বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেছেন, ঈমানী চেতনা ও সাহস থাকলে অসাধ্য সাধ্য করা যায়। বিশ্বে গাজাবাসী, কাশ্মির, আরাকানের মুসলমানরা জুলুম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। মুসলমানরা তৌহিদের জিন্দেগি চায় এটাই তাদের অপরাধ। গাজাবাসীকে ইহুদিরা নির্বিচারের হত্যা করছে। খাবার সরবরাহেও বাধা দিচ্ছে। মুসলমানদের বড় শত্রু হচ্ছে ইহুদি ও মুশরেক। আর মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
ঈমানী শক্তি ও ঈমানী চেতনার অভাবে আরব দেশগুলো গাজাবাসীদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। মজলুমদের পাশে দাঁড়াতে না পারাও একটি গুনার কাজ। কারো জান মালের ওপর হামলা হচ্ছে আমরা তা’প্রতিরোধে এগিয়ে যাচ্ছি না। যারা মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে যাবে আল্লাহ তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাবেন। খতিব বলেন, মজলুমকে বাঁচানোর চেষ্টা করার নাম নছরত। যদি নছরত না করি এটাও একটি পাপ।
খতিব বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে অনাকাঙ্খিত বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গোটা জাতিস্তব্ধ। দুর্ঘটনায় শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সমাবেদনা প্রকাশ করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো বড় নেকের কাজ।
মীরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, বিপদে ধৈর্যের পরিচয় দিন। ধৈর্যশীলগণকে আল্লাহ ভালো বাসেন। বিশৃঙ্খলা পরিহার করুন। বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলের অনেক মাসুম বাচ্চা, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তাদের জান্নাত নসিব করেন। অসুস্থদেরকে আল্লাহ তায়ালা দ্রুত সুস্থ করে দেন। খতিব বলেন, বিমান বিধ্বস্ততাকে কেন্দ্র করে কোন প্রকারের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ইসলামের দৃষ্টিতে মহা অপরাধ ও হারাম।
মুমিন কখনো বিশৃঙ্খলাময়ী কাজে অংশগ্রহণ করেনা। কারণ তারা জানে বিপদ আপদ, বালা মুসিবত, দুঃখ দুর্দশা ও দুর্ঘটনা সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে। মানুষের অপরাধ ও হাতের অর্জন হিসেবে। তাই তারা বিপদে-আপদে হতাশ হয় না। আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের পরিচয় দেয়। তারা অপরাধমূলক কার্যকলাপ পরিহার করে সতর্কতা অবলম্বন ও তওবা এস্তেগফার করতে থাকে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদান চায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা হতাশ হয়ো না। (সূরা তাওবা, আয়াত নং ৪০)। তিনি অন্য আয়াতে বলেন, তোমাদের নিকট যে মসিবত পৌঁছে তা তোমাদের হাতেরই অর্জন। (সূরা শুরা, আয়াত নং ৩০)। সূরা বাকারার এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলকে ভালোবাসেন। (সূরা আল ইমরান, আয়াত নং১৪৬)। অন্যত্র আল্লাহতালা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশৃঙ্খলকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা কাসাস আয়াত নং ৭৭)। আল্লাহ তায়ালা সকলকে বিশৃঙ্খলা মূলক মহা অপরাধ মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার তৌফিক দান করেন। আমিন।
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর সরকার বাড়ী ঈদগাহ মসজিদুল আকসার খতিব মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম মল্লিক আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, গত ২১ জুলাই উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নি কান্ডে বহু হতাহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী।
শিশু সন্তানের মৃত্যু মা-বাবার জন্য এটি পাহাড় সমান কষ্টের বোঝা। নবিজি (সা.) শিশু সন্তান মারা গেলে ধৈর্যধারণকারী মা-বাবার জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবিজি (সা.) বলেছে, কোন ব্যক্তির তিনটি সন্তান মারা গেলে তার ঠিকানা হবে জান্নাত। (আবু দাউদ) সুতরাং যেসব বাবা-মায়ের নাবালেগ সন্তান মারা যায়, তারা আল্লাহর কাছে ধৈর্যধারণের জন্য সাহায্য চাইবেন। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পাবে সুন্দর ও উত্তম পুরস্কার।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন ; আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়,তাদের মৃত্যু বলো না,বরং তাঁরা জীবিত, কিন্ত তোমরা তা বুঝনা এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়,ক্ষুধা, জান -মালের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সু সংবাদ দাও সবরকারীদের-১৫৪-১৫৬।
বিমান দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে। তাদের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তাদের সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা জানা নেই। মানুষ মরণশীল। সব মানুষকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় এক. স্বাভাবিক মৃত্যু। দুই. অস্বাভাবিক (কোনো বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে) মৃত্যু। যে কোনো মুহূর্তে বিপদ ও বিপর্যয় সংঘটিত হতে পারে। বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং পানি, খাদ্য, রক্ত, ওষুধ এবং বস্ত্র নিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেছেন-‘আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয় তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে কোরো না বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত। মহামারী, ডায়রিয়া, পানিতে নিমজ্জিত, অগ্নিদগ্ধ, পক্ষাঘাত, গর্ভাবস্থা (ঘর, বৃক্ষ, গাড়ি ধ্বংসস্তূপ দেয়াল প্রভৃতির নিচে) চাপা পরে যারা মৃত্যুবরণ করে, ইসলামের দৃষ্টিতে তারা শহিদ হিসেবে পরিগণিত হবে। (বুখারি ও আবু দাউদ) যারা শহীদের মর্যাদা প্রাপ্ত হন, ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কবর আযাব মাফ এবং জান্নাতে তারা অফুরন্ত নিয়ামত লাভ করবেন। অগ্নিদগ্ধে নিহতদের জন্য রয়েছে জান্নাতের মহাপুরস্কার।
খতিব বলেন, রাসূল (সা.)আরো বলেন,কোনো মুসলমানের মৃত্যুতে বা বিপদে যারা সান্ত¡না দেয় ও সাহায্য করে,আল্লাহ তাদের কিয়ামতের দিন সম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন। আল্লাহ তাআলা মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত অগ্নিদগ্ধে যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন তাদেরকে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দান করুন।
Reporter Name 

























