ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

অগ্নি দুর্ঘটনাসহ দুর্যোগে আহতদের জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৮৪ বার

প্রশ্ন: অগ্নি দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে অনেক মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাদের চিকিৎসার খরচ হিসাবে যদি আমি জাকাতের টাকা দেই, তাহলে আমার জাকাত কি আদায় হবে? এবং তার সেটা নেওয়া কি জায়েজ হবে?

উত্তর: কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করা উচিত এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা করার মতো টাকা না থাকলে সাধ্যমতো তার চিকিৎসার খরচ বহনের চেষ্টা করা উচিত।

কোনো রোগী যদি এতোটা অসহায়-গরিব হয় যে, তিনি জাকাতের টাকা গ্রহণের হকদার তাহলে তার সেবার জন্য জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে।

আলেমদের মতে, রোগী যদি প্রকৃতপক্ষে জাকাতের হকদার হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই জাকাত দেওয়া যাবে। তবে তার রোগের চিকিৎসার পূর্বেই তাকে জাকাতের এই পরিমাণ টাকা দেওয়া যাবে না যে, সেই ব্যক্তি রোগ সারানোর আগে নিজেই নেসাবের মালিক হয়ে যায়।

অর্থাৎ, সুস্থ হয়ে উঠার আগে সে আর জাকাতের হকদার না থাকে। কেননা এটা মাকরুহ।

বরং রোগের চিকিৎসা অথবা অপারেশনের পরে তাকে জাকাতের টাকা প্রদান করা। যাতে করে সে ডাক্তারের ফি দিতে পারে। এবং হাসপাতালের যাবতীয় খরচাপাতি ওই টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারে।

যাদের জাকাত দেওয়া যাবে

পবিত্র কুরআনে জাকাতের খাত নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। এ খাত ছাড়া অন্য কোথাও জাকাত প্রদান করা জায়েজ নয়।

ইরশাদ হয়েছে, ‘জাকাত তো শুধু নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, যাদের মনোরঞ্জন উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য সম্পদ আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকিও নেই—এমন লোক ইসলামের দৃষ্টিতে গরিব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে। আর যে ব্যক্তির কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ আছে, যাতে জাকাত আসে না; যেমন—ঘরের আসবাব, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ্যসামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না।

সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬-২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

অগ্নি দুর্ঘটনাসহ দুর্যোগে আহতদের জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

প্রশ্ন: অগ্নি দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে অনেক মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাদের চিকিৎসার খরচ হিসাবে যদি আমি জাকাতের টাকা দেই, তাহলে আমার জাকাত কি আদায় হবে? এবং তার সেটা নেওয়া কি জায়েজ হবে?

উত্তর: কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করা উচিত এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা করার মতো টাকা না থাকলে সাধ্যমতো তার চিকিৎসার খরচ বহনের চেষ্টা করা উচিত।

কোনো রোগী যদি এতোটা অসহায়-গরিব হয় যে, তিনি জাকাতের টাকা গ্রহণের হকদার তাহলে তার সেবার জন্য জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে।

আলেমদের মতে, রোগী যদি প্রকৃতপক্ষে জাকাতের হকদার হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই জাকাত দেওয়া যাবে। তবে তার রোগের চিকিৎসার পূর্বেই তাকে জাকাতের এই পরিমাণ টাকা দেওয়া যাবে না যে, সেই ব্যক্তি রোগ সারানোর আগে নিজেই নেসাবের মালিক হয়ে যায়।

অর্থাৎ, সুস্থ হয়ে উঠার আগে সে আর জাকাতের হকদার না থাকে। কেননা এটা মাকরুহ।

বরং রোগের চিকিৎসা অথবা অপারেশনের পরে তাকে জাকাতের টাকা প্রদান করা। যাতে করে সে ডাক্তারের ফি দিতে পারে। এবং হাসপাতালের যাবতীয় খরচাপাতি ওই টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারে।

যাদের জাকাত দেওয়া যাবে

পবিত্র কুরআনে জাকাতের খাত নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। এ খাত ছাড়া অন্য কোথাও জাকাত প্রদান করা জায়েজ নয়।

ইরশাদ হয়েছে, ‘জাকাত তো শুধু নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, যাদের মনোরঞ্জন উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য সম্পদ আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকিও নেই—এমন লোক ইসলামের দৃষ্টিতে গরিব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে। আর যে ব্যক্তির কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ আছে, যাতে জাকাত আসে না; যেমন—ঘরের আসবাব, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ্যসামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না।

সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬-২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