ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

চেরনোবিলে হঠাৎ আবার জীবনের জোয়ার…

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৪৯ বার

সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ৩০ বছর পরে আণবিক চুল্লির চারপাশের এলাকা আজও পরিত্যক্ত, জনশূন্য৷ এই সব এলাকা আজ ইউক্রেন কিংবা বেলারুসের অঙ্গ৷ তেজস্ক্রিয়তার ভয়ে মানুষ উধাও, বাড়িঘর খালি, কিন্তু জীবজন্তুরা ধীরে-ধীরে ফিরতে শুরু করেছে৷

‘মানুষ আর কোনোদিনই এখানে থাকতে পারবে না’

কিন্তু বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তুর দেখা পাওয়া যাচ্ছে, যেমন ছবিতে এই শেয়াল পন্ডিত৷ ছবিঘরের অন্যান্য ছবিগুলোও রয়টার্সের আলোকচিত্রশিল্পী ভাসিলি ফেদোসেঙ্কোর তোলা, যিনি বেলারুসের মানুষ ও মিন্সকের বাসিন্দা৷ রয়টার্সের বিবরণ অনুযায়ী ইউক্রেনের পরিবেশমন্ত্রী হানা ভ্রন্সকা বলেছেন, ‘মানুষ আর কোনোদিনই এখানে থাকতে পারবে না, আগামী ২৪ হাজার বছরেও নয়৷’

স্থানান্তরণ ও পুনর্বাসন

চেরনোবিল দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল তারিখে৷ একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাকালীন প্রিপিয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চার নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে – অথচ রিয়্যাক্টরটি এর মাত্র তিন বছর আগে চালু হয়েছিল৷ বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয়ে ইউরোপ অবধি ছড়িয়ে পড়ে৷ ১৯৮৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক এলাকা থেকে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষকে স্থানান্তরিত ও পুনর্বাসিত করা হয়৷

অজ্ঞাত ফলশ্রুতি

স্থানীয় গাছপালা ও পশুপাখির উপর চেরনোবিল দুর্ঘটনার ফলশ্রুতি সম্পর্কে গবেষকরা একমত নন৷ একদিকে তেজস্ক্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও, অন্যদিকে মানুষের অনুপস্থিতি প্রকৃতির পক্ষে ইতিবাচক৷ প্রকৃতিকে যে রোখা যায় না, বেলারুসের ড্রনকি গ্রামের কাছে একদল বাইসন, অর্থাৎ বন্য মহিষ তার প্রমাণ৷

গাঁ আছে, মানুষ নেই

ইউক্রেন আর বেলারুসের সীমান্তে অবস্থিত প্রিপিয়াট শহরের বাড়িঘর দুর্ঘটনায় প্রায় অক্ষতই থাকে, কিন্তু শহরের ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে কেউ আর আজ এখানে বাস করেন না৷ দুর্ঘটনার স্থল থেকে ৩০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে সব এলাকাকে বহিষ্কারের এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়, যেমন বেলারুসের এই পরিত্যক্ত গ্রামটি, যার নাম পোগোনোয়৷

শিকার সকলেই

বেলারুসের পরিত্যক্ত ওরেভিচি গ্রামে একটি নেকড়ে ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখেছে৷ দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনাপ্রাপ্ত আণবিক চুল্লির কাছাকাছি এখনও নানা ধরনের গাছপালা, ফুলফল, জীবজন্তু রয়েছে; কিন্তু তাদের মধ্যে মৃত্যুহার সাধারণের চেয়ে বেশি ও তাদের নানা ধরনের টিউমার বা অন্যান্য রোগ হয়ে থাকে৷ তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব দৃশ্যত সব প্রজাতির উপর সমান নয়৷

‘বহু শতাব্দী ধরে বিপদ থাকবে’

জীববিজ্ঞানী টিমোথি মুসো বহু বছর ধরে চেরনোবিল ও ফুকুশিমা থেকে তেজস্ক্রিয়তার ফলে পরিবর্তিত পোকামাকড়, পাখি ও ইঁদুর সংগ্রহ করেছেন৷ মুসো ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্বভাবতই উচ্চ পারমাণবিক দূষণের এলাকাগুলিতে পরিবর্তনশীলতার মাত্রা বেশি৷ বহু এলাকা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিপজ্জনক থাকবে – হয়ত হাজার বছর ধরে৷’ ছবিতে ড্রনকি গ্রামের কাছে মুজ হরিণ৷

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

বাবচিন গ্রামের কাছে কাঠঠোকরা৷ এই ধরনের জীবজন্তুদের পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, খাদ্যের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে থাকে৷ চেরনোবিলের চারপাশে যে সব জীবজন্তুকে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে টিউমার, চোখের ছানি, ছোট সাইজের ব্রেন, এ সবই পরিলক্ষিত হয়েছে৷

অনিশ্চয়তা কিছু বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, চেরনোবিলের কাছাকাছি আজকাল এমন কিছু প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়, যা আগে এখানে ছিল না৷ তবে এর কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই বলে অন্যান্য গবেষকদের এ ব্যাপারে দ্বিধা আছে৷ -ডচভেলে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চেরনোবিলে হঠাৎ আবার জীবনের জোয়ার…

