ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মূল্যস্ফীতির ভাঁজ ক্রেতার কপালে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২৪ বার

আগামী মাসের প্রথম দিকে শুরু হচ্ছে রমজান, পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি চলছে। এতে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের কষ্ট বাড়ছে। খেয়েপরে বেঁচে থাকতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তারা। সকাল-বিকালের নাশতা থেকে শুরু করে তিন বেলার খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছেই। কিন্তু বাড়েনি আয়-রোজগার। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষকে। এমন অবস্থার মধ্যেই আসছে পবিত্র রমজান। এরই মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে রোজার পাঁচ পণ্য ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, খেজুরের দাম আগেই বেড়ে গেছে। অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে- সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে কয়েকটি নিত্যপণ্যের শুল্ক-কর কমানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুর। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। এ জন্য প্রতি জেলায় ১০ সদস্যবিশিষ্ট টাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে। কিন্তু পণ্য আমদানির ট্যারিফ হ্রাস, ঋণের সুদ বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুফল মিলছে না। গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের উপরে রয়েছে।

রমজানে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। বাজারে অরাজক পরিস্থিতি রোধে প্রতি জেলায় বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত টাস্কফোর্সগুলোকে কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সবগুলো মনিটরিং টিমকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এমনই একটি নির্দেশনা সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে- অবৈধ মজুদদার ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান জোরদার করতে হবে; প্রত্যেক জেলায় টাস্কফোর্সের অভিযানও জোরদার করতে হবে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দৈনন্দিন প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যে মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়, সেটার সঙ্গে টাস্কফোর্সকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। অসাধু চক্র অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করছে কিনা, বা কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও কঠোর মনিটরিং করতে হবে। এসবের প্রমাণ পেলে ফৌজদারি বিধিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাকের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় তেল, চিনি, ডাল এবং রমজান উপলক্ষে খেজুর ও ছোলা বিক্রি করা হবে।

জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্য সামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থা তদারক ও পর্যালোচনা করবে জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দুইজন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।

কমিটির কার‌্যাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে- টাস্কফোর্স নিয়মিত বিভিন্ন বাজার, আড়ত, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ ও সরবরাহব্যবস্থার অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করবে এবং পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়টি তদারকি করবে। টাস্কফোর্স উৎপাদন, পাইকারি ও ভোক্তাপর্যায়ে যাতে দামের পার্থক্য ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করবে এবং অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে। টাস্কফোর্স প্রতিদিনের মনিটরিং শেষে একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলে নির্ধারিত নম্বর ও ই-মেইলে এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠাবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন সংকলন ও পর্যালোচনা করে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবে। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে পারবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মূল্যস্ফীতির ভাঁজ ক্রেতার কপালে

আপডেট টাইম : ১১:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আগামী মাসের প্রথম দিকে শুরু হচ্ছে রমজান, পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি চলছে। এতে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের কষ্ট বাড়ছে। খেয়েপরে বেঁচে থাকতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তারা। সকাল-বিকালের নাশতা থেকে শুরু করে তিন বেলার খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছেই। কিন্তু বাড়েনি আয়-রোজগার। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষকে। এমন অবস্থার মধ্যেই আসছে পবিত্র রমজান। এরই মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে রোজার পাঁচ পণ্য ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, খেজুরের দাম আগেই বেড়ে গেছে। অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে- সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে কয়েকটি নিত্যপণ্যের শুল্ক-কর কমানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুর। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। এ জন্য প্রতি জেলায় ১০ সদস্যবিশিষ্ট টাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে। কিন্তু পণ্য আমদানির ট্যারিফ হ্রাস, ঋণের সুদ বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুফল মিলছে না। গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের উপরে রয়েছে।

রমজানে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। বাজারে অরাজক পরিস্থিতি রোধে প্রতি জেলায় বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত টাস্কফোর্সগুলোকে কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সবগুলো মনিটরিং টিমকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এমনই একটি নির্দেশনা সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে- অবৈধ মজুদদার ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান জোরদার করতে হবে; প্রত্যেক জেলায় টাস্কফোর্সের অভিযানও জোরদার করতে হবে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দৈনন্দিন প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যে মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়, সেটার সঙ্গে টাস্কফোর্সকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। অসাধু চক্র অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করছে কিনা, বা কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও কঠোর মনিটরিং করতে হবে। এসবের প্রমাণ পেলে ফৌজদারি বিধিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাকের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় তেল, চিনি, ডাল এবং রমজান উপলক্ষে খেজুর ও ছোলা বিক্রি করা হবে।

জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্য সামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থা তদারক ও পর্যালোচনা করবে জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দুইজন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।

কমিটির কার‌্যাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে- টাস্কফোর্স নিয়মিত বিভিন্ন বাজার, আড়ত, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ ও সরবরাহব্যবস্থার অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করবে এবং পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়টি তদারকি করবে। টাস্কফোর্স উৎপাদন, পাইকারি ও ভোক্তাপর্যায়ে যাতে দামের পার্থক্য ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করবে এবং অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে। টাস্কফোর্স প্রতিদিনের মনিটরিং শেষে একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলে নির্ধারিত নম্বর ও ই-মেইলে এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠাবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন সংকলন ও পর্যালোচনা করে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবে। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে পারবে।