কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : আহযাব, আয়াত : ২১
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ كَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیۡرًا ﴿ؕ۲۱﴾
সরল অনুবাদ
(২১) অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে রাসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণের প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতাকে মূলনীতিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে উত্তম অনুপম আদর্শ রয়েছে।’
আয়াতে বলা হচ্ছে, হে মুসলিমগণ! তোমাদের জন্য রসুল (সা.)-এর ব্যক্তিত্বে উত্তম আদর্শ রয়েছে, অতএব তোমরা জীবনের সর্বত্র তাঁরই অনুসরণ করো।
উক্ত আয়াত যদিও আহযাব যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে যুদ্ধের সময় বিশেষভাবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে সামনে রাখা ও তাঁর অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি একটি ব্যাপক আদেশ। অর্থাৎ নবী (সা.)-এর সব কথা, কাজ ও অবস্থাতে মুসলিমের জন্য তাঁর অনুসরণ আবশ্যক। তা ইবাদত সম্পর্কিত হোক বা সমাজ সম্পর্কিত, জীবিকা সম্পর্কিত হোক বা রাজনীতি সম্পর্কিত, জীবনের সব ক্ষেত্রে তাঁরই নির্দেশ পালন করা একান্ত কর্তব্য।
(ومَآاََتَكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ ) সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াত এবং (اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ) সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতের দাবিও তাই।এই আয়াতে এটাও পরিষ্কার যে রাসুল (সা.)-এর আদর্শে ওই ব্যক্তি আদর্শবান হবে, যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বাসী এবং যে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান উক্ত দুই গুণ থেকে বঞ্চিত। যার ফলে তাদের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শের কোনো গুরুত্ব নেই।
আজকের দিনে মুসলিম সমাজের অনেকেই নিজে নিজ ভালো লাগা পীর ও রাজনৈতিক নেতাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসার কথা এরা মুখে খুব দাবি করে, কিন্তু কার্যত তাঁকে নিজেদের আদর্শ, নেতা ও পথপ্রদর্শক মানার ব্যাপারে অধিকাংশই পেছনে। সুতরাং এ দ্বিচারিতার প্রাপ্য যথাসময়ে সবাইকে ভোগ করতে হবে।