আপডেট টাইম : ১০:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৬

সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ৩০ বছর পরে আণবিক চুল্লির চারপাশের এলাকা আজও পরিত্যক্ত, জনশূন্য৷ এই সব এলাকা আজ ইউক্রেন কিংবা বেলারুসের অঙ্গ৷ তেজস্ক্রিয়তার ভয়ে মানুষ উধাও, বাড়িঘর খালি, কিন্তু জীবজন্তুরা ধীরে-ধীরে ফিরতে শুরু করেছে৷

‘মানুষ আর কোনোদিনই এখানে থাকতে পারবে না’

কিন্তু বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তুর দেখা পাওয়া যাচ্ছে, যেমন ছবিতে এই শেয়াল পন্ডিত৷ ছবিঘরের অন্যান্য ছবিগুলোও রয়টার্সের আলোকচিত্রশিল্পী ভাসিলি ফেদোসেঙ্কোর তোলা, যিনি বেলারুসের মানুষ ও মিন্সকের বাসিন্দা৷ রয়টার্সের বিবরণ অনুযায়ী ইউক্রেনের পরিবেশমন্ত্রী হানা ভ্রন্সকা বলেছেন, ‘মানুষ আর কোনোদিনই এখানে থাকতে পারবে না, আগামী ২৪ হাজার বছরেও নয়৷’

স্থানান্তরণ ও পুনর্বাসন

চেরনোবিল দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল তারিখে৷ একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাকালীন প্রিপিয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চার নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে – অথচ রিয়্যাক্টরটি এর মাত্র তিন বছর আগে চালু হয়েছিল৷ বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয়ে ইউরোপ অবধি ছড়িয়ে পড়ে৷ ১৯৮৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক এলাকা থেকে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষকে স্থানান্তরিত ও পুনর্বাসিত করা হয়৷

অজ্ঞাত ফলশ্রুতি

স্থানীয় গাছপালা ও পশুপাখির উপর চেরনোবিল দুর্ঘটনার ফলশ্রুতি সম্পর্কে গবেষকরা একমত নন৷ একদিকে তেজস্ক্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও, অন্যদিকে মানুষের অনুপস্থিতি প্রকৃতির পক্ষে ইতিবাচক৷ প্রকৃতিকে যে রোখা যায় না, বেলারুসের ড্রনকি গ্রামের কাছে একদল বাইসন, অর্থাৎ বন্য মহিষ তার প্রমাণ৷

গাঁ আছে, মানুষ নেই

ইউক্রেন আর বেলারুসের সীমান্তে অবস্থিত প্রিপিয়াট শহরের বাড়িঘর দুর্ঘটনায় প্রায় অক্ষতই থাকে, কিন্তু শহরের ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে কেউ আর আজ এখানে বাস করেন না৷ দুর্ঘটনার স্থল থেকে ৩০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে সব এলাকাকে বহিষ্কারের এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়, যেমন বেলারুসের এই পরিত্যক্ত গ্রামটি, যার নাম পোগোনোয়৷

শিকার সকলেই

বেলারুসের পরিত্যক্ত ওরেভিচি গ্রামে একটি নেকড়ে ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখেছে৷ দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনাপ্রাপ্ত আণবিক চুল্লির কাছাকাছি এখনও নানা ধরনের গাছপালা, ফুলফল, জীবজন্তু রয়েছে; কিন্তু তাদের মধ্যে মৃত্যুহার সাধারণের চেয়ে বেশি ও তাদের নানা ধরনের টিউমার বা অন্যান্য রোগ হয়ে থাকে৷ তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব দৃশ্যত সব প্রজাতির উপর সমান নয়৷

‘বহু শতাব্দী ধরে বিপদ থাকবে’

জীববিজ্ঞানী টিমোথি মুসো বহু বছর ধরে চেরনোবিল ও ফুকুশিমা থেকে তেজস্ক্রিয়তার ফলে পরিবর্তিত পোকামাকড়, পাখি ও ইঁদুর সংগ্রহ করেছেন৷ মুসো ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্বভাবতই উচ্চ পারমাণবিক দূষণের এলাকাগুলিতে পরিবর্তনশীলতার মাত্রা বেশি৷ বহু এলাকা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিপজ্জনক থাকবে – হয়ত হাজার বছর ধরে৷’ ছবিতে ড্রনকি গ্রামের কাছে মুজ হরিণ৷

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

বাবচিন গ্রামের কাছে কাঠঠোকরা৷ এই ধরনের জীবজন্তুদের পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, খাদ্যের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে থাকে৷ চেরনোবিলের চারপাশে যে সব জীবজন্তুকে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে টিউমার, চোখের ছানি, ছোট সাইজের ব্রেন, এ সবই পরিলক্ষিত হয়েছে৷

অনিশ্চয়তা কিছু বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, চেরনোবিলের কাছাকাছি আজকাল এমন কিছু প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়, যা আগে এখানে ছিল না৷ তবে এর কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই বলে অন্যান্য গবেষকদের এ ব্যাপারে দ্বিধা আছে৷ -ডচভেলে