ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

আবারও ছায়াশূন্য পবিত্র কাবা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • ৮৭ বার

জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিরল এক ঘটনার স্বাক্ষী হলো পবিত্র কাবা। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফের ঠিক ওপরে অবস্থান করে সূর্য। এসময় সূর্য কাবার সরাসারি মাথার ওপরে থাকায় কাবা ও তার আশপাশের যেকোনো বস্তু বা স্থাপনার কোনো ছায়া পড়ে না। অর্থাৎ ছায়া সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়।

জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মক্কার আকাশে সূর্য কাবার সঙ্গে সরাসরি একই সরলরেখায় অবস্থান করেছে, যার ফলে ছায়া সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে যেখানেই সূর্য দেখা যাবে, সেই দিকে মুখ করলেই সঠিকভাবে কিবলার দিক নির্ধারণ করা সম্ভব।

এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি ঘটে যখন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে দক্ষিণ দিকে সরে এসে মক্কার অক্ষাংশ (প্রায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ) অতিক্রম করে।

এই ঘটনাকে ‘সোলার জেনিথ’ বলা হয় যা সাধারণত বছরে দুইবার ঘটে— মে মাসের শেষ দিকে এবং জুলাই মাসের মাঝামাঝি।

জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতির প্রধান মজিদ আবু জাহরা বলেন, ‘ছায়শূন্য হওয়ার সময়টি মক্কায় যোহরের নামাজের সময়ের সাথে মিলে যায়। যার ফলে ঘটনাটি শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকে নয়, বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এ সময়টায় সূর্যের আলো সরাসরি কাবার ওপরে পড়ে যা এক ধরনের প্রতীকী ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির জন্ম দেয়।’

এই ঘটনাটি শুধু দেখার বিষয় নয় বরং ঐতিহাসিকভাবে কিবলার দিক নির্ধারণের একটি প্রাকৃতিক উপায়ও বটে। এ সময় সূর্য যেদিকে থাকে, সে দিকে মুখ করলেই একেবারে নিখুঁতভাবে কিবলার দিকে নামাজ পড়া যায় কোনো কম্পাস বা প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

আবারও ছায়াশূন্য পবিত্র কাবা

আপডেট টাইম : ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিরল এক ঘটনার স্বাক্ষী হলো পবিত্র কাবা। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফের ঠিক ওপরে অবস্থান করে সূর্য। এসময় সূর্য কাবার সরাসারি মাথার ওপরে থাকায় কাবা ও তার আশপাশের যেকোনো বস্তু বা স্থাপনার কোনো ছায়া পড়ে না। অর্থাৎ ছায়া সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়।

জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মক্কার আকাশে সূর্য কাবার সঙ্গে সরাসরি একই সরলরেখায় অবস্থান করেছে, যার ফলে ছায়া সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে যেখানেই সূর্য দেখা যাবে, সেই দিকে মুখ করলেই সঠিকভাবে কিবলার দিক নির্ধারণ করা সম্ভব।

এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি ঘটে যখন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে দক্ষিণ দিকে সরে এসে মক্কার অক্ষাংশ (প্রায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ) অতিক্রম করে।

এই ঘটনাকে ‘সোলার জেনিথ’ বলা হয় যা সাধারণত বছরে দুইবার ঘটে— মে মাসের শেষ দিকে এবং জুলাই মাসের মাঝামাঝি।

জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতির প্রধান মজিদ আবু জাহরা বলেন, ‘ছায়শূন্য হওয়ার সময়টি মক্কায় যোহরের নামাজের সময়ের সাথে মিলে যায়। যার ফলে ঘটনাটি শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকে নয়, বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এ সময়টায় সূর্যের আলো সরাসরি কাবার ওপরে পড়ে যা এক ধরনের প্রতীকী ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির জন্ম দেয়।’

এই ঘটনাটি শুধু দেখার বিষয় নয় বরং ঐতিহাসিকভাবে কিবলার দিক নির্ধারণের একটি প্রাকৃতিক উপায়ও বটে। এ সময় সূর্য যেদিকে থাকে, সে দিকে মুখ করলেই একেবারে নিখুঁতভাবে কিবলার দিকে নামাজ পড়া যায় কোনো কম্পাস বা প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই।