ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গাড়িটি রেখে গেলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • ৩৯০ বার

মঙ্গলবার গভীর রাত। শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের সামনে পরিত্যক্ত পড়ে আছে বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেন্‌জ গাড়ি। কর্তৃপক্ষের নজরে আসা মাত্রই সেটি উদ্ধার করা হয়। ভেতরে দেখা যায় গাড়িটির ‘অবৈধ দখলে’ রাখা মালিক এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজের দখলে থাকা গাড়িটি জমা প্রদান করলাম’। এ ঘটনা রাজধানী কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনের।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এটা একটা অভিনব ঘটনা। গোয়েন্দা অফিসের সামনে এভাবে রাতের অন্ধকারে স্বেচ্ছায় গাড়ি রেখে যাওয়ার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।’

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গাড়ি খুলে এর ভেতর একটি খোলা চিঠি

পাওয়া গেছে। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার দখলে থাকা গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে জমা প্রদান করি’।

চিঠিতে আরো লেখা রয়েছে, ‘আমি এই গাড়িটি জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যে, আমার মতো অন্যরাও যেন অনুরূপভাবে অবৈধ গাড়ি জমা দেন।’ শুল্ক গোয়েন্দাদের চলমান অভিযানকে স্বাগতও জানানো হয়েছে চিঠিতে। চিঠিটি লেখা হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর। চিঠির শেষে লেখা রয়েছে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সচেতন নাগরিক।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, জমা করা গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি দুই দরজার লাল রঙের এসএলকে ২৩০ মডেলের মার্সিডিজ বেন্‌জ। এর চেসিস নং ডব্লিউডিবি-১৭০৪৬৫২এফ৪১৫৬৪২। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ২৩০০ সিসি এবং ২০০২ সালে তৈরি।

ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি কারনেটের আওতায় দেশে আনা হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী বিদেশে ফেরত নেয়ার কথা থাকলেও শর্ত ভঙ্গ করে কারনেট সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে চালানো হয়েছিল। বর্তমানে দেশব্যাপী অবৈধ গাড়ি আটকে অভিযান পরিচালনায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই গাড়ি স্বেচ্ছায় জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক। এর আগে সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একজন অবৈধ গাড়ির ব্যবহারকারী স্বেচ্ছায় একটি লেক্সাস গাড়ি জমা দেন।

এ নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা মোট ৩২টি অবৈধ গাড়ি আটক করেছে বলেও জানান ওই শুল্ক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আটক করা এই গাড়িটির শুল্কসহ মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। -এমজমিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গাড়িটি রেখে গেলাম

আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

মঙ্গলবার গভীর রাত। শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের সামনে পরিত্যক্ত পড়ে আছে বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেন্‌জ গাড়ি। কর্তৃপক্ষের নজরে আসা মাত্রই সেটি উদ্ধার করা হয়। ভেতরে দেখা যায় গাড়িটির ‘অবৈধ দখলে’ রাখা মালিক এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজের দখলে থাকা গাড়িটি জমা প্রদান করলাম’। এ ঘটনা রাজধানী কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনের।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এটা একটা অভিনব ঘটনা। গোয়েন্দা অফিসের সামনে এভাবে রাতের অন্ধকারে স্বেচ্ছায় গাড়ি রেখে যাওয়ার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।’

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গাড়ি খুলে এর ভেতর একটি খোলা চিঠি

পাওয়া গেছে। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার দখলে থাকা গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে জমা প্রদান করি’।

চিঠিতে আরো লেখা রয়েছে, ‘আমি এই গাড়িটি জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যে, আমার মতো অন্যরাও যেন অনুরূপভাবে অবৈধ গাড়ি জমা দেন।’ শুল্ক গোয়েন্দাদের চলমান অভিযানকে স্বাগতও জানানো হয়েছে চিঠিতে। চিঠিটি লেখা হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর। চিঠির শেষে লেখা রয়েছে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সচেতন নাগরিক।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, জমা করা গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি দুই দরজার লাল রঙের এসএলকে ২৩০ মডেলের মার্সিডিজ বেন্‌জ। এর চেসিস নং ডব্লিউডিবি-১৭০৪৬৫২এফ৪১৫৬৪২। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ২৩০০ সিসি এবং ২০০২ সালে তৈরি।

ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি কারনেটের আওতায় দেশে আনা হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী বিদেশে ফেরত নেয়ার কথা থাকলেও শর্ত ভঙ্গ করে কারনেট সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে চালানো হয়েছিল। বর্তমানে দেশব্যাপী অবৈধ গাড়ি আটকে অভিযান পরিচালনায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই গাড়ি স্বেচ্ছায় জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক। এর আগে সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একজন অবৈধ গাড়ির ব্যবহারকারী স্বেচ্ছায় একটি লেক্সাস গাড়ি জমা দেন।

এ নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা মোট ৩২টি অবৈধ গাড়ি আটক করেছে বলেও জানান ওই শুল্ক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আটক করা এই গাড়িটির শুল্কসহ মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। -এমজমিন