ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

আমি কারাগারের কঠিন মাটিতে ফুল ফুটিয়ে এসেছি: ডা. সাবরিনা চৌধুরী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • ২৮৫ বার

২০২০ সালের ২৩ জুন। করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। নিম্ন আদালতে সাবরিনার সাজা হলেও উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে জামিন পান তিনি। প্রায় তিন বছর কারাগারে কাটিয়ে গত বছরের ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান সাবরিনা।

সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় ডা. সাবরিনা বলেন, ‘আমি কারাগারে ফুল ফুটিয়ে এসেছি এটুকু বলতে পারি। কারণ কারাগারে আমি মালির কাজ করতাম। ফুল বাগানের দায়িত্বে আমি ছিলাম। ওই সময়ে কারাগারে ফুলের বাগান ছিল না। ফুলের চারাগুলো কর্তৃপক্ষ আমাকে এনে দিয়েছেন কিন্তু মাটি কোপানো, গাছে পানি দেওয়া থেকে সবই করেছি। গাছে পানি দেওয়া মানে কোন পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া নয়, অনেক দূর থেকে পাত্রে করে পানি এনে গাছে দেওয়া হয়। দিনে দু’বেলা করা হয়। খুবই কঠিন মাটি, সেই মাটিতে আমি ফুল ফুটিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘হাজতি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ছিল, কয়েদি হিসেবেও আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। শ্রেণিপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম আবার ডিভিশনের আসামিও ছিলাম। একদম যে নর্মাল ওয়ার্ড যেখানে ৩৫-৪৭ জন আসামি থাকে সেখানেও আমি থেকেছি। সেখানে ২টা কম্বল দেওয়া হতো বিছিয়ে ঘুমানোর জন্য। সবার জন্য মুঠম হাত জায়গা বরাদ্দ ছিল। সবাই আমাকে আদর করে চার আঙুল জায়গা বেশি দিত। তারা বলত বিসিএস ক্যাডার তাকে না হয় ৪ আঙুল জায়গা বেশিই দেই।’

সাবরিনা আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে অনেক বই পড়তাম। সেখানে একটা বড় লাইব্রেরি ছিল। অনেক বইয়ের সংগ্রহ ছিল সেখানে। বই পড়তাম আর প্রথম দিন থেকেই আমি ভাবতাম বই লিখব। আগেও লিখতাম তবে নিভৃতে। পরে ভাবলাম আমাকে বই লিখতেই হবে।’

আসন্ন বই মেলায় তার নতুন বই আসছে জানিয়ে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘বইটা প্রথম সপ্তাহ থেকেই বই মেলাতে পাওয়া যাবে আহমেদ পাবলিশার্স স্টলে। ৫৪১-৫৪৪ এই চারটা নম্বরের স্টলে বইটা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রকমারি ডট কমেও আমার বইটা পাওয়া যাবে। এই বইয়ে নিজের কোনো ঘটনা নেই, এখানে স্থান পেয়েছে নারীবন্দিদের লোমহর্ষক সব ঘটনা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

আমি কারাগারের কঠিন মাটিতে ফুল ফুটিয়ে এসেছি: ডা. সাবরিনা চৌধুরী

আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

২০২০ সালের ২৩ জুন। করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। নিম্ন আদালতে সাবরিনার সাজা হলেও উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে জামিন পান তিনি। প্রায় তিন বছর কারাগারে কাটিয়ে গত বছরের ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান সাবরিনা।

সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় ডা. সাবরিনা বলেন, ‘আমি কারাগারে ফুল ফুটিয়ে এসেছি এটুকু বলতে পারি। কারণ কারাগারে আমি মালির কাজ করতাম। ফুল বাগানের দায়িত্বে আমি ছিলাম। ওই সময়ে কারাগারে ফুলের বাগান ছিল না। ফুলের চারাগুলো কর্তৃপক্ষ আমাকে এনে দিয়েছেন কিন্তু মাটি কোপানো, গাছে পানি দেওয়া থেকে সবই করেছি। গাছে পানি দেওয়া মানে কোন পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া নয়, অনেক দূর থেকে পাত্রে করে পানি এনে গাছে দেওয়া হয়। দিনে দু’বেলা করা হয়। খুবই কঠিন মাটি, সেই মাটিতে আমি ফুল ফুটিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘হাজতি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ছিল, কয়েদি হিসেবেও আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। শ্রেণিপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম আবার ডিভিশনের আসামিও ছিলাম। একদম যে নর্মাল ওয়ার্ড যেখানে ৩৫-৪৭ জন আসামি থাকে সেখানেও আমি থেকেছি। সেখানে ২টা কম্বল দেওয়া হতো বিছিয়ে ঘুমানোর জন্য। সবার জন্য মুঠম হাত জায়গা বরাদ্দ ছিল। সবাই আমাকে আদর করে চার আঙুল জায়গা বেশি দিত। তারা বলত বিসিএস ক্যাডার তাকে না হয় ৪ আঙুল জায়গা বেশিই দেই।’

সাবরিনা আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে অনেক বই পড়তাম। সেখানে একটা বড় লাইব্রেরি ছিল। অনেক বইয়ের সংগ্রহ ছিল সেখানে। বই পড়তাম আর প্রথম দিন থেকেই আমি ভাবতাম বই লিখব। আগেও লিখতাম তবে নিভৃতে। পরে ভাবলাম আমাকে বই লিখতেই হবে।’

আসন্ন বই মেলায় তার নতুন বই আসছে জানিয়ে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘বইটা প্রথম সপ্তাহ থেকেই বই মেলাতে পাওয়া যাবে আহমেদ পাবলিশার্স স্টলে। ৫৪১-৫৪৪ এই চারটা নম্বরের স্টলে বইটা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রকমারি ডট কমেও আমার বইটা পাওয়া যাবে। এই বইয়ে নিজের কোনো ঘটনা নেই, এখানে স্থান পেয়েছে নারীবন্দিদের লোমহর্ষক সব ঘটনা।’