ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

কোরআনের বাণী দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপই বিদ্রুপকারীকে ধ্বংস করবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮৮ বার
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআম, আয়াত : ৯-১০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ لَوۡ جَعَلۡنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلۡنٰهُ رَجُلًا وَّ لَلَبَسۡنَا عَلَیۡهِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ ﴿۹﴾

وَ لَقَدِ اسۡتُهۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۱۰﴾

সরল অনুবাদ

(৯) যদি তাকে ফিরিশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম। আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।

(১০) আর আপনার আগে অনেক রাসুলকে নিয়েই তো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। ফলে রাসুলদের সাথে বিদ্রুপকারীদেরকে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তা-ই পরিবেষ্টন করেছে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছিল যে, কাফির সম্প্রদায় দাবি পেশ করে বলতো যে, একজন মানুষকে রাসুল না বানিয়ে একজন ফিরিশতাকে কেন রাসুল বানানো হলো না? কিংবা রাসুলের সাথে কেন অপর একজন ফিরিশতা সতর্ককারী হিসেবে সার্বক্ষনিক থাকে না। যদি এমনটি হতো তাহলে তো আমরা ঈমান আনয়ন করে নিতাম। তাদের সেই দাবি আগেও খন্ডন করা হয়েছে এখন  ৯নং আয়াতে আবারও বলা হচ্ছে যে, যদি আমি ফিরিশতাকেই রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম, তাহলে এ কথা পরিষ্কার যে, সে তো ফিরিশতার আকৃতিতে আসতে পারতো না, কারণ এতে (ফিরিশতার আকৃতি-প্রকৃতিতে এলে) মানুষ তাকে ভয় পেত এবং তার নিকট হওয়ার পরিবর্তে তার থেকে আরো দূর হওয়ার চেষ্টা করতো। তাই তাকে মানুষের রূপেই পাঠানো অপরিহার্য হতো।

কিন্তু তখনও তোমাদের নেতারা এই আপত্তি এবং সন্দেহ উত্থাপন করত যে, এও তো মানুষ। যেমন, এখন তারা রাসুলের মানুষ হওয়ার ব্যাপারে উত্থাপন করছে। তাহলে ফিরিশতাকে পাঠিয়ে লাভ কি?সুরার ১০ নং আয়াতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাস্তুনার জন্য বলা হয়েছেঃ স্বজাতির পক্ষ থেকে আপনি যে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও যাতনা ভোগ করছেন, তা শুধু আপনারই বৈশিষ্ট্য নয়, আপনার পূর্বেও সব নবীকে এমনি হৃদয়বিদারক ও প্রাণঘাতি ঘটনাবলির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তারা সাহস হারাননি।

পরিণামে বিদ্রুপকারী জাতিকে সে আজাবই পাকড়াও করেছে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। কাজেই আল্লাহর বিধানাবলি প্রচার করাই আপনার কাজ। এ দায়িত্ব পালন করে আপনি দায়মুক্ত হয়ে যান।কেউ তা গ্রহণ করল কি না তা দেখাশোনা করা আপনার দায়িত্ব নয়। তাই এতে মশগুল হয়ে আপনি অন্তরকে ব্যথিত করবেন না।

আপনার পূর্বেও নবী-রাসূলগণের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। যেমন নূহ আলাইহিস সালামকে তারা বলেছিল, নবী হওয়ার পরে সুতার হয়ে গেলে। হুদ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমরা তো এটাই বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করেছে। (সূরা হুদ, আয়অত: ৫৪)সালেহ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছে, তা নিয়ে এস, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৭) লূত আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা বলেছিল, ‘লুত-পরিবারকে তোমরা জনপদ থেকে বহিস্কার কর, এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। (সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৬) অনুরূপভাবে শু’আইব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিল হে শু’আইব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলতাম, আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও। (সূরা হুদ, আয়াত: ৯১) তাছাড়া তারা নবীর সালাত নিয়েও ঠাট্টা করে বলত, হে শু’আইব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ইবাদাত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, বুদ্ধিমান। (সূরা হুদ, আয়াত: ৮৭) [আদওয়াউল বায়ান]

