ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭১ বার
স্ত্রীকে মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করাকে ইসলামে ‘জিহার’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে : ‘তুমি আমার জন্য হারাম, যেমন আমার মা আমার জন্য হারাম’ কিংবা ‘আমার বোন আমার জন্য হারাম’ অথবা এজাতীয় বাক্য বলা। জাহেলি যুগে এভাবে স্ত্রীকে তুলনা করা হতো। এই জিহার প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে এসেছে—‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার (মায়ের মতো হারাম বলে ঘোষণা করে) করে, তাদের স্ত্রীরা তাদের মাতা নয়।

তাদের মা তো কেবল তারাই, যারা তাদের জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।’(সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ২)

ইসলামের চোখে ‘জিহার’ একটি অন্যায় আচরণ এবং হারাম কাজ।

কেননা নিজের স্ত্রীকে এমন নারীদের সঙ্গে তুলনা করা, যাদের বিবাহ করা তার জন্য হারাম; তা একটি গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ। কেউ এমনটি করলে তার জন্য কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। কাফফারা আদায়ের আগে স্বামী-স্ত্রী মিলন হারাম।তবে লক্ষণীয় ও স্মরণীয় যে যদি (জাহেলি যুগের মতো) ‘হারাম’ জাতীয় শব্দ না বলে ভিন্ন উদ্দেশ্যে তুলনা করা হয়, যেমন—কেউ বলল, আমার স্ত্রীর আকৃতি, গুণ বা সেবার দিক থেকে মায়ের মতো অথবা স্বাভাবিক কথা ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে যদি এই তুলনা করা হয়, তাহলে তা জিহার বলে গণ্য হবে না, এবং কাফফারাও দিতে হবে না।

(হেদায়া : ২/২৬৫)জিহারের কাফফারা কী?

জিহারের কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার করে ফেলে, অতঃপর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসকে মুক্তি দেবে। এটা তোমাদের জন্য উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা করো। যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করাবে…।

(সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ৩-৪)

অর্থাৎ জিহারের কাফফারা হলো—

১. একটি দাস মুক্ত করা।

২. এটি সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা থাকা। ঈদ উপলক্ষে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলোতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর ঈদে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলো অতিবাহিত হলে যথারীতি রোজা রাখা শুরু করবে।

৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন দরিদ্র-অসহায় মানুষকে এক বেলা খাবার খাওয়ানো অথবা খাদ্যদ্রব্য দান করা। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৭৭)

স্ত্রীকে মা-বোন বলে সম্বোধন করা

স্বামী তার স্ত্রীকে মা-বোন বা এ ধরনের বাক্য দ্বারা সম্বোধন করা কিংবা স্ত্রী তার স্বামীকে বাবা বলে সম্বোধন করা মাকরুহ ও গুনাহ। তবে এর দ্বারা জিহার বা তালাক কার্যকর হবে না, তাই এতে স্ত্রী হারাম হবে না। একে অন্যকে ছেলে-মেয়ে বা সন্তান হিসেবে সম্বোধন করার বিধানও অনুরূপ। (ফাতহুল কদির : ৪/৯১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫০৭)

হাদিস শরিফে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘হে বোন’! বলে সম্বোধন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বললেন : সে কি তোমার বোন? অর্থাৎ তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং এভাবে বলতে নিষেধ করলেন।

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২২১০ ও ২২১১)

স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম ঘোষণা করার বিধান

কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তার মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা না করে সাধারণভাবে হারাম ঘোষণা করে; যেমন—সে বলল, ‘তুমি আমার জন্য হারাম।’ অথবা স্ত্রীকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি যদি এ কাজ করো তাহলে তুমি আমার জন্য হারাম’, আর এতে যদি জিহারের নিয়ত করে, তাহলে জিহার বলে গণ্য হবে এবং কাফ্ফারা দিতে হবে। আর যদি উক্ত শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত করে অথবা কোনো নিয়তই না করে, তাহলে এক তালাকে বায়েন কার্যকর হবে, তাই এ অবস্থায় নতুন সূত্রে বিবাহ করা ছাড়া সংসার করা বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৩/২৫২)

