ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবতার সেবায় মহানবী (সা.)-১

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১২৪ বার

আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সমস্ত উত্তম গুণের অধিকারী। শুধুমাত্র মুসলিম জাতিই নয়, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ তাঁর আদর্শ ও গুণাবলির অনুসরণ করে জীবনে শান্তি, শৃংখলা ও কল্যাণ লাভ করতে পারে। পরকালীন মুক্তি ও সাফল্য নিহিত আছে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর পূর্ণ ঈমান এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক আনীত বিধি-বিধান অনুসরণের মধ্যে। বিশ্ব সভ্যতায় দেশপ্রেম, জনকল্যাণ ও আর্তমানবতার সেবার যত ধারণা রয়েছে এর প্রায় সবই উৎসারিত হয়েছে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর মহান সাহাবাগণের শিক্ষা, আদর্শ, গুণাবলি, উত্তম আচরণ থেকে। মহান আল্লাহ প্রদত্ত অনন্য সৌন্দর্য, অনুপম চরিত্রমাধুর্র্য্য ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের পরিপূর্ণতায় তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

মানুষের মর্যাদা-অধিকার, চাহিদা-প্রয়োজন ও দুঃখ কষ্টের বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে আগমন করেননি। কেবল বাণী-বক্তৃতায় নয়, বাস্তবেও তিনি অসহায়, দুস্থ, দুর্গত মানুষের প্রতি সাহায্য সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বিশে^র বুকে স্থাপন করে গিয়েছেন। তাঁর মহান কীর্তি ও অবদানের স্বীকৃতি ও প্রশংসা পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা দান করেছেন।

‘অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট এক রাসূল আগমন করেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের প্রতি আগ্রহী কল্যাণকারী। মুমিনদের প্রতি তিনি দয়াদ্র ও বিশেষ দয়ালু।’ (সূরা তাওবাহÑ১২৮)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেনÑ ‘তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে, তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র উত্তম বস্তুত হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে সমস্ত বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দিত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর অর্গল হয়ে বিদ্যমান ছিল।’ (সূরা আরাফÑ১৫৮)

মহানবী (সা.)-এর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, দানশীলতা, দুস্থ মানুষের সেবা, ছিন্নমূলদের পুনর্বাসন, অতিথিপরায়ণতা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বৈশিষ্ট ও মহৎ গুণাবলির কথা বিশ^বাসীর সামনে সর্বপ্রথম তাঁর স্ত্রী হযরত খাদীজা (রা.) ঘোষণা করেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মহানবী (সা.) অস্থিরতায় শারীরিক ও মানসিকভাবে যখন কিছুটা বিচলিত তখন তাঁকে সাহস দান ও দৃঢ়চিত্ত করার জন্য উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা (রা.) বলেছিলেন, ‘না! কখনও নয়, কসম আল্লাহর, আল্লাহ আপনাকে কোনো দিন লজ্জিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখেন, ছিন্নমূলদের ভার বহন করেন, কর্মহীনকে কাজ দেন, অতিথি আপ্যায়নতা করেন এবং সত্যের পথে সমর্থন-সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।’ (সহিহ বুখারি-৩)

মহানবী (সা.) তাঁর নবুওয়াত লাভের আগে ও পরে সমাজের বিধবা, ইয়াতীম ও অসহায়দের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতেন। সামাজিক ও সরকারিভাবে যতো অর্থ-সম্পদ বায়তুল মালে আসতো তা হকদারদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার জন্য তিনি অস্থির ও উদ্বিগ্ন থাকতেন। তিনি বলেন, বিধবা ও অসহায় মিসকীনের জন্য চেষ্টা সাধনাকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথের মুজাহিদের মতই। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেনÑ ওই রাত জাগরণকারীর মতো, যে এতে বিরতি দেয় না এবং ওই রোযা পালনকারীর মতো, যে অব্যাহতভাবে রোযা রেখে যায়। (বুখারি ও মুসলিম)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মানবতার সেবায় মহানবী (সা.)-১

আপডেট টাইম : ১১:১৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সমস্ত উত্তম গুণের অধিকারী। শুধুমাত্র মুসলিম জাতিই নয়, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ তাঁর আদর্শ ও গুণাবলির অনুসরণ করে জীবনে শান্তি, শৃংখলা ও কল্যাণ লাভ করতে পারে। পরকালীন মুক্তি ও সাফল্য নিহিত আছে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর পূর্ণ ঈমান এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক আনীত বিধি-বিধান অনুসরণের মধ্যে। বিশ্ব সভ্যতায় দেশপ্রেম, জনকল্যাণ ও আর্তমানবতার সেবার যত ধারণা রয়েছে এর প্রায় সবই উৎসারিত হয়েছে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর মহান সাহাবাগণের শিক্ষা, আদর্শ, গুণাবলি, উত্তম আচরণ থেকে। মহান আল্লাহ প্রদত্ত অনন্য সৌন্দর্য, অনুপম চরিত্রমাধুর্র্য্য ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের পরিপূর্ণতায় তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

মানুষের মর্যাদা-অধিকার, চাহিদা-প্রয়োজন ও দুঃখ কষ্টের বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে আগমন করেননি। কেবল বাণী-বক্তৃতায় নয়, বাস্তবেও তিনি অসহায়, দুস্থ, দুর্গত মানুষের প্রতি সাহায্য সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বিশে^র বুকে স্থাপন করে গিয়েছেন। তাঁর মহান কীর্তি ও অবদানের স্বীকৃতি ও প্রশংসা পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা দান করেছেন।

‘অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট এক রাসূল আগমন করেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের প্রতি আগ্রহী কল্যাণকারী। মুমিনদের প্রতি তিনি দয়াদ্র ও বিশেষ দয়ালু।’ (সূরা তাওবাহÑ১২৮)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেনÑ ‘তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে, তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র উত্তম বস্তুত হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে সমস্ত বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দিত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর অর্গল হয়ে বিদ্যমান ছিল।’ (সূরা আরাফÑ১৫৮)

মহানবী (সা.)-এর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, দানশীলতা, দুস্থ মানুষের সেবা, ছিন্নমূলদের পুনর্বাসন, অতিথিপরায়ণতা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বৈশিষ্ট ও মহৎ গুণাবলির কথা বিশ^বাসীর সামনে সর্বপ্রথম তাঁর স্ত্রী হযরত খাদীজা (রা.) ঘোষণা করেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মহানবী (সা.) অস্থিরতায় শারীরিক ও মানসিকভাবে যখন কিছুটা বিচলিত তখন তাঁকে সাহস দান ও দৃঢ়চিত্ত করার জন্য উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা (রা.) বলেছিলেন, ‘না! কখনও নয়, কসম আল্লাহর, আল্লাহ আপনাকে কোনো দিন লজ্জিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখেন, ছিন্নমূলদের ভার বহন করেন, কর্মহীনকে কাজ দেন, অতিথি আপ্যায়নতা করেন এবং সত্যের পথে সমর্থন-সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।’ (সহিহ বুখারি-৩)

মহানবী (সা.) তাঁর নবুওয়াত লাভের আগে ও পরে সমাজের বিধবা, ইয়াতীম ও অসহায়দের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতেন। সামাজিক ও সরকারিভাবে যতো অর্থ-সম্পদ বায়তুল মালে আসতো তা হকদারদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার জন্য তিনি অস্থির ও উদ্বিগ্ন থাকতেন। তিনি বলেন, বিধবা ও অসহায় মিসকীনের জন্য চেষ্টা সাধনাকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথের মুজাহিদের মতই। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেনÑ ওই রাত জাগরণকারীর মতো, যে এতে বিরতি দেয় না এবং ওই রোযা পালনকারীর মতো, যে অব্যাহতভাবে রোযা রেখে যায়। (বুখারি ও মুসলিম)