ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, ইলিশ খেতে হলে এখন যা করতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬
  • ৩৫২ বার

আজ ১২ অক্টোবর বুধবার থেকে আগামী ২ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত—২২ দিনের জন্য দেশের ইলিশের বিচরণক্ষেত্র নদনদীতে এই মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়সীমার পর ৩ নভেম্বর বৃস্পতিবার থেকে আবার শুরু হবে ইলিশ ধরা কার্যক্রম। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে মা ইলিশ রক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এই সময়ের মধ্যে দেশের ২৭টি জেলার বিভিন্ন নদনদীতে এই ইলিশ ধরার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারি কর্মকর্তা, মাছের আড়ৎদার থেকে শুরু জেলেরা মনে করেন, ইলিশ খেতে হলে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা উচিত। একইসঙ্গে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর মহাজনরা যদি দাদন পরিশোধের ভয় দেখিয়ে জেলেদের নদীতে যেতে বাধ্য না করেন, তাহলে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে মা ইলিশ। আর তাতেই এক সময় নদনদী ভরে যাবে রূপালি ইলিশে।

সরকার ঘোষিত এই ২২ দিন দেশের চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।

আগামী মৌসুমে এ বছরের মতো ব্যাপক হারে ইলিশ পেতেই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে ইলিশের আড়ৎদার, জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, সরকারি প্রশাসন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও অনেক দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই সময় সবাই যদি নিজ নিজ করণীয় নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলে শুধু এ বছরই নয়, আগামী সব বছরেই ইলিশের প্রাচুর্য থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বিতরণ, বিপণন, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ, বিনিময়সহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এ সময় মাছের আড়ৎ, হাটবাজার ও বিপণি বিতানগুলোতে (চেইন শপ) অভিযান পরিচালিত হবে। মৎস্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন স্থানের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ভোলা

জেলার মনপুরা, ঢলচর, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া কালিরচর ও মৌলভীরচরকে ইলিশের বিশেষ প্রজনন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী হতে হাইতকান্দি পয়েন্ট, ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দিন হতে পশ্চিম সৈয়দ আওলিয়া পয়েন্ট, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতা চাপালি পয়েন্ট এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে গণ্ডামারা পয়েন্ট প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, ‘ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুরসহ চলতি বছর আরও সম্প্রসারিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী জেলার সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। সারাদেশের মাছের ঘাট, মৎস্য আড়ৎ, হাট-বাজার, চেইনশপে ব্যাপক অভিযান চালানো (নিষিদ্ধ সময়ে) হবে বলেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদফতর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করবে। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময়ে জেলেদের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ছায়েদুল হক।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও জেলেদের জন্য সরকারের দেওয়া-সুযোগ সুবিধা বহাল রয়েছে। তারা এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পাবেন। সে ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা নেই। আগের অন্যান্য বছর প্রথমে ১১ দিন, পরে ১৫ দিন কার্ডধারী জেলেরা সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পেতেন। এ বছর ২২দিন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য মন্ত্রণালয়। তাই এ বছর ২২ দিনই তারা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা রেজানুর রহমান নামের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। ক্রেতা হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। এ সময় আমাদেরর উচিত বাজার থেকে ইলিশ না কেনা। আমরা যদি ইলিশ না কিনি তাহলে বাজারে ইলিশের চাহিদা কমে যাবে। তাতে বিক্রেতারাও উৎসাহ হারাবে। এক সময় ইলিশ রক্ষায় জন সচেতনতা তৈরি হবে। আর তাতেই ইলিশ রক্ষা হবে।’

এ প্রসঙ্গে পিরোজপুরের পাড়ের হাটের ইলিশ ব্যবসায়ী (আড়ৎদার) তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ইলিশ জাতীয় সম্পদ। আমরা যারা ইলিশের ব্যবসায়ী, আমাদের জন্য ইলিশ হচ্ছে দেবতা। এই ইলিশ রক্ষায় আমাদেরও দায়িত্ব অনেক। মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ আমাদের দেওয়া উচিত। দাদন পরিশোধের ভয়ে জেলেদের নদীতে যেতে বাধ্য না করলেই ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে মা ইলিশ। আর তাতেই এক সময় নদনদী ভরে যাবে রূপালি ইলিশে।’

মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন এই ২২দিন তৎপর থাকতে হয় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ সময় নৌ বাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদফতর সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে। তারা যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে, তাহলে নদী হবে ইলিশের নিরাপদ অভয়াশ্রম বলে মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে ভোলার তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ মাছ ধরা জেলে শাহজান আলী বলেন, ‘আমরাও চাই আমাদের জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ুক। এর জন্য তো ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। ইলিশ যদি ডিমই ছাড়তে না পারে, তাহলে আসবে কোত্থেকে? আমাদের উচিত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। কিন্ত এ বিষয়গুলো আমরা বুঝেও ভুলে যাই পেটের দায়ে। মহাজনের দাদন পরিশোধের বিষয়টি মনে হলেই তো সব চেতনা ভুলে যাই। তাদের ভয়ে ও পেটের তাগিদেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে যাই। মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদন সময়মতো পরিশোধ না করলে তো আমাদের জীবন অচল। তাদের দাবি মতোই সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের নদীতে যেতে হয়। তারাই আমাদের নদীতে জাল ফেলতে উৎসাহ দেয়।’ -বাংলা ট্রিবিউন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ, ইলিশ খেতে হলে এখন যা করতে হবে

আপডেট টাইম : ০১:২২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬

আজ ১২ অক্টোবর বুধবার থেকে আগামী ২ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত—২২ দিনের জন্য দেশের ইলিশের বিচরণক্ষেত্র নদনদীতে এই মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়সীমার পর ৩ নভেম্বর বৃস্পতিবার থেকে আবার শুরু হবে ইলিশ ধরা কার্যক্রম। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে মা ইলিশ রক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এই সময়ের মধ্যে দেশের ২৭টি জেলার বিভিন্ন নদনদীতে এই ইলিশ ধরার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারি কর্মকর্তা, মাছের আড়ৎদার থেকে শুরু জেলেরা মনে করেন, ইলিশ খেতে হলে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা উচিত। একইসঙ্গে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর মহাজনরা যদি দাদন পরিশোধের ভয় দেখিয়ে জেলেদের নদীতে যেতে বাধ্য না করেন, তাহলে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে মা ইলিশ। আর তাতেই এক সময় নদনদী ভরে যাবে রূপালি ইলিশে।

সরকার ঘোষিত এই ২২ দিন দেশের চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।

আগামী মৌসুমে এ বছরের মতো ব্যাপক হারে ইলিশ পেতেই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে ইলিশের আড়ৎদার, জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, সরকারি প্রশাসন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও অনেক দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই সময় সবাই যদি নিজ নিজ করণীয় নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলে শুধু এ বছরই নয়, আগামী সব বছরেই ইলিশের প্রাচুর্য থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বিতরণ, বিপণন, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ, বিনিময়সহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এ সময় মাছের আড়ৎ, হাটবাজার ও বিপণি বিতানগুলোতে (চেইন শপ) অভিযান পরিচালিত হবে। মৎস্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন স্থানের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ভোলা

জেলার মনপুরা, ঢলচর, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া কালিরচর ও মৌলভীরচরকে ইলিশের বিশেষ প্রজনন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী হতে হাইতকান্দি পয়েন্ট, ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দিন হতে পশ্চিম সৈয়দ আওলিয়া পয়েন্ট, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতা চাপালি পয়েন্ট এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে গণ্ডামারা পয়েন্ট প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, ‘ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুরসহ চলতি বছর আরও সম্প্রসারিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী জেলার সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। সারাদেশের মাছের ঘাট, মৎস্য আড়ৎ, হাট-বাজার, চেইনশপে ব্যাপক অভিযান চালানো (নিষিদ্ধ সময়ে) হবে বলেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদফতর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করবে। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময়ে জেলেদের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ছায়েদুল হক।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও জেলেদের জন্য সরকারের দেওয়া-সুযোগ সুবিধা বহাল রয়েছে। তারা এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পাবেন। সে ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা নেই। আগের অন্যান্য বছর প্রথমে ১১ দিন, পরে ১৫ দিন কার্ডধারী জেলেরা সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পেতেন। এ বছর ২২দিন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য মন্ত্রণালয়। তাই এ বছর ২২ দিনই তারা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা রেজানুর রহমান নামের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। ক্রেতা হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। এ সময় আমাদেরর উচিত বাজার থেকে ইলিশ না কেনা। আমরা যদি ইলিশ না কিনি তাহলে বাজারে ইলিশের চাহিদা কমে যাবে। তাতে বিক্রেতারাও উৎসাহ হারাবে। এক সময় ইলিশ রক্ষায় জন সচেতনতা তৈরি হবে। আর তাতেই ইলিশ রক্ষা হবে।’

এ প্রসঙ্গে পিরোজপুরের পাড়ের হাটের ইলিশ ব্যবসায়ী (আড়ৎদার) তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ইলিশ জাতীয় সম্পদ। আমরা যারা ইলিশের ব্যবসায়ী, আমাদের জন্য ইলিশ হচ্ছে দেবতা। এই ইলিশ রক্ষায় আমাদেরও দায়িত্ব অনেক। মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ আমাদের দেওয়া উচিত। দাদন পরিশোধের ভয়ে জেলেদের নদীতে যেতে বাধ্য না করলেই ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে মা ইলিশ। আর তাতেই এক সময় নদনদী ভরে যাবে রূপালি ইলিশে।’

মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন এই ২২দিন তৎপর থাকতে হয় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ সময় নৌ বাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদফতর সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে। তারা যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে, তাহলে নদী হবে ইলিশের নিরাপদ অভয়াশ্রম বলে মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে ভোলার তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ মাছ ধরা জেলে শাহজান আলী বলেন, ‘আমরাও চাই আমাদের জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ুক। এর জন্য তো ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। ইলিশ যদি ডিমই ছাড়তে না পারে, তাহলে আসবে কোত্থেকে? আমাদের উচিত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। কিন্ত এ বিষয়গুলো আমরা বুঝেও ভুলে যাই পেটের দায়ে। মহাজনের দাদন পরিশোধের বিষয়টি মনে হলেই তো সব চেতনা ভুলে যাই। তাদের ভয়ে ও পেটের তাগিদেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে যাই। মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদন সময়মতো পরিশোধ না করলে তো আমাদের জীবন অচল। তাদের দাবি মতোই সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের নদীতে যেতে হয়। তারাই আমাদের নদীতে জাল ফেলতে উৎসাহ দেয়।’ -বাংলা ট্রিবিউন।