ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৯৫ বার

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র