ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৭১ বার

মঙ্গলবার চীনে সরকারি সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনার আগে মঙ্গলবার তার এ সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকাই এ সফরের ঘোষণা দেন।  তিনি জানান, আরাগচি এর আগেও গত ডিসেম্বরে চীন সফর করেছিলেন।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই সফরের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, চীন ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিভিন্ন খাতে নিয়মিত যোগাযোগ ও আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি—যেটি পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়—সেই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিল চীন।  জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সই করেছিল।  বাকাই বলেন, এই দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর এক বছর পর ইরানও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিজস্ব পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প আবারো ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সামরিক হামলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় আব্বাস আরাগচি ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং প্রধান তেল ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের রপ্তানিযোগ্য প্রায় ৯২ শতাংশ তেলই চীনে যায়, যা ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তুলনামূলকভাবে বড় ছাড়ে বিক্রি করা হয়।

২০২১ সালে চীন ও ইরান একটি ২৫ বছর মেয়াদি সমন্বিত কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় জ্বালানি, নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং যোগাযোগসহ নানা খাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

আপডেট টাইম : ১০:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

মঙ্গলবার চীনে সরকারি সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনার আগে মঙ্গলবার তার এ সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকাই এ সফরের ঘোষণা দেন।  তিনি জানান, আরাগচি এর আগেও গত ডিসেম্বরে চীন সফর করেছিলেন।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই সফরের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, চীন ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিভিন্ন খাতে নিয়মিত যোগাযোগ ও আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি—যেটি পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়—সেই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিল চীন।  জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সই করেছিল।  বাকাই বলেন, এই দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর এক বছর পর ইরানও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিজস্ব পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প আবারো ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সামরিক হামলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় আব্বাস আরাগচি ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং প্রধান তেল ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের রপ্তানিযোগ্য প্রায় ৯২ শতাংশ তেলই চীনে যায়, যা ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তুলনামূলকভাবে বড় ছাড়ে বিক্রি করা হয়।

২০২১ সালে চীন ও ইরান একটি ২৫ বছর মেয়াদি সমন্বিত কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় জ্বালানি, নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং যোগাযোগসহ নানা খাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।