ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

সিদরাতুল মুনতাহা’ কী, এটি কোথায়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৮২ বার

ইসলামের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে কিছু শব্দ আছে, যেগুলো উচ্চারণ করলেই হৃদয় রহস্যময় আলোয় ভরে ওঠে। “সিদরাতুল মুনতাহা” তেমনই এক পরিভাষা।

কুরআনের সূরা আন-নাজমে আল্লাহ তাআলা এই মহিমান্বিত সত্তার উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা. মেরাজের রাতে পৌঁছেছিলেন সেই মহাবৃক্ষের কাছে, যার পাশে আছে জান্নাতুল মাওয়া।

মুফাসসিররা বলেন, সিদরাতুল মুনতাহা সপ্তম আসমানে অবস্থিত এক মহাবৃক্ষ, যেখানে গিয়ে থেমে যায় সব সৃষ্টির যাত্রা। ফেরেশতারা পর্যন্ত এর পরে আর অগ্রসর হতে পারে না।

রাসুলুল্লাহ সা. মেরাজের রাতে সেখানে পৌঁছেছিলেন বিশেষ মর্যাদায়, যা আর কারো জন্য নির্ধারিত হয়নি।

ইমাম নববী (রহ.) তার ব্যাখ্যায় লিখেছেন, সিদরাতুল মুনতাহা সেই সীমানা, যেখানে এসে থেমে যায় ফেরেশতাদের জ্ঞান, নবীদের যাত্রা এবং মানুষের কল্পনা। এর পরের জগত আল্লাহর অনন্ত মহিমা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এর নামকরণও অর্থবহ। ‘সিদরাহ’ মানে বড় বৃক্ষ, আর ‘মুনতাহা’ মানে সমাপ্তি। অর্থাৎ এটি সেই বৃক্ষ, যার কাছে এসে শেষ হয়ে যায় সব কিছুর গমন।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এখানে এসে সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞান সমাপ্ত হয়, এর পরে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, কেবল আল্লাহর জ্ঞানের অসীম ভাণ্ডার।

রাসুলুল্লাহ সা. এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এর পাতাগুলো হাতির কানসম বড়, আর ফলগুলো বিশাল পাত্রের মতো। সহিহ মুসলিমে এসেছে, যখন আল্লাহর নূর এটিকে আচ্ছন্ন করে, তখন এর সৌন্দর্য এমন হয়ে ওঠে যে কোনো সৃষ্টি তা বর্ণনা করতে সক্ষম নয়।

সিদরাতুল মুনতাহা শুধু আসমানি এক স্থান নয়; এটি প্রতীকও বটে। এটি সীমারেখার প্রতিচ্ছবি, যেখানে এসে মানুষ উপলব্ধি করে জ্ঞানেরও এক সীমা আছে, শক্তিরও এক সীমানা আছে। এরপর থাকে কেবল আল্লাহর সীমাহীন মহিমা।

মেরাজের রাত তাই আমাদের শেখায়, জীবনের সেরা উচ্চতাও আসলে সীমাবদ্ধ, আর সীমাহীন কেবল আল্লাহর সান্নিধ্য।

তথ্যসূত্র: সুরা আন-নাজমের আয়াত (১৩-১৮), সহিহ বুখারির ৩৪৯ নম্বর হাদিস, সহিহ মুসলিমের ১৬৪ নম্বর হাদিস, ইমাম নববীর শরহ মুসলিম এবং তাফসিরে ইবনে কাসির

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

সিদরাতুল মুনতাহা’ কী, এটি কোথায়

আপডেট টাইম : ১১:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইসলামের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে কিছু শব্দ আছে, যেগুলো উচ্চারণ করলেই হৃদয় রহস্যময় আলোয় ভরে ওঠে। “সিদরাতুল মুনতাহা” তেমনই এক পরিভাষা।

কুরআনের সূরা আন-নাজমে আল্লাহ তাআলা এই মহিমান্বিত সত্তার উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা. মেরাজের রাতে পৌঁছেছিলেন সেই মহাবৃক্ষের কাছে, যার পাশে আছে জান্নাতুল মাওয়া।

মুফাসসিররা বলেন, সিদরাতুল মুনতাহা সপ্তম আসমানে অবস্থিত এক মহাবৃক্ষ, যেখানে গিয়ে থেমে যায় সব সৃষ্টির যাত্রা। ফেরেশতারা পর্যন্ত এর পরে আর অগ্রসর হতে পারে না।

রাসুলুল্লাহ সা. মেরাজের রাতে সেখানে পৌঁছেছিলেন বিশেষ মর্যাদায়, যা আর কারো জন্য নির্ধারিত হয়নি।

ইমাম নববী (রহ.) তার ব্যাখ্যায় লিখেছেন, সিদরাতুল মুনতাহা সেই সীমানা, যেখানে এসে থেমে যায় ফেরেশতাদের জ্ঞান, নবীদের যাত্রা এবং মানুষের কল্পনা। এর পরের জগত আল্লাহর অনন্ত মহিমা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এর নামকরণও অর্থবহ। ‘সিদরাহ’ মানে বড় বৃক্ষ, আর ‘মুনতাহা’ মানে সমাপ্তি। অর্থাৎ এটি সেই বৃক্ষ, যার কাছে এসে শেষ হয়ে যায় সব কিছুর গমন।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এখানে এসে সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞান সমাপ্ত হয়, এর পরে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, কেবল আল্লাহর জ্ঞানের অসীম ভাণ্ডার।

রাসুলুল্লাহ সা. এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এর পাতাগুলো হাতির কানসম বড়, আর ফলগুলো বিশাল পাত্রের মতো। সহিহ মুসলিমে এসেছে, যখন আল্লাহর নূর এটিকে আচ্ছন্ন করে, তখন এর সৌন্দর্য এমন হয়ে ওঠে যে কোনো সৃষ্টি তা বর্ণনা করতে সক্ষম নয়।

সিদরাতুল মুনতাহা শুধু আসমানি এক স্থান নয়; এটি প্রতীকও বটে। এটি সীমারেখার প্রতিচ্ছবি, যেখানে এসে মানুষ উপলব্ধি করে জ্ঞানেরও এক সীমা আছে, শক্তিরও এক সীমানা আছে। এরপর থাকে কেবল আল্লাহর সীমাহীন মহিমা।

মেরাজের রাত তাই আমাদের শেখায়, জীবনের সেরা উচ্চতাও আসলে সীমাবদ্ধ, আর সীমাহীন কেবল আল্লাহর সান্নিধ্য।

তথ্যসূত্র: সুরা আন-নাজমের আয়াত (১৩-১৮), সহিহ বুখারির ৩৪৯ নম্বর হাদিস, সহিহ মুসলিমের ১৬৪ নম্বর হাদিস, ইমাম নববীর শরহ মুসলিম এবং তাফসিরে ইবনে কাসির