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা

আপডেট টাইম : ১০:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
স্ত্রীকে মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করাকে ইসলামে ‘জিহার’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে : ‘তুমি আমার জন্য হারাম, যেমন আমার মা আমার জন্য হারাম’ কিংবা ‘আমার বোন আমার জন্য হারাম’ অথবা এজাতীয় বাক্য বলা। জাহেলি যুগে এভাবে স্ত্রীকে তুলনা করা হতো। এই জিহার প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে এসেছে—‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার (মায়ের মতো হারাম বলে ঘোষণা করে) করে, তাদের স্ত্রীরা তাদের মাতা নয়।

তাদের মা তো কেবল তারাই, যারা তাদের জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।’(সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ২)

ইসলামের চোখে ‘জিহার’ একটি অন্যায় আচরণ এবং হারাম কাজ।

কেননা নিজের স্ত্রীকে এমন নারীদের সঙ্গে তুলনা করা, যাদের বিবাহ করা তার জন্য হারাম; তা একটি গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ। কেউ এমনটি করলে তার জন্য কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। কাফফারা আদায়ের আগে স্বামী-স্ত্রী মিলন হারাম।তবে লক্ষণীয় ও স্মরণীয় যে যদি (জাহেলি যুগের মতো) ‘হারাম’ জাতীয় শব্দ না বলে ভিন্ন উদ্দেশ্যে তুলনা করা হয়, যেমন—কেউ বলল, আমার স্ত্রীর আকৃতি, গুণ বা সেবার দিক থেকে মায়ের মতো অথবা স্বাভাবিক কথা ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে যদি এই তুলনা করা হয়, তাহলে তা জিহার বলে গণ্য হবে না, এবং কাফফারাও দিতে হবে না।

(হেদায়া : ২/২৬৫)জিহারের কাফফারা কী?

জিহারের কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার করে ফেলে, অতঃপর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসকে মুক্তি দেবে। এটা তোমাদের জন্য উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা করো। যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করাবে…।

(সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ৩-৪)

অর্থাৎ জিহারের কাফফারা হলো—

১. একটি দাস মুক্ত করা।

২. এটি সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা থাকা। ঈদ উপলক্ষে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলোতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর ঈদে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলো অতিবাহিত হলে যথারীতি রোজা রাখা শুরু করবে।

৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন দরিদ্র-অসহায় মানুষকে এক বেলা খাবার খাওয়ানো অথবা খাদ্যদ্রব্য দান করা। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৭৭)

স্ত্রীকে মা-বোন বলে সম্বোধন করা

স্বামী তার স্ত্রীকে মা-বোন বা এ ধরনের বাক্য দ্বারা সম্বোধন করা কিংবা স্ত্রী তার স্বামীকে বাবা বলে সম্বোধন করা মাকরুহ ও গুনাহ। তবে এর দ্বারা জিহার বা তালাক কার্যকর হবে না, তাই এতে স্ত্রী হারাম হবে না। একে অন্যকে ছেলে-মেয়ে বা সন্তান হিসেবে সম্বোধন করার বিধানও অনুরূপ। (ফাতহুল কদির : ৪/৯১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫০৭)

হাদিস শরিফে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘হে বোন’! বলে সম্বোধন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বললেন : সে কি তোমার বোন? অর্থাৎ তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং এভাবে বলতে নিষেধ করলেন।

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২২১০ ও ২২১১)

স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম ঘোষণা করার বিধান

কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তার মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা না করে সাধারণভাবে হারাম ঘোষণা করে; যেমন—সে বলল, ‘তুমি আমার জন্য হারাম।’ অথবা স্ত্রীকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি যদি এ কাজ করো তাহলে তুমি আমার জন্য হারাম’, আর এতে যদি জিহারের নিয়ত করে, তাহলে জিহার বলে গণ্য হবে এবং কাফ্ফারা দিতে হবে। আর যদি উক্ত শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত করে অথবা কোনো নিয়তই না করে, তাহলে এক তালাকে বায়েন কার্যকর হবে, তাই এ অবস্থায় নতুন সূত্রে বিবাহ করা ছাড়া সংসার করা বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৩/২৫২)