ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৮৩ বার

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র