ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ১৭২ টাকা।

‎২০১৬ সালে প্রকাশিত বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু।

‎অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

‎‎সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরসের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ মৃত্যুর আগে লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটার অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির মূল কারণ হল এই খাত ‘মিঠু চক্রের’ দখলে থাকা।

‎‎এ প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, দুদকসহ একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

অবৈধ সম্পদের মামলা স্বাস্থ্যের ‎আলোচিত ঠিকাদার মিঠু কারাগারে

আপডেট টাইম : ১১:০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট করে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে ৭৫ কোটি টাকার ‎অবৈধ সম্পদের মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

‎‎গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটল দায়ের করেন। পরে মিঠুকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎এদিন তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।

‎‎দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আর আসামির পক্ষে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানিতে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি কুচক্রী গ্রুপ তাকে ধ্বংস করতে মামলা করেছে। ২০১৫ সালেও দুদক তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করেছিল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকা থাকেন। তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ব্যাড ইনটেনশন থাকলে তিনি দেশে ফিরতেন না। তার স্ত্রীও আমেরিকা থাকেন, ক্যানসারে আক্রান্ত। দেশপ্রেম। থাকার কারণে কিন্তু তিনি দেশে ফিরেছেন। তাই তার জামিন মঞ্জুরের প্রার্থণা করছি।’

‎‎উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ১৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

‎মামলায় বলা হয়, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের কোম্পানির মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম (মিঠু) কৃষি জমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী মিলিয়ে তার আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ২৩৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

‎সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৮ টাকা।

‎‎মামলায় আরও বলা হয়, মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৪ টাকা। অর্থাৎ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ১৭২ টাকা।

‎২০১৬ সালে প্রকাশিত বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু।

‎অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

‎‎সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরসের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ মৃত্যুর আগে লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটার অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির মূল কারণ হল এই খাত ‘মিঠু চক্রের’ দখলে থাকা।

‎‎এ প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, দুদকসহ একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।