ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগদা চিংড়ি মড়ক, বাগেরহাটে চাষিরা দিশেহারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৬ বার

দেশের সাদা সোনা খ্যাত বাগেরহাটে বাগদা চিংড়ি ঘেরে ভয়াবহ মড়ক দেখা দিয়েছে। ভাইরাস, পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে চাষিরা ভরা মৌসুমেও দিশেহারা। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার চিংড়ি চাষিরা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলা বাগেরহাটে এবার মৌসুমের শুরুতেই বাগদা চিংড়ি ঘেরে বিপর্যয় নেমে এসেছে। চাষিদের অভিযোগ, ভাইরাসের পাশাপাশি অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। গত বছরের মতো এবারও শুরুতে মানসম্মত পোনা সংকটে পড়েছিলেন চাষিরা। এরপর একের পর এক বৃষ্টি আর তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে ঘেরে মড়ক লেগে যায়।

চাকশ্রী বাজারের চাষি মো. শাহজাহান বলেন, গত বছর এ সময় ৪০-৫০ কেজি চিংড়ি ধরতাম। এখন জাল ফেললে প্রায় খালি উঠে আসে। লাখ টাকার পোনা দিয়েছি, ঘেরে এখন শূন্য অবস্থা। রামপালের চাষি সেলিম হোসেন বলেন, আমাদের ঘেরে এখন যা অবস্থা, তাতে ঋণ শোধ করাই মুশকিল হবে। এই অবস্থা চললে আগামী মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে যাবে।

জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির তৌহিদুর রহমান সুমন জানান, বাগদা চিংড়ি মারা যাওয়ার সঠিক কারণ উদঘাটনে আমরা চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইছি। বিজ্ঞানভিত্তিক রোগ নির্ণয় ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পানি ও মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে। দ্রুত ফলাফল জানানো হবে, যাতে চাষিরা সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভাইরাসের পাশাপাশি পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে নোনা পানির চিংড়ি মারা যাচ্ছে। চাষিদের পরিকল্পিতভাবে পোনা নির্বাচন, ঘের প্রস্তুতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ৫১ হাজার ১৫৯ হেক্টর জমিতে ৪৬ হাজার ৩১৩টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। গত অর্থ বছরে এ জেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৯৪০ টন। কিন্তু এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক কম হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

বাগদা চিংড়ি মড়ক, বাগেরহাটে চাষিরা দিশেহারা

আপডেট টাইম : ১২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

দেশের সাদা সোনা খ্যাত বাগেরহাটে বাগদা চিংড়ি ঘেরে ভয়াবহ মড়ক দেখা দিয়েছে। ভাইরাস, পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে চাষিরা ভরা মৌসুমেও দিশেহারা। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার চিংড়ি চাষিরা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলা বাগেরহাটে এবার মৌসুমের শুরুতেই বাগদা চিংড়ি ঘেরে বিপর্যয় নেমে এসেছে। চাষিদের অভিযোগ, ভাইরাসের পাশাপাশি অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। গত বছরের মতো এবারও শুরুতে মানসম্মত পোনা সংকটে পড়েছিলেন চাষিরা। এরপর একের পর এক বৃষ্টি আর তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে ঘেরে মড়ক লেগে যায়।

চাকশ্রী বাজারের চাষি মো. শাহজাহান বলেন, গত বছর এ সময় ৪০-৫০ কেজি চিংড়ি ধরতাম। এখন জাল ফেললে প্রায় খালি উঠে আসে। লাখ টাকার পোনা দিয়েছি, ঘেরে এখন শূন্য অবস্থা। রামপালের চাষি সেলিম হোসেন বলেন, আমাদের ঘেরে এখন যা অবস্থা, তাতে ঋণ শোধ করাই মুশকিল হবে। এই অবস্থা চললে আগামী মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে যাবে।

জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির তৌহিদুর রহমান সুমন জানান, বাগদা চিংড়ি মারা যাওয়ার সঠিক কারণ উদঘাটনে আমরা চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইছি। বিজ্ঞানভিত্তিক রোগ নির্ণয় ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পানি ও মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে। দ্রুত ফলাফল জানানো হবে, যাতে চাষিরা সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভাইরাসের পাশাপাশি পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে নোনা পানির চিংড়ি মারা যাচ্ছে। চাষিদের পরিকল্পিতভাবে পোনা নির্বাচন, ঘের প্রস্তুতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ৫১ হাজার ১৫৯ হেক্টর জমিতে ৪৬ হাজার ৩১৩টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। গত অর্থ বছরে এ জেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৯৪০ টন। কিন্তু এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক কম হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।