ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশে দু’কোটি মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫০৪ বার

বাংলাদেশের প্রায় দু’কোটি মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে৷ আর্সেনিকজনিত রোগে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৪৩ হাজার মানুষ৷ দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় আর্সেনিকজনিত রোগে ৬৫ হাজার মানুষ ভুগছে – এ কথা বললেও, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বুধবার ‘নেপোটিজম অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেইলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশ’স রুরাল পুওর’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিক দূষণের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেয়৷ তারা বলে, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো প্রায় দু’কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে৷’ অর্থাৎ দেশে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার ২০ বছর পরও এই সমস্যার প্রতিকারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷

এইচআরডাব্লিউ জানায়, বাংলাদেশে আর্সেনিক জনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ৪৩ হাজার লোক মারা যায়৷ এইচআরডাব্লিউ-এর দাবি, আর্সেনিক দূষণের শিকার অধিকাংশ মানুষের ত্বকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না৷ বরং আর্সেনিকের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ তাই অনেকেই জানেনই না যে তারা আর্সেনিক সমস্যায় আক্রান্ত৷

প্রতিবেদনে গবেষক রিচার্ড পিয়ার্সহাউজ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ গরিব মানুষের খাওয়ার পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য মৌলিক ও জরুরি পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে না৷ অথচ সরকারের আচরণ এমন, যেন সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে গেছে৷”

প্রতিবেদন তৈরির জন্য এইচআরডব্লিউ ১৩৪ জন লোকের সাক্ষাৎকার নেয়৷ এঁদের মধ্যে পাঁচটি গ্রামের সরকারি নলকূপের রক্ষণাবেক্ষণকারী, সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরাও রয়েছেন৷ ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে স্থাপন করা এক লাখ ২৫ হাজার পানির উৎসের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে৷

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আর্সেনিক দূষণের শিকার এলাকাগুলোয় প্রায় ১৩ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল৷ সেগুলো সঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ বা আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গভীর নলকূপ দেওয়া হয়েছে৷ এতে দেখা যাচ্ছে, এই নলকূপ পাওয়ার ক্ষেত্রে বা বসানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে৷ আর সাংসদ বা উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখেন৷

এ নিয়ে আইসিডিডিআরবি-র আর্সেনিক বিষয়ক গবেষক ড. সমর কুমার হোর ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘আর্সেনিক পরিস্থিতি নিয়ে এ রকম ঢালাও মন্তব্য করা সম্ভব নয়৷ তারা হয়ত এমন একটি এলাকায় কাজ করছেন, যেখানকার পরিস্থিতি খারাপ৷ তবে সারাদেশের পরিস্থিতির আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে৷ মানুষ সচেতন হচ্ছে৷ মুশকিল হলো, কেউ আর্সেনিক আক্রান্ত হলে অনেক পরেও তার প্রতিক্রিয়া হতে পারে৷ তাই এখনকার জরিপ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক সময় বোঝা সম্ভব নয়৷”

তিনি বলেন, ‘‘আর্সেনিক আক্রান্তদের লক্ষণ সব সময় চামড়ায় নাও দেখা দিতে পারে৷ আবার লক্ষণ আগেভাগেই যে দেখা দেবে, তাও নিশ্চিত নয়৷ তাই যাদের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি, এমন মানুষও আক্রান্ত থাকতে পারেন, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়৷”

সমর কুমার হোর আরো বলেন, ‘‘আর্সেনিক এলকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি নিশ্চিত করা সবার আগে প্রয়োজন৷ তবে সেটা নানা কারণে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি৷”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

বাংলাদেশে দু’কোটি মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৬

বাংলাদেশের প্রায় দু’কোটি মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে৷ আর্সেনিকজনিত রোগে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৪৩ হাজার মানুষ৷ দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় আর্সেনিকজনিত রোগে ৬৫ হাজার মানুষ ভুগছে – এ কথা বললেও, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বুধবার ‘নেপোটিজম অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেইলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশ’স রুরাল পুওর’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিক দূষণের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেয়৷ তারা বলে, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো প্রায় দু’কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে৷’ অর্থাৎ দেশে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার ২০ বছর পরও এই সমস্যার প্রতিকারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷

এইচআরডাব্লিউ জানায়, বাংলাদেশে আর্সেনিক জনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ৪৩ হাজার লোক মারা যায়৷ এইচআরডাব্লিউ-এর দাবি, আর্সেনিক দূষণের শিকার অধিকাংশ মানুষের ত্বকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না৷ বরং আর্সেনিকের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ তাই অনেকেই জানেনই না যে তারা আর্সেনিক সমস্যায় আক্রান্ত৷

প্রতিবেদনে গবেষক রিচার্ড পিয়ার্সহাউজ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ গরিব মানুষের খাওয়ার পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য মৌলিক ও জরুরি পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে না৷ অথচ সরকারের আচরণ এমন, যেন সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে গেছে৷”

প্রতিবেদন তৈরির জন্য এইচআরডব্লিউ ১৩৪ জন লোকের সাক্ষাৎকার নেয়৷ এঁদের মধ্যে পাঁচটি গ্রামের সরকারি নলকূপের রক্ষণাবেক্ষণকারী, সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরাও রয়েছেন৷ ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে স্থাপন করা এক লাখ ২৫ হাজার পানির উৎসের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে৷

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আর্সেনিক দূষণের শিকার এলাকাগুলোয় প্রায় ১৩ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল৷ সেগুলো সঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ বা আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গভীর নলকূপ দেওয়া হয়েছে৷ এতে দেখা যাচ্ছে, এই নলকূপ পাওয়ার ক্ষেত্রে বা বসানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে৷ আর সাংসদ বা উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখেন৷

এ নিয়ে আইসিডিডিআরবি-র আর্সেনিক বিষয়ক গবেষক ড. সমর কুমার হোর ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘আর্সেনিক পরিস্থিতি নিয়ে এ রকম ঢালাও মন্তব্য করা সম্ভব নয়৷ তারা হয়ত এমন একটি এলাকায় কাজ করছেন, যেখানকার পরিস্থিতি খারাপ৷ তবে সারাদেশের পরিস্থিতির আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে৷ মানুষ সচেতন হচ্ছে৷ মুশকিল হলো, কেউ আর্সেনিক আক্রান্ত হলে অনেক পরেও তার প্রতিক্রিয়া হতে পারে৷ তাই এখনকার জরিপ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক সময় বোঝা সম্ভব নয়৷”

তিনি বলেন, ‘‘আর্সেনিক আক্রান্তদের লক্ষণ সব সময় চামড়ায় নাও দেখা দিতে পারে৷ আবার লক্ষণ আগেভাগেই যে দেখা দেবে, তাও নিশ্চিত নয়৷ তাই যাদের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি, এমন মানুষও আক্রান্ত থাকতে পারেন, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়৷”

সমর কুমার হোর আরো বলেন, ‘‘আর্সেনিক এলকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি নিশ্চিত করা সবার আগে প্রয়োজন৷ তবে সেটা নানা কারণে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি৷”