ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ছেই: বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
  • ১৭৬ বার

ঈদুল আজহা সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে মসলা পণ্যের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ ও জিরার দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি ও ডিম খুচরা বাজারে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে ভোজ্যতেল। ফলে বাজারে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার ভোগান্তি বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি রসুন, পেঁয়াজের দাম মাত্র ক’দিনের ব্যবধানেই কেজিপ্রতি অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আদার দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ থেকে শুরু করে সব ধরনের মসলা পণ্যের দামই অস্বাভাবিক বেড়েছে। যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু পেঁয়াজ-আদা-রসুন নয়, বাজারে চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মসলার না হয় চাহিদা বেশি; কিন্তু ভরা মৌসুমেও চালের দাম কেন বাড়তি, সে প্রশ্নের উত্তর কী?

সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ম খাটছে না। দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বাজার সিন্ডিকেট। তারা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা পণ্যের কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করে। এছাড়া নানা অজুহাত তুলেও বাড়ানো হয় পণ্যের দাম। এ অবস্থায় বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা ছাড়া ভোক্তাদের কোনো উপায় থাকে না। অতিমুনাফার লোভে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত; কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা বিরল। ফলে কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। আমরা মনে করি, যারা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো কঠিন হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ছেই: বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ কাম্য

আপডেট টাইম : ১০:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ঈদুল আজহা সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে মসলা পণ্যের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ ও জিরার দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি ও ডিম খুচরা বাজারে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে ভোজ্যতেল। ফলে বাজারে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার ভোগান্তি বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি রসুন, পেঁয়াজের দাম মাত্র ক’দিনের ব্যবধানেই কেজিপ্রতি অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আদার দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ থেকে শুরু করে সব ধরনের মসলা পণ্যের দামই অস্বাভাবিক বেড়েছে। যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু পেঁয়াজ-আদা-রসুন নয়, বাজারে চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মসলার না হয় চাহিদা বেশি; কিন্তু ভরা মৌসুমেও চালের দাম কেন বাড়তি, সে প্রশ্নের উত্তর কী?

সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ম খাটছে না। দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বাজার সিন্ডিকেট। তারা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা পণ্যের কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করে। এছাড়া নানা অজুহাত তুলেও বাড়ানো হয় পণ্যের দাম। এ অবস্থায় বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা ছাড়া ভোক্তাদের কোনো উপায় থাকে না। অতিমুনাফার লোভে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত; কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা বিরল। ফলে কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। আমরা মনে করি, যারা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো কঠিন হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।