ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

এখন আর কানে বাজে না দোয়েলের ডাক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৬
  • ৩৮০ বার

এক দশক আগেও ময়মনসিংহ শহরে ছিল জাতীয় পাখি দোয়েলের ঘন উপস্থিতি। বুক ফুলিয়ে গানের সুরে ডেকে বেড়াতো এরা। ক্রমশ এই শহরে বহুতল ভবন তথা নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জঙ্গল, গাছপালা ও ঘাসজমি কেটে ফেলায় স্বাভাবিক বাসস্থান সংকটে পাল্লা দিয়ে কমে যাচ্ছে দোয়েল পাখির সংখ্যা। ভয়ার্ত দোয়েল এখন আর আগের মত বুক ফুলিয়ে ডাকে না।

আগে ময়মনসিংহ শহরের অধিকাংশ বাড়িতেই ছিল খাম ও সিলিং। কিন্তু এখনকার বাড়িগুলোতে সেগুলো না থাকায় বাসা হারাচ্ছে অনেক প্রজাতির পাখি। পরিবেশ দূষণের ফলে আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার ফলেও মারা যাচ্ছে অনেক পাখি। তা ছাড়া জলাশয়ের অভাবেও পাখির সংখ্যা কমছে এই শহরে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয়তনে ময়মনসিংহ শহর বেড়ে চলেছে।

এখন আর এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে মানুষ পৌঁছতে পারে না। তাই বাসস্থান হারাচ্ছে দোয়েলের মত পাখি। যেহেতু ময়মনসিংহে ফল গাছের সংখ্যা কমছে, তাই সমস্যায় পড়ছে পাখি। পোকা-মাকড়ের সংখ্যাও কমে গেছে। পাখিদের খাবারের অভাবও দেখা যাচ্ছে। দোয়েল পাখির বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট পোকামাকড় খেত। পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের জীবনধারণও সঙ্কটে।

অপরদিকে দোয়েলের সংখ্যা কমে গেলেও বেড়েছে কাকের সংখ্যা। দিন দিন আরও নোংরা হচ্ছে এই শহর।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি, কাকের বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য শুভকর নয়। কারণ, কাক অনেক পাখির ডিম খেয়ে নেয়। ফলে তাদের সংখ্যা আরও কমে যায়।

একাধিক পরিবেশবিদ বলেন, শুধুই ময়মনসিংহ শহর নয়, সারা দেশেই কমে যাচ্ছে পাখি। পাখি কমে যাওয়ায় শুধুই যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে তা নয়, এর ফলে সমস্যায় পড়বে মানুষও। এখন যে সমস্যাগুলোর জন্য পাখিদের অস্তিত্ব সমস্যায় পড়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে মানুষের অস্তিত্ব সঙ্কটেরও কারণ হবে।

তারা বলেন, জীববৈচিত্র হল একটা চেইন। সবুজের অভাবে যেমন বাসস্থান হারাচ্ছে মানুষ, তেমনই অক্সিজেনের উৎসও হারাচ্ছে সে। জলাশয় কমে যাওয়ায় যেমন অসুবিধায় পাচ্ছে পাখিরা, তেমনই জলেরও সঙ্কট হচ্ছে মানুষের।

তাছাড়া শহরে যে ধরনের আলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলো মানুষ ও পাখি, উভয়ের শরীরের পক্ষেই ক্ষতিকর। অপরদিকে এই পাখিদের ওয়েটল্যান্ড ও নদী তীরবর্তী বাসস্থানের দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণেও দোয়েল পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক পদার্থ অতিরিক্ত নির্গমন বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে দোয়েলের সংখ্যা। টিকে থাকা দোয়েলের বাসস্থান বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংরক্ষণের দাবি সকলের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এখন আর কানে বাজে না দোয়েলের ডাক

আপডেট টাইম : ১১:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৬

এক দশক আগেও ময়মনসিংহ শহরে ছিল জাতীয় পাখি দোয়েলের ঘন উপস্থিতি। বুক ফুলিয়ে গানের সুরে ডেকে বেড়াতো এরা। ক্রমশ এই শহরে বহুতল ভবন তথা নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জঙ্গল, গাছপালা ও ঘাসজমি কেটে ফেলায় স্বাভাবিক বাসস্থান সংকটে পাল্লা দিয়ে কমে যাচ্ছে দোয়েল পাখির সংখ্যা। ভয়ার্ত দোয়েল এখন আর আগের মত বুক ফুলিয়ে ডাকে না।

আগে ময়মনসিংহ শহরের অধিকাংশ বাড়িতেই ছিল খাম ও সিলিং। কিন্তু এখনকার বাড়িগুলোতে সেগুলো না থাকায় বাসা হারাচ্ছে অনেক প্রজাতির পাখি। পরিবেশ দূষণের ফলে আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার ফলেও মারা যাচ্ছে অনেক পাখি। তা ছাড়া জলাশয়ের অভাবেও পাখির সংখ্যা কমছে এই শহরে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয়তনে ময়মনসিংহ শহর বেড়ে চলেছে।

এখন আর এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে মানুষ পৌঁছতে পারে না। তাই বাসস্থান হারাচ্ছে দোয়েলের মত পাখি। যেহেতু ময়মনসিংহে ফল গাছের সংখ্যা কমছে, তাই সমস্যায় পড়ছে পাখি। পোকা-মাকড়ের সংখ্যাও কমে গেছে। পাখিদের খাবারের অভাবও দেখা যাচ্ছে। দোয়েল পাখির বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট পোকামাকড় খেত। পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের জীবনধারণও সঙ্কটে।

অপরদিকে দোয়েলের সংখ্যা কমে গেলেও বেড়েছে কাকের সংখ্যা। দিন দিন আরও নোংরা হচ্ছে এই শহর।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি, কাকের বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য শুভকর নয়। কারণ, কাক অনেক পাখির ডিম খেয়ে নেয়। ফলে তাদের সংখ্যা আরও কমে যায়।

একাধিক পরিবেশবিদ বলেন, শুধুই ময়মনসিংহ শহর নয়, সারা দেশেই কমে যাচ্ছে পাখি। পাখি কমে যাওয়ায় শুধুই যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে তা নয়, এর ফলে সমস্যায় পড়বে মানুষও। এখন যে সমস্যাগুলোর জন্য পাখিদের অস্তিত্ব সমস্যায় পড়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে মানুষের অস্তিত্ব সঙ্কটেরও কারণ হবে।

তারা বলেন, জীববৈচিত্র হল একটা চেইন। সবুজের অভাবে যেমন বাসস্থান হারাচ্ছে মানুষ, তেমনই অক্সিজেনের উৎসও হারাচ্ছে সে। জলাশয় কমে যাওয়ায় যেমন অসুবিধায় পাচ্ছে পাখিরা, তেমনই জলেরও সঙ্কট হচ্ছে মানুষের।

তাছাড়া শহরে যে ধরনের আলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলো মানুষ ও পাখি, উভয়ের শরীরের পক্ষেই ক্ষতিকর। অপরদিকে এই পাখিদের ওয়েটল্যান্ড ও নদী তীরবর্তী বাসস্থানের দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণেও দোয়েল পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক পদার্থ অতিরিক্ত নির্গমন বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে দোয়েলের সংখ্যা। টিকে থাকা দোয়েলের বাসস্থান বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংরক্ষণের দাবি সকলের।