,

rain-7

সিলেটে ভারী বৃষ্টি, ফের বন্যার অবনতির শঙ্কা!

হাওর বার্তা ডেস্কঃ স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পুরো সিলেট বিভাগ। এরপর গত কয়েকদিন ধরে পানি ধীর গতিতে নামলেও প্লাবিত রয়েছে বেশিরভাগ এলাকা। ফলে অনেকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে দিনাতিপাত করছেন মানুষজন। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার চোখ রাঙাচ্ছে ভারী বৃষ্টি। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিনভর সিলেটে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও রাত ১০টার পর থেকে ভারী বৃষ্টিতে নগরের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে আবারও বন্যার শঙ্কায় আছেন সিলেটবাসী। এদিন রাত ১০টা থেকে ১টা টানা তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে নগরের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হবে। দিনের তুলনায় রাতে বেশি বৃষ্টি হবে। নদ-নদীর পানিও কিছুটা বাড়বে। এ অবস্থায় উজানে ভারী বৃষ্টি হলে বন্যার পানি ফের বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে রাতের বৃষ্টিতে নগরের অনেক এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি জমেছে। ছড়াখালগুলো সুরমার পানির সঙ্গে একাকার হওয়াতে নগরের কিছু এলাকায় আবারও পানি উঠেছে। নগরের তালতলা, উপশহর এলাকার বিভিন্ন ব্লক, তেররতন, যতরপুরসহ নিচু এলাকাগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরের তালতলার এক বাসিন্দা বলেন, ৩/৪ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় রাস্তার পানি শুকিয়েছিল। বন্যায় বাসা-বাড়ি নিমজ্জিত হওয়ায় অনেকে আসবাবপত্র রোদে শুকিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আবারও বৃষ্টিতে বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। তাই ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না।

সিলেট পাউবোর উপ-প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এতে পানি বাড়বে কি না, আগেই বলা যাচ্ছে না। আর উজানে ভারী বৃষ্টি হলে সিলেটে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

গত ১২ মে থেকে সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দেয়। এর আগে প্রথমদফা বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওর ডুবিয়েছে। আর এবার তৃতীয় দফা বন্যায় সবকিছু হারিয়ে অস্তিস্ব সংকটে পড়েছে মানুষজন। এদিকে, গত কয়েক দিনে সুরমার পানি যখন কিছুটা কমে আসছিল, তখন চোখ রাঙাচ্ছে কুশিয়ারা নদী। এ নদীর পানি বেড়ে গিয়ে সিলেটের আরও ৬টি উপজেলা এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এবার প্রায় অর্ধকোটির বেশি মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় বন্যায় চার লাখ ১৬ হাজার ৯৬৬টি পরিবারের ২১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৫ জন মানুষ বন্যাক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরমধ্যে ৩০ হাজার ৯৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর