ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

দল দেখবো না, অপরাধীর বিচার হবেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০১৬
  • ২৯৯ বার

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে কোনো দলীয় কোন্দল ছিল না বা দল হিসেবে কেউ মারতে যায়নি। কে কোন দল করে আমি সেটা দেখি না, দেখবো না, যে অপরাধী সে অপরাধী। সেই অপরাধীর বিচার হবেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় সভাপতিত্ব করছিলেন।

কিছু পত্রিকা এবং কিছু লোক এটাকে দলীয় ব্যাপার হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় হিসেবে আমরা তাদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন তারা যখন জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারলো সেই কথা কি ভুলে যাচ্ছে? আমি যদি বলি, এভাবে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা- এটাতো এরাই শিখিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতই শিখিয়েছে। এরাই পথ দেখিয়েছে। নৃশংসতা করে করে মানুষের ভেতরে একটা পশুত্বের জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো দেশই হোক, কোনো দেশে সংঘাত হলে তার জন্য আমরা বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তারা যেন কোনো রকমের উত্তেজনা সৃষ্টি না করে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষগুলো কষ্টে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী খাদিজার ওপর হামলা প্রসঙ্গ এনে বলেন, মাঝে মাঝে কিছু ঘটনা ঘটে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেমন আমরা দেখলাম সিলেটে একটি মেয়েকে কীভাবে কোপানো হলো। আমার অবাক লাগে যখন এই ছবিটা দেখি, মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দেখছে, ভিডিও তুলছে কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচাতে কেউ গেল না। কেন এই মানবিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে গেল, কেন কেউ সেখানে গেল না- সেটাই আমার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কাজেই যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শাস্তি হচ্ছে এবং হবে। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে অনুরোধ করবো, তারা যেন তাদের ছেলেমেয়েদের খোঁজ-খবর রাখেন। শিক্ষকরা যেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে সকল খোঁজ-খবর রাখতে হবে।

মসজিদের ইমামদের প্রতি আহ্বান, ইসলাম শান্তির ধর্ম, সন্ত্রাসের ধর্ম না, জঙ্গিবাদের ধর্ম না, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ করা এটা ইসলাম কখনো বলেনি। কিন্তু যারা ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ খুন করছে তারা আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামকেই হেয় করছে, ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। মুসলমানদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আল্লাহ শেষ বিচার করবেন। তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ তো কাউকে শাস্তি দেবার দায়িত্ব দেননি। তাহলে কেন এভাবে মানুষকে খুন করা, শাস্তি দেয়া? এই পথ পরিহার করে সকলে যেন মানবতার পথে আসে, শান্তির পথে আসে সে আহ্বানই জানাবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

দল দেখবো না, অপরাধীর বিচার হবেই

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০১৬

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে কোনো দলীয় কোন্দল ছিল না বা দল হিসেবে কেউ মারতে যায়নি। কে কোন দল করে আমি সেটা দেখি না, দেখবো না, যে অপরাধী সে অপরাধী। সেই অপরাধীর বিচার হবেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় সভাপতিত্ব করছিলেন।

কিছু পত্রিকা এবং কিছু লোক এটাকে দলীয় ব্যাপার হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় হিসেবে আমরা তাদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন তারা যখন জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারলো সেই কথা কি ভুলে যাচ্ছে? আমি যদি বলি, এভাবে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা- এটাতো এরাই শিখিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতই শিখিয়েছে। এরাই পথ দেখিয়েছে। নৃশংসতা করে করে মানুষের ভেতরে একটা পশুত্বের জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো দেশই হোক, কোনো দেশে সংঘাত হলে তার জন্য আমরা বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তারা যেন কোনো রকমের উত্তেজনা সৃষ্টি না করে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষগুলো কষ্টে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী খাদিজার ওপর হামলা প্রসঙ্গ এনে বলেন, মাঝে মাঝে কিছু ঘটনা ঘটে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেমন আমরা দেখলাম সিলেটে একটি মেয়েকে কীভাবে কোপানো হলো। আমার অবাক লাগে যখন এই ছবিটা দেখি, মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দেখছে, ভিডিও তুলছে কিন্তু মেয়েটাকে বাঁচাতে কেউ গেল না। কেন এই মানবিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে গেল, কেন কেউ সেখানে গেল না- সেটাই আমার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কাজেই যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শাস্তি হচ্ছে এবং হবে। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে অনুরোধ করবো, তারা যেন তাদের ছেলেমেয়েদের খোঁজ-খবর রাখেন। শিক্ষকরা যেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে সকল খোঁজ-খবর রাখতে হবে।

মসজিদের ইমামদের প্রতি আহ্বান, ইসলাম শান্তির ধর্ম, সন্ত্রাসের ধর্ম না, জঙ্গিবাদের ধর্ম না, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ করা এটা ইসলাম কখনো বলেনি। কিন্তু যারা ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ খুন করছে তারা আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামকেই হেয় করছে, ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। মুসলমানদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আল্লাহ শেষ বিচার করবেন। তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ তো কাউকে শাস্তি দেবার দায়িত্ব দেননি। তাহলে কেন এভাবে মানুষকে খুন করা, শাস্তি দেয়া? এই পথ পরিহার করে সকলে যেন মানবতার পথে আসে, শান্তির পথে আসে সে আহ্বানই জানাবো।