ইসলামের চোখে ‘জিহার’ একটি অন্যায় আচরণ এবং হারাম কাজ।
জিহারের কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে জিহার করে ফেলে, অতঃপর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাসকে মুক্তি দেবে। এটা তোমাদের জন্য উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা করো। যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার আগে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করাবে…।
অর্থাৎ জিহারের কাফফারা হলো—
১. একটি দাস মুক্ত করা।
২. এটি সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা থাকা। ঈদ উপলক্ষে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলোতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর ঈদে রোজা রাখা নিষিদ্ধ দিনগুলো অতিবাহিত হলে যথারীতি রোজা রাখা শুরু করবে।
৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন দরিদ্র-অসহায় মানুষকে এক বেলা খাবার খাওয়ানো অথবা খাদ্যদ্রব্য দান করা। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৭৭)
স্ত্রীকে মা-বোন বলে সম্বোধন করা
স্বামী তার স্ত্রীকে মা-বোন বা এ ধরনের বাক্য দ্বারা সম্বোধন করা কিংবা স্ত্রী তার স্বামীকে বাবা বলে সম্বোধন করা মাকরুহ ও গুনাহ। তবে এর দ্বারা জিহার বা তালাক কার্যকর হবে না, তাই এতে স্ত্রী হারাম হবে না। একে অন্যকে ছেলে-মেয়ে বা সন্তান হিসেবে সম্বোধন করার বিধানও অনুরূপ। (ফাতহুল কদির : ৪/৯১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫০৭)
হাদিস শরিফে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘হে বোন’! বলে সম্বোধন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বললেন : সে কি তোমার বোন? অর্থাৎ তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং এভাবে বলতে নিষেধ করলেন।
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২২১০ ও ২২১১)
স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম ঘোষণা করার বিধান
কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তার মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা না করে সাধারণভাবে হারাম ঘোষণা করে; যেমন—সে বলল, ‘তুমি আমার জন্য হারাম।’ অথবা স্ত্রীকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি যদি এ কাজ করো তাহলে তুমি আমার জন্য হারাম’, আর এতে যদি জিহারের নিয়ত করে, তাহলে জিহার বলে গণ্য হবে এবং কাফ্ফারা দিতে হবে। আর যদি উক্ত শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত করে অথবা কোনো নিয়তই না করে, তাহলে এক তালাকে বায়েন কার্যকর হবে, তাই এ অবস্থায় নতুন সূত্রে বিবাহ করা ছাড়া সংসার করা বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৩/২৫২)
Reporter Name 

























