ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অজুতে কোনো অঙ্গ শুকনো থেকে গেলে করণীয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ বার

অজুর সময় কোনো অঙ্গ বা কোনো অঙ্গের একাংশ শুকনো থেকে যায়, তাহলে পরবর্তীতে সেটা বুঝতে পারার পর শুধু ওই অঙ্গ বা ওই অংশটুকু ধুয়ে নিলে ওজু সম্পন্ন হয়ে যাবে। শুধু ওই অংশ শুকনো থাকার কারণে নতুন করে অজু করতে হবে না। উবাইদ ইবনে উমাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَأَى رَجُلاً فِي رِجْلِهِ لُمْعَةٌ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ حِينَ يَطَّهَّرُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: بِهَذَا الْوُضُوءِ تَحْضُرُ الصَّلاَةَ؟ وَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ اللُّمْعَةَ وَيُعِيدَ الصَّلاَةَ

ওমর (রা.) একবার এক লোককে দেখতে পেলেন, ওজুতে তার পায়ের একটি অংশ শুকনো থেকে গেছে। তাকে বললেন, এমন অসম্পূর্ণ ওজু নিয়েই নামাজ পড়তে চলে এসেছ? তখন তিনি তাকে সেই শুকনো অংশটি ধুয়ে পুনরায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

অজুর ফরজ কাজ চারটি। পুরো চেহারা ধোয়া, উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধোয়া। অজুর এ চারটি ফরজের কথা কোরআনে এসেছে। আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قُمۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ فَاغۡسِلُوۡا وُجُوۡهَکُمۡ وَ اَیۡدِیَکُمۡ اِلَی الۡمَرَافِقِ وَ امۡسَحُوۡا بِرُءُوۡسِکُمۡ وَ اَرۡجُلَکُمۡ اِلَی الۡکَعۡبَیۡنِ

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসাহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। (সুরা মায়েদা: ৬)

অজুতে ধৌত করার তিন অঙ্গ অর্থাৎ চেহারা, কুুনুই পর্যন্ত হাত ও টাখনু পর্যন্ত পা পরিপূর্ণরূপে ধোয়া ফরজ। পায়ের গোড়ালি, হাতের কুনুই, হাত ও পায়ের আঙুলসহ যে সব জায়গা শুকনো থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তা ভালো করে ধুতে হবে। চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় এমন কিছু লেগে থাকলে তা সরাতে হবে। কারণ আল্লাহ অজুর জন্য যে অঙ্গগুলো ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তা পরিপূর্ণরূপে ধোয়া ছাড়া অজু শুদ্ধ হয় না।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আমরা আসরের নামাজ শুরু করতে দেরি করে ফেলেছিলাম। তিনি যখন আমাদের কাছে পৌঁছলেন, আমরা অজু করছিলাম এবং তাড়াহুড়ার কারণে আমাদের পা মাসেহ করার মত হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসুল (সা.) উচ্চৈস্বরে বললেন,

وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ من النَّار أَسْبغُوا الْوضُوء

সর্বনাশ! (শুকনো) গোড়ালির লোকেরা জাহান্নামে যাবে, তোমরা পূর্ণরূপে অজু কর। (সহিহ মুসলিম)

আরেকটি বর্ণনায় লাকিত ইবনে সাবিরাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললাম, আমাকে অজু সম্পর্কে বলুন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,

أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا

অজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি রোজাদার না হও। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪২)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অজুতে কোনো অঙ্গ শুকনো থেকে গেলে করণীয়

আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অজুর সময় কোনো অঙ্গ বা কোনো অঙ্গের একাংশ শুকনো থেকে যায়, তাহলে পরবর্তীতে সেটা বুঝতে পারার পর শুধু ওই অঙ্গ বা ওই অংশটুকু ধুয়ে নিলে ওজু সম্পন্ন হয়ে যাবে। শুধু ওই অংশ শুকনো থাকার কারণে নতুন করে অজু করতে হবে না। উবাইদ ইবনে উমাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَأَى رَجُلاً فِي رِجْلِهِ لُمْعَةٌ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ حِينَ يَطَّهَّرُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: بِهَذَا الْوُضُوءِ تَحْضُرُ الصَّلاَةَ؟ وَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ اللُّمْعَةَ وَيُعِيدَ الصَّلاَةَ

ওমর (রা.) একবার এক লোককে দেখতে পেলেন, ওজুতে তার পায়ের একটি অংশ শুকনো থেকে গেছে। তাকে বললেন, এমন অসম্পূর্ণ ওজু নিয়েই নামাজ পড়তে চলে এসেছ? তখন তিনি তাকে সেই শুকনো অংশটি ধুয়ে পুনরায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

অজুর ফরজ কাজ চারটি। পুরো চেহারা ধোয়া, উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধোয়া। অজুর এ চারটি ফরজের কথা কোরআনে এসেছে। আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قُمۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ فَاغۡسِلُوۡا وُجُوۡهَکُمۡ وَ اَیۡدِیَکُمۡ اِلَی الۡمَرَافِقِ وَ امۡسَحُوۡا بِرُءُوۡسِکُمۡ وَ اَرۡجُلَکُمۡ اِلَی الۡکَعۡبَیۡنِ

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসাহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। (সুরা মায়েদা: ৬)

অজুতে ধৌত করার তিন অঙ্গ অর্থাৎ চেহারা, কুুনুই পর্যন্ত হাত ও টাখনু পর্যন্ত পা পরিপূর্ণরূপে ধোয়া ফরজ। পায়ের গোড়ালি, হাতের কুনুই, হাত ও পায়ের আঙুলসহ যে সব জায়গা শুকনো থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তা ভালো করে ধুতে হবে। চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় এমন কিছু লেগে থাকলে তা সরাতে হবে। কারণ আল্লাহ অজুর জন্য যে অঙ্গগুলো ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তা পরিপূর্ণরূপে ধোয়া ছাড়া অজু শুদ্ধ হয় না।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আমরা আসরের নামাজ শুরু করতে দেরি করে ফেলেছিলাম। তিনি যখন আমাদের কাছে পৌঁছলেন, আমরা অজু করছিলাম এবং তাড়াহুড়ার কারণে আমাদের পা মাসেহ করার মত হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসুল (সা.) উচ্চৈস্বরে বললেন,

وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ من النَّار أَسْبغُوا الْوضُوء

সর্বনাশ! (শুকনো) গোড়ালির লোকেরা জাহান্নামে যাবে, তোমরা পূর্ণরূপে অজু কর। (সহিহ মুসলিম)

আরেকটি বর্ণনায় লাকিত ইবনে সাবিরাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললাম, আমাকে অজু সম্পর্কে বলুন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,

أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا

অজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি রোজাদার না হও। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪২)