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

কোরআনের বাণী দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপই বিদ্রুপকারীকে ধ্বংস করবে

আপডেট টাইম : ১১:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআম, আয়াত : ৯-১০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ لَوۡ جَعَلۡنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلۡنٰهُ رَجُلًا وَّ لَلَبَسۡنَا عَلَیۡهِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ ﴿۹﴾

وَ لَقَدِ اسۡتُهۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۱۰﴾

সরল অনুবাদ

(৯) যদি তাকে ফিরিশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম। আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।

(১০) আর আপনার আগে অনেক রাসুলকে নিয়েই তো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। ফলে রাসুলদের সাথে বিদ্রুপকারীদেরকে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তা-ই পরিবেষ্টন করেছে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছিল যে, কাফির সম্প্রদায় দাবি পেশ করে বলতো যে, একজন মানুষকে রাসুল না বানিয়ে একজন ফিরিশতাকে কেন রাসুল বানানো হলো না? কিংবা রাসুলের সাথে কেন অপর একজন ফিরিশতা সতর্ককারী হিসেবে সার্বক্ষনিক থাকে না। যদি এমনটি হতো তাহলে তো আমরা ঈমান আনয়ন করে নিতাম। তাদের সেই দাবি আগেও খন্ডন করা হয়েছে এখন  ৯নং আয়াতে আবারও বলা হচ্ছে যে, যদি আমি ফিরিশতাকেই রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম, তাহলে এ কথা পরিষ্কার যে, সে তো ফিরিশতার আকৃতিতে আসতে পারতো না, কারণ এতে (ফিরিশতার আকৃতি-প্রকৃতিতে এলে) মানুষ তাকে ভয় পেত এবং তার নিকট হওয়ার পরিবর্তে তার থেকে আরো দূর হওয়ার চেষ্টা করতো। তাই তাকে মানুষের রূপেই পাঠানো অপরিহার্য হতো।

কিন্তু তখনও তোমাদের নেতারা এই আপত্তি এবং সন্দেহ উত্থাপন করত যে, এও তো মানুষ। যেমন, এখন তারা রাসুলের মানুষ হওয়ার ব্যাপারে উত্থাপন করছে। তাহলে ফিরিশতাকে পাঠিয়ে লাভ কি?সুরার ১০ নং আয়াতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাস্তুনার জন্য বলা হয়েছেঃ স্বজাতির পক্ষ থেকে আপনি যে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও যাতনা ভোগ করছেন, তা শুধু আপনারই বৈশিষ্ট্য নয়, আপনার পূর্বেও সব নবীকে এমনি হৃদয়বিদারক ও প্রাণঘাতি ঘটনাবলির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু তারা সাহস হারাননি।

পরিণামে বিদ্রুপকারী জাতিকে সে আজাবই পাকড়াও করেছে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। কাজেই আল্লাহর বিধানাবলি প্রচার করাই আপনার কাজ। এ দায়িত্ব পালন করে আপনি দায়মুক্ত হয়ে যান।কেউ তা গ্রহণ করল কি না তা দেখাশোনা করা আপনার দায়িত্ব নয়। তাই এতে মশগুল হয়ে আপনি অন্তরকে ব্যথিত করবেন না।

আপনার পূর্বেও নবী-রাসূলগণের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। যেমন নূহ আলাইহিস সালামকে তারা বলেছিল, নবী হওয়ার পরে সুতার হয়ে গেলে। হুদ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমরা তো এটাই বলি, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করেছে। (সূরা হুদ, আয়অত: ৫৪)সালেহ আলাইহিস সালামকে বলেছিল, হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছে, তা নিয়ে এস, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৭) লূত আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা বলেছিল, ‘লুত-পরিবারকে তোমরা জনপদ থেকে বহিস্কার কর, এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। (সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৬) অনুরূপভাবে শু’আইব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছিল হে শু’আইব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলতাম, আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও। (সূরা হুদ, আয়াত: ৯১) তাছাড়া তারা নবীর সালাত নিয়েও ঠাট্টা করে বলত, হে শু’আইব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ইবাদাত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, বুদ্ধিমান। (সূরা হুদ, আয়াত: ৮৭) [আদওয়াউল বায়ান]