ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

আমি কারাগারের কঠিন মাটিতে ফুল ফুটিয়ে এসেছি: ডা. সাবরিনা চৌধুরী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • ২৯০ বার

২০২০ সালের ২৩ জুন। করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। নিম্ন আদালতে সাবরিনার সাজা হলেও উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে জামিন পান তিনি। প্রায় তিন বছর কারাগারে কাটিয়ে গত বছরের ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান সাবরিনা।

সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় ডা. সাবরিনা বলেন, ‘আমি কারাগারে ফুল ফুটিয়ে এসেছি এটুকু বলতে পারি। কারণ কারাগারে আমি মালির কাজ করতাম। ফুল বাগানের দায়িত্বে আমি ছিলাম। ওই সময়ে কারাগারে ফুলের বাগান ছিল না। ফুলের চারাগুলো কর্তৃপক্ষ আমাকে এনে দিয়েছেন কিন্তু মাটি কোপানো, গাছে পানি দেওয়া থেকে সবই করেছি। গাছে পানি দেওয়া মানে কোন পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া নয়, অনেক দূর থেকে পাত্রে করে পানি এনে গাছে দেওয়া হয়। দিনে দু’বেলা করা হয়। খুবই কঠিন মাটি, সেই মাটিতে আমি ফুল ফুটিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘হাজতি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ছিল, কয়েদি হিসেবেও আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। শ্রেণিপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম আবার ডিভিশনের আসামিও ছিলাম। একদম যে নর্মাল ওয়ার্ড যেখানে ৩৫-৪৭ জন আসামি থাকে সেখানেও আমি থেকেছি। সেখানে ২টা কম্বল দেওয়া হতো বিছিয়ে ঘুমানোর জন্য। সবার জন্য মুঠম হাত জায়গা বরাদ্দ ছিল। সবাই আমাকে আদর করে চার আঙুল জায়গা বেশি দিত। তারা বলত বিসিএস ক্যাডার তাকে না হয় ৪ আঙুল জায়গা বেশিই দেই।’

সাবরিনা আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে অনেক বই পড়তাম। সেখানে একটা বড় লাইব্রেরি ছিল। অনেক বইয়ের সংগ্রহ ছিল সেখানে। বই পড়তাম আর প্রথম দিন থেকেই আমি ভাবতাম বই লিখব। আগেও লিখতাম তবে নিভৃতে। পরে ভাবলাম আমাকে বই লিখতেই হবে।’

আসন্ন বই মেলায় তার নতুন বই আসছে জানিয়ে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘বইটা প্রথম সপ্তাহ থেকেই বই মেলাতে পাওয়া যাবে আহমেদ পাবলিশার্স স্টলে। ৫৪১-৫৪৪ এই চারটা নম্বরের স্টলে বইটা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রকমারি ডট কমেও আমার বইটা পাওয়া যাবে। এই বইয়ে নিজের কোনো ঘটনা নেই, এখানে স্থান পেয়েছে নারীবন্দিদের লোমহর্ষক সব ঘটনা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

আমি কারাগারের কঠিন মাটিতে ফুল ফুটিয়ে এসেছি: ডা. সাবরিনা চৌধুরী

আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

২০২০ সালের ২৩ জুন। করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। নিম্ন আদালতে সাবরিনার সাজা হলেও উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে জামিন পান তিনি। প্রায় তিন বছর কারাগারে কাটিয়ে গত বছরের ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান সাবরিনা।

সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় ডা. সাবরিনা বলেন, ‘আমি কারাগারে ফুল ফুটিয়ে এসেছি এটুকু বলতে পারি। কারণ কারাগারে আমি মালির কাজ করতাম। ফুল বাগানের দায়িত্বে আমি ছিলাম। ওই সময়ে কারাগারে ফুলের বাগান ছিল না। ফুলের চারাগুলো কর্তৃপক্ষ আমাকে এনে দিয়েছেন কিন্তু মাটি কোপানো, গাছে পানি দেওয়া থেকে সবই করেছি। গাছে পানি দেওয়া মানে কোন পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া নয়, অনেক দূর থেকে পাত্রে করে পানি এনে গাছে দেওয়া হয়। দিনে দু’বেলা করা হয়। খুবই কঠিন মাটি, সেই মাটিতে আমি ফুল ফুটিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘হাজতি হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ছিল, কয়েদি হিসেবেও আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। শ্রেণিপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম আবার ডিভিশনের আসামিও ছিলাম। একদম যে নর্মাল ওয়ার্ড যেখানে ৩৫-৪৭ জন আসামি থাকে সেখানেও আমি থেকেছি। সেখানে ২টা কম্বল দেওয়া হতো বিছিয়ে ঘুমানোর জন্য। সবার জন্য মুঠম হাত জায়গা বরাদ্দ ছিল। সবাই আমাকে আদর করে চার আঙুল জায়গা বেশি দিত। তারা বলত বিসিএস ক্যাডার তাকে না হয় ৪ আঙুল জায়গা বেশিই দেই।’

সাবরিনা আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে অনেক বই পড়তাম। সেখানে একটা বড় লাইব্রেরি ছিল। অনেক বইয়ের সংগ্রহ ছিল সেখানে। বই পড়তাম আর প্রথম দিন থেকেই আমি ভাবতাম বই লিখব। আগেও লিখতাম তবে নিভৃতে। পরে ভাবলাম আমাকে বই লিখতেই হবে।’

আসন্ন বই মেলায় তার নতুন বই আসছে জানিয়ে ডা. সাবরিনা বলেন, ‘বইটা প্রথম সপ্তাহ থেকেই বই মেলাতে পাওয়া যাবে আহমেদ পাবলিশার্স স্টলে। ৫৪১-৫৪৪ এই চারটা নম্বরের স্টলে বইটা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রকমারি ডট কমেও আমার বইটা পাওয়া যাবে। এই বইয়ে নিজের কোনো ঘটনা নেই, এখানে স্থান পেয়েছে নারীবন্দিদের লোমহর্ষক সব ঘটনা